নাইক্ষ্যংছড়িতে কনকনে শীত

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে জেঁকে বসেছে শীত। প্রচণ্ড শীতে কাঁপছে এলাকার মানুষ। বিকেল থেকেই কুয়াশায় মুখ ঢেকে যায় পাহাড়ের আঁকাবাঁকা মাঠঘাট, মেঠোপথ। রাতভর টুপটাপ শব্দে ঝরছে কুয়াশা। কুয়াশা কেটে দেরিতে উঁকি দিচ্ছে সকালের সূর্য। কথিত আছে অতি গাছপালায় নাকি শীত থাকে বেশি। তাই হয়তো গ্রামে শীত অনুভূত হয় বেশি।

গত শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) নাইক্ষ্যংছড়ি ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। গুগল সার্চ দিয়ে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

৩-৪ জানুয়ারি (শুক্র-শনিবার) ২দিন সকাল ১০টায় সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, নাইক্ষ্যংছড়িতে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র তথ্য নিশ্চিত করলেও এই দুই দিন সকাল ১০টার পরও বেশ কিছু এলাকায় সূর্যের মুখ দেখা যায়নি।

কেউ শরীর ফিটনেস আর ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করার জন্য ভোর সকালে নামাজ আদায়ের পর বৃদ্ধা ও যুবকেরা বিভিন্ন সড়কে গ্রুপ বেঁধে হাঁটা হাঁটি আর দৌড়াতে দেখা যায়।

NewsDetails_03

এসময় ভোরে উঠি গ্রুপের সম্বনয়ক আজিজ মাওলা জানান, শরীর ফিটনেস আর ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য প্রতিদিন ভোর সকালে ঘন্টাখানিক শরীর চর্চা করলে শরীর এবং মন উৎফুল্ল থাকে সারাক্ষণ।

এদিকে, কনকনে শীতে কাঁপছে মানুষ। তবে পেটের তাড়নায় চরম শীতেও বসে নেই কৃষকরা। কষ্টার্জিত সোনালি ধান কেটে ঘরে তোলার প্রক্রিয়াও প্রায় শেষের দিকে। এ ছাড়া গত বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠে এ বছর বাম্পান ফলন হয়েছে।

অন্যদিকে তীব্র শীতে নাইক্ষ্যংছড়ি বাজার, চাকঢাল বাজার, তুমব্রু বাজার, বেতবুনিয়া বাজার, বাইশারী বাজার, সদরের চাক সম্প্রদায়ের ভ্রাম্যমাণ বাজারসহ একাধিক স্থানে বিক্রি হচ্ছে বাহারি রকমের শীতের পিঠা, পাহাড়ের জুমের শাকসবজি। বেশ আগ্রহভরে বিভিন্ন ধরনের ভর্তা দিয়ে পিঠা খাবার স্বাদ নিচ্ছেন অনেকে। এছাড়াও শীত থেকে বাঁচতে শরীরে গরম কাপড় জড়াতে কাপড়ের দোকানগুলোতে ভিড় বাড়ছে। শীতের তীব্রতায় হতদরিদ্র ও অসহায় শীতার্ত মানুষগুলো কষ্ট পাচ্ছেন।

নাইক্ষ্যংছড়ি ১১ বিজিবির অধিনস্থ এলাকাগুলোতে শীত বস্ত্র অসাহায় শীতার্থের মাঝে বিতরণ করা হলেও সরকারি-বেসরকারিভাবে শীতবস্ত্র বিতরণ এখনো শুরু হয়নি।

আরও পড়ুন