নদীতে বিলীন নাইক্ষ্যংছড়ি-দৌছড়ি সড়ক: বাড়ছে জনদুর্ভোগ

নদীতে বিলীন বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি-দৌছড়ি সড়ক
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদর থেকে রামুর কচ্ছপিয়া হয়ে দোছড়ি ইউনিয়নে যাওয়ার জন্য নির্মিত ১৮ কিলোমিটার সীমান্ত সড়কের-নারিকেল বাগান অংশে ৩শ ফুটের মতো পিচঢালায় সড়ক সম্প্রতি ভারীবর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে দোছড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে, ফলে দিনে দিনে বাড়ছে জনদুর্ভোগ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়ন একটি অথনৈতিক এলাকা। সেখানে সীমান্তরক্ষায় ৩১ বিজিবির আওতাধিন লেম্বুছড়ি সীমান্ত ফাঁড়ি ও সাত-আটটি বর্ডার অবজারভেশন পোষ্ট (বিওপি) রয়েছে। এছাড়াও লামা বনবিভাগের বিট কার্যালয়সহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে। ফলে ওই সীমান্ত সড়কটি অত্যান্ত জনগুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় রামু ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার অন্তত ৩০ হাজার মানুষ প্রতিনিয়ত যাতায়াত করে থাকেন।
সরেজমিনে ভাঙ্গন স্থলে গিয়ে দেখা যায়, দোছড়ি নদীর ভাঙনের তীব্রতায় পাকা সড়ক ভেঙে বিলীন হচ্ছে মানুষের বসতবাড়ি। সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তি পোহাচ্ছে বিজিবি সদস্য, শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণিপেশার লোকজন। অন্য কোন বিকল্প সড়ক না থাকায় গাছ আর বাঁশ ব্যবহারে তৈরী করা সাঁকো দিয়ে চলাচল ও যাতায়ত করছে মানুষ। সড়ক দুভাগ হয়ে এপার-ওপারে তৈরী হয়েছে অস্থায়ী স্টেশন। অন্যদিকে নদীর পানি বেড়ে গেলেই কচ্ছপিয়ার নারিকেল বাগান, শুকমনিয়া, ছোট জামছড়ি, বালুবাসাসহ একাধিক গ্রামের হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কচ্ছপিয়া নাগরিক সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম টিপু বলেন, ‘যখন ভাঙন দেখা দিয়েছিল, তখন রোধকল্পে ব্যবস্থা নিলে হয়তো এভাবে বিলীন হতো সড়কটি। তিনি আরো বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভাঙন অংশের একশ গজ পশ্চিমে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন দোছড়ি গার্ড়ার সেতুটি ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন সিকদার সোহেল বলেন, ‘ভাঙন অংশে সিসি ব্লক স্থাপন এবং জিও ব্যাগ ব্যবহার করে সড়কটি রক্ষা করা সম্ভব। কারণ সহসা এ উদ্যোগ না নিলে নারিকেল বাগান ষ্টেশনের অর্ধশতাধিক দোকানপাট নদীগর্ভে বিলীন হবে। পাশাপাশি বছরের পর বছর বন্ধ থাকবে যানবাহন চলাচল।
নাইক্ষ্যংছড়ি ৩১ বিজিবির অধিনায়ক লে.কর্নেল মো.আনোয়ারুল আযীম বলেন, ‘নাইক্ষ্যংছড়ি-কচ্ছপিয়া-দোছড়ি সড়কের নারিকেল বাগান অংশ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায়-লেম্বুছড়ি সীমান্ত ফাঁড়ি ও বিওপিগুলোতে মালামাল আনা নেওয়ায় চরমভাবে ব্যাঘাত হচ্ছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে তাগাদা দেওয়া হলেও এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
নাইক্ষ্যংছড়ির দোছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো.হাবিবুল্লাহ বলেন, ‘ভাঙন অংশটি রামুতে পড়েছে, এই জন্য আমরা বরাদ্দ দিতে পারছি না কিন্তু কষ্টভোগ করতে হচ্ছে।
রামু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রিয়াজ উল আলম বলেন, ‘জনগণের দুর্ভোগ লাগবে-তিনি কয়েকবার ভাঙনস্থল পরিদর্শন করেছেন, সড়কটি সচল করতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগকে (এলজিইডি) তাগাদা দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকেও প্রকল্প তৈরী করা হচ্ছে।’
এলজিইডির রামু উপজেলা কার্যালয়ের প্রকৌশলি জাকির হাসান বলেন, নারকেল বাগান এলাকায় সড়কের ভাঙন সংস্কারে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে, বরাদ্দ এলেই কাজ শুরু হবে।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।