নাইক্ষ্যংছড়ির যে হেডম্যানের অপকর্মের শেষ নেই
অত্যাচারে অতিষ্ঠ মানুষ
এক ডাকাতের আশ্রয়ে থাকা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারি ইউনিয়নের ২৮০ নং আলীক্ষ্যং মৌজার হেডম্যান মংথোয়াইলা মার্মা’র বিরুদ্ধে জায়গা দখল, ভূয়া রিপোর্ট, চাঁদাবাজি, হত্যার হুমকিসহ একাধিক অভিযোগ উঠেছে। তার অত্যাচারের অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে উক্ত মৌজা ছাড়াও পাশাপাশি মৌজার বাসিন্দারা।
জানা যায়, ২০১৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি মৌজার হেডম্যান হিসাবে মংথোয়াইলা নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে তার বিরুদ্ধে নিজ মৌজার বাসিন্দা, ২৮২ নং কামিরছড়া মৌজা ও ২৮১ নং কৈয়ারঝিরি মৌজার বাসিন্দারা অন্যায়, অত্যাচার, মোটা অঙ্কের ঘুষ আদান-প্রদান ও জায়গা দখল, ডাকাতিতে ইন্দনসহ বিভিন্ন অভিযোগ করছে। গ্রামবাসীরা তার অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসনের বিভিন্ন স্থানে দারস্থ হলেও কোন প্রতিকার পাননি। যারা এসব নিয়ে তার বিরুদ্ধে কথা বলেছে, তাদের দেখানো হতো, খুন, গুম ও অপহরণের ভয়।
আলীক্ষ্যং মৌজার স্থানীয় তামাক চাষী আরফান পাহাড়বার্তা’কে জানান, মংথোয়াইলা মার্মার মুহুরি আব্দুর রশিদ গত বছর আমাদের প্রত্যেক তামাক চুল্লী থেকে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছে।
আরো জানা গেছে, তিনি ২৭৮ নং বাইশারী মৌজার স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার পরও তিনি আলীক্ষ্যং মৌজার হেডম্যান। ২০১৪ সালে হেডম্যান নিয়োগ পাওয়ার পরপরই তিনি নিজের ভোটার পরিচয় পরিবর্তন করে আলীক্ষ্যং মৌজার বাসিন্দা হিসাবে নিজেকে দেখালেও বর্তমানে কক্সবাজার জেলার ঈদগড় ইউনিয়নে বৈদ্যপাড়াতে স্থায়ী ভাবে বসবাস করেন। হেডম্যান নিয়োগ পাওয়ার পর তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করে এবং বাইশারী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কক্সবাজারের রামু ও নাইক্ষ্যংছড়ির শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহীনের সাথে সম্পর্কের কারনে তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়না। মংথোয়াইলা মার্মা’র মুহরি আব্দুর রশিদ ও জয়নাল আবেদীনকে দিয়ে তিনি নানা অপকর্ম সংগঠিত করে আসছেন। জয়নাল আবেদীন স্থানীয় ডাকাত শাহীনের আত্মীয় বলে জানা যায়।
১১,২১৯ একর জায়গা জুড়ে আলীক্ষ্যং মৌজার এলাকা, এরমধ্যে ৭০০ একর জায়গা বন বিভাগের। রাবারের জন্য বরাদ্দকৃত জায়গা ৮১ টি প্লটের মধ্যে ৫ টি বাতিল ও ৩২ টি মেয়াদ উত্তীর্ণ। তবে অধিকাংশ জায়গা বিভিন্ন কোম্পানি ও প্রভাবশালীদের সাথে যোগসাজশে অবৈধভাবে রাবার প্লট তৈরি করেছেন হেডম্যান মংথোয়াইলা, ফলে স্থানীয় পাহাড়ীরা চাষাবাদ করতে পারছেনা।

কামিয়াছড়া মৌজার মাছিবর পাড়ার স্থায়ীয় বাসিন্দা চাইসুইচিং মার্মা পাহাড়বার্তা’কে বলেন, যুগ যুগ ধরে এখানে চাষাবাদ করে আসছি কিন্তু কয়েক বছর ধরে হেডম্যানের ক্যাডার জয়নাল ও তার ভাই হেলাল আমাদের জায়গাগুলো দখল করে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এর আগেও তাদের যোগসাজশে কয়েক দফায় ডাকাতি হওয়ার পর এই গ্রাম থেকে সবাই পালিয়ে গেছে।
তিনি আরো বলেন, কিছুদিন আগে আমার বড় ছেলে উখ্যা মার্মাকে হেডম্যান ফোনে প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছে। ডাকাতি ও প্রাণনাশের হুমকির কারনে ১৩ মাস বোনের বাড়িতে আমরা আশ্রয় নিয়েছিলাম।
স্থানীয়রা আরো জানায়, অভিনব কৌশলে স্থানীয়দের জায়গা দখল করছে হেডম্যান, তিনি আলীক্ষ্যং মৌজার সাবেক হেডম্যান চহ্লামং মার্মার সিল স্বাক্ষর ব্যবহার করে অনেকগুলো ভুয়া রিপোর্ট দিয়েছেন। গত বছরে ১০ অক্টোবর সাবেক হেডম্যান চহ্লামং মার্মা’র জাল সিল স্বাক্ষরসহ ধরা পড়ে হেডম্যানের মুহুরি আব্দুর রশিদ ও জয়নাল আবেদীন।
বাইশারী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও বাজার কমিটির সভাপতি আব্দুল করিম পাহাড়বার্তা’কে বলেন, গত বছর মংথোয়াইলা হেডম্যানের মুহুরিকে জাল সিল স্বাক্ষরসহ হাতেনাতে আটক করার পর ৪টি হেডম্যান রিপোর্ট ও সাবেক হেডম্যানের সিল স্বাক্ষরগুলো আগুন পুড়িয়ে দিয়ে মুছলেখা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এই বিষয়ে ২৮০ নং আলীক্ষ্যং মৌজার হেডম্যান মংথোয়াইলা মার্মা পাহাড়বার্তা’কে বলেন, আমি বান্দরবানে রাজার বাড়িতে পড়াশোনা করেছি, আমাকে হেডম্যান বানানো হয়েছে। তবে আমি কারো জায়গা দখল ও ফোনে হুমকি দেয়নি, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে ।
এই বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী পাহাড়বার্তা’কে বলেন, মংথোয়াইলা হেডম্যান এর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



