নাইক্ষ্যংছড়িতে আওয়ামী লীগের ২ বিদ্রোহী প্রার্থী বহিষ্কার

ইউপি নির্বাচন

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় ২য় ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় বাইশারী এবং দৌছড়ির ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

আজ ২৮ নভেম্বর বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ক্য শৈ হ্লা এবং যুগ্ম সম্পাদক-১ লক্ষীপদ দাস এর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হলেও বিষয়টি বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রকাশ করে উপজেলা আওয়ামী লীগ।বহিষ্কৃত নেতারা হলেন, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়ন আওয়ামিলীগ সভাপতি মো, জাহাঙ্গীর আলম বাহাদুর, দৌছড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আলহাজ্ব মুহাম্মদ হাবীব উল্লাহ।

জানা যায়, ২য় দফায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের অংশ হিসেবে দুই ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদে ৪জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে দৌছড়ি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো, ইমরান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিদ্রোহী) আলহাজ্ব মুহাম্মদ হাবীব উল্লাহ, বাইশারী ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী মো, আলম কোম্পানী তার প্রতিদ্বন্ধি স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) হিসেবে মো, জাহাঙ্গীর আলম বাহাদুর রয়েছেন। অপরদিকে বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার কারনে বিএনপি দল থেকে কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না ।

বহিষ্কারের বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের বাহাদুর বলেন, দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে দলের দুই নেতা প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, যা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও গঠনতন্ত্রের চরম পরিপন্থী কাজ। এ জন্যই দুই ইউনিয়নের দুই সভাপতিকে দল থেকে
বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জেলা আওয়ামীলীগ বহিষ্কার আদেশের চিঠি পৌঁছেছে। চিঠি বিদ্রোহী প্রার্থীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

আর এদিকে বহিষ্কার আদেশকৃত চিঠিতে জানা যায়, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ গঠনতন্ত্রের ৪৭(১১) এর ধারায় সুস্পষ্ট লংঘন করে আপনারা নির্বাচনের প্রার্থী হয়েছেন। মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন এবং প্রার্থীতা প্রত্যাহারের সময়সীমা অতিবাহিত হওয়ার পরেও মনোনয়ন প্রত্যাহার না করে প্রচার প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন।

গত ২৬ অক্টোবর জেলা আওয়ামীলীগের জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত মোতাবেক স্থানীয় সরকার নির্বানে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও ষড়যন্ত্র লিপ্ত থাকায় সূনিদিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ গঠনতন্ত্রের ৪৭(১১) ধারা মোতাবেক অনুযায়ী পৃথক পৃথক ভাবে দুই বিদ্রোহী প্রার্থীকে দায়িত্বরত পদ/পদ সমূহ থেকে অপসরণসহ বহিষ্কার আদেশ প্রদান করা হল।

বহিষ্কারের বিষয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ্ব মুহাম্মদ হাবীব উল্লাহ বলেন,‘বহিষ্কারের কথা শুনেছি, তবে এখনো কোনো চিঠি পাইনি। গতবারে নৌকা প্রতীক নিয়ে সুষ্ঠ ভোটের মাধ্যমে বিজয় হয়ে বর্তমান আমি চেয়ারম্যান। আমি আওয়ামী লীগ পরিবারের লোক। উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি-সম্পাদক স্বজনপ্রীতি করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের কেন্দ্রে একক নাম পাঠিয়েছে। তারা আমার নামও পাঠিয়েছে বলে মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন।

অপর ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী বাইশারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বাহাদুর বলেন, ‘বহিষ্কারের চিঠি এখনো পাইনি। আওয়ামী লীগ আমাকে মনোনয়ন না দিয়ে আমার সঙ্গে বেইমানি করেছে বলে আমি মনে করি। যাকে মনোনয়ন দিয়েছেন তাকে আমার সাংগঠনিক দক্ষতায় অর্গনায়েজের মধ্যে ইউনিয়ন যুবলীগে যোগদান করিয়ে ছিলাম। আমি মনে করি বহিষ্কার এখানে কোনো বিষয় নয়, বড় বিষয় হচ্ছে জনগণ। জনগণ আমাকে এবারে চায় বলে আমি মনে করি। আমি শতভাগ আশাবাদী যে আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হব।’

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।