নাইক্ষ্যংছড়িতে মাদ্রাসা দপ্তরিকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় আটক ২ শিক্ষার্থী

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় দিলদার আলম (৩০) নামে মাদ্রাসার এক দপ্তরিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে দুই শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ ।

আটককৃত ছৈয়দুল আমিন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার চাকঢালা এলাকার মো. হোসেনের ছেলে এবং মহিউচ্ছুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। অপরজন একই মাদ্রাসার একই এলাকার অষ্টম শ্রেণি পড়–য়া তানভিরুল ইসলাম ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ছৈয়দুল আমিন খুনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। বিষয়টি সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নাইক্ষ্যংছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) টান্টু সাহা। এছাড়াও তানভিরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে বলে জানান ওসি।

এদিকে বুধবার রাতে নাইক্ষ্যংছড়ি থানা পুলিশ আটক ছৈয়দুল আমিনকে সঙ্গে নিয়ে আমতলীমাঠ ঘটনাস্থল খানাকা মসজিদের পুকুরের পশ্চিম পাশের ধান ক্ষেত থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা একটি দা উদ্ধার করা হয়।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চাকঢালা মহিতুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার দপ্তরি দিলদার আলম বুধবার সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে আমতলিমাঠ এলাকায় তাঁর ঘাড়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়।

নিহত দিদার আলম নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চাকঢালা এলাকার ফজুরছড়া গ্রামের হাজী ইসলাম মিয়া সওদাগরের ছেলে। তিনি একজন হাফেজ এবং একই মাদ্রাসার খ-কালীন দপ্তরি।

চাকঢালার বাসিন্দা শামসুল আলম বলেন, দিলদারকে পেছন থেকে ঘাড়ে কুপিয়ে হত্যার পর দুর্বৃত্তরা দ্রুত পালিয়ে গেছে। অন্ধকার হওয়ায় এলাকার লোকজন হত্যাকারীদের চিহ্নিত করতে পারেনি।

নিহতের স্ত্রী খালেদা বেগম জানান, তার স্বামী দিদারুল মাগরিবের আগে বাচ্চাদের জন্য নাস্তা আনবে বলে বাড়ি থেকে দোকানে যায় । এশার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা তার স্বামীকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে বলে দাবি করেন।

নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আবছার ইমন জানান, আটক ছৈয়দুল আমিনকে নিয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে একটি রক্তমাখা দা উদ্ধার করে। নারী সংক্রান্ত বিষয়ে এই হত্যাকান্ড অনেকটা নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।