নাইক্ষংছড়িতে পাহাড় ধসে নিহতদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত

নাইক্ষংছড়িতে পাহাড় ধসে নিহতদের উদ্ধারে অভিযান। ছবি-শামীম ইকবাল চৌধুরী
বান্দরবানের নাইক্ষংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের মনজয় পাড়ায় পাহাড় কাটতে গিয়ে মাটি চাপায় নিহত হয়েছে ৪, আহত হয়েছে ১ জন। নিহতরা হলেন- সোনা মেহের,মো:আবু, নুরুল হাকিম ও জসিম উদ্দিন। তাদের সবার বয়স ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুর সাড়ে বারটার দিকে পাহাড় ধসের এই ঘটনা ঘটে। নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের মনজয় পাড়ায় পাহাড় কাটার সময় পাহাড় ধসে পড়লে এই চার শ্রমিক নিহত ও একজন আহত হবার ঘটনা ঘটে।
নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এ কে এম জাহাঙ্গীর আজিজ পাহাড়বার্তাকে বলেন, যারা নিহত হয়েছে তারা সবাই শ্রমিক, আহত একজনকে চিকিৎসার জন্য কক্সবাজারে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, স্থানীয় রূপায়ন বড়ুয়ার জায়গায় পাহাড়ের পাশে ড্রেন নির্মাণের জন্য পাহাড়ের কিছু অংশ কাটার সময় হঠাৎ করে পাহাড় ধসে পড়ে পাঁচ শ্রমিক মাটি চাপা পড়ে। তাদের মধ্যে চার জনের লাশ উদ্ধার করে এবং আহত অন্যজনকে উদ্ধার করে কক্সবাজার হাসপাতালে পাঠানো হয়।
গতবছরের ১৩ই জুন বান্দরবান সদরের কালাঘাটায় বসত বাড়ির উপর পাহাড় ধসে মারা যায় ৭জন। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে ২৩ জুলাই বান্দরবান – রুমা সড়কের দলিয়ান পাড়ায় রাস্তার উপর পাহাড় ধসে পড়ে নিখোঁজ হয় ৫জন পথচারী। এছাড়া ও পাহাড় ধসে জেলার থানচি ও নাইক্ষংছড়ি উপজেলায় ২জনসহ সর্বমোট ১৭সালেই ১৩ জন মারা যায়।
এদিকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম সরোয়ার কামাল পাহাড়বার্তাকে বলেন, আমরা নিহত ও আহতদের পরিবারকে সহযোগিতা করবো।
পাহাড়ের ভূমি অন্যান্য সমতল ভূমির চেয়ে অনেকটা সস্তা, যার কারনে অতিদরিদ্ররা কমমূল্যে পাহাড় কিনে মাটি কেটে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে তৈরি করছে বসত বাড়ি। তবে সরকারীভাবে তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার কোন উদ্যোগ না থাকায় দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ বসতবাড়ি নির্মাণ বেড়েই চলছে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মো: মুফিদুল আলম পাহাড়বার্তাকে বলেন, উদ্ধার অভিযান শেষ হলে, এই ঘটনার একটি তদন্ত্র কমিটি গঠন করা হবে।
সরকারি তথ্য মতে,বান্দরবানসহ তিন পার্বত্য জেলায় পাহাড় ধসে ২০১৭সালে ১৬৮জনের প্রাণহানি ঘটে আর আহত হয় ২২৭ জন। পাহাড় ধসে ১৭সালে ৩ হাজার ৭৫টি বাড়ি সম্পূর্ণ ৩৬ হাজার ৬৩৭টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।