দৌছড়িতে চাল না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরেছে উপকারভোগীরা

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দৌছড়িতে ভিজিডির চাল বিতরণ না হওয়ায় গত বুধবার ( ২০অক্টোবর) শত শত নারী-পুরুষ খালি হাতে ফিরে গেছে। তবে সাধারণ মানুষের ভিজিডির চাল বিতরণ নিয়ে একটি পক্ষ নোংরা রাজনীতি করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন দৌছড়ি ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান।

জানা গেছে, দৌছড়ি ইউনিয়নে আগামী ১১ নভেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমানে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে থাকা এই জনপ্রতিনিধি ক্ষমতাসীন দল থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা প্রতীকের মোহাম্মদ ইমরান। এ কারণে উভয় প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ভিজিডি বিতরণ না হওয়ার বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের অফিস সহকারী মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, ভিজিডি কর্মসূচির আওতায় দৌছড়ি ইউনিয়নে ৪১০টি কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়। যেহেতু ওই ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হবে তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার ম্যাজিস্ট্র্যাট পাঠিয়ে আইন মেনে চাল বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

জানা গেছে, লোমাস এগ্রো নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খাদ্য গুদাম থেকে চাল উত্তোলন ও পুষ্টি মিশ্রণ করে দৌছড়ি ইউনিয়ন পরিষদে ৪১০ বস্তা চাল মজুদ করেছে। বুধবার এই চাল বিতরণের দিন ধার্য করা হয়েছিল। কিন্তু উপকারভোগী শত শত নারী-পুরুষ এলেও তাদের চাল বিতরণ করা হয়নি।

এ বিষয়ে দোছড়ি ইউনিয়ন পরিষদে সচিবের দায়িত্বে থাকা ছৈয়দ আলম জানান, বুধবার সরকারি ছুটি ছিল, ছুটির কারণে ট্যাগ অফিসার না আসায় চাল বিতরণ করা হয়নি।

উপকারভোগী লেদুরমুখ এলাকার জান্নাত আরা বেগম, পালংখাই এলাকার সাবেকুন্নাহার সহ অসংখ্য নারী-পুরুষ হতাশা প্রকাশ করে বলেন, চাল বিতরণের দিন ধার্য করার পর দূর-দূরান্ত থেকে উপকারভোগীরা এসেছেন। চাল না পেয়ে অসহায় এসব মানুষ হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। চাল মজুদ করে রাখায় নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানায় উপকারভোগীরা।

এ প্রসঙ্গে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সালমা ফেরদৌস জানান, যেহেতু নির্বাচনকালীন সময়, তাই সচিব-ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে ভিজিডির চাল বিতরণ করা হবে। নতুন করে দিন ধার্য করে চাল বিতরণের জন্য সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।