নাইক্ষ্যংছড়িতে সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখলের চেষ্টা

বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি সদর উপজেলার উত্তর বিছামার গ্রামের বড়ুয়া পাড়ার একটি সংখ্যালঘু পরিবারের জমি জোরপূর্বক দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

একই গ্রামের দেলোয়ার রহমান ওরফে দিলু আর তাঁর স্ত্রী সুফিয়া খাতুন গং দখলদার চক্রটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এরই মধ্যে জমির জবর দখল নিতে নির্মাণাধীন বসতঘর ভাঙচুর এবং অবৈধ ভাবে অনু প্রবেশের চেষ্টা চালাছে ওই চক্রটি। এতে উভয় পক্ষে রক্তক্ষয়ী আশংকা রয়েছে। এ ঘটনায় সংখ্যালঘু পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা প্রক্রিয়া চালাছেন দুলাল বড়ুয়া নামে এক ব্যক্তি।

আজ সোমবার (২৭ জুন) সকালে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় দখলদার চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুলাল বড়ুয়া।

স্থানীয়দের মতে এবং কাগজপত্র পর্যালোচনা করে জানা যায়, জবর দখলকার চাক্রের নেতৃত্বদানকারী দেলোয়ার রহমান ওরফে দিলু গং কতৃক সংখ্যালঘু দুলাল বড়ুয়া গং এর বিরুদ্ধে গত ২০১৯ সালের দিকে একটি মিস, সি,আর ১৮/ ২০১৯ মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলা ২০২০ সালে ১৩ জানুয়ারি একটি রায়ের আদেশ হয় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বদিউল আলম বান্দরবান আদালতে। যার আদেশ নং ২৩ উল্লেখ আছে।

সেই জারিকৃত আদেশে আরও জানা যায়, বাদী দেলোয়ার রহমান দিলু ২৭০ নং নাইক্ষ্যংছড়ি মৌজার ২৬৩ নং হোল্ডিং এর ৩.৩০ একর জমি বন্দোবস্তী প্রাপ্ত হয়ে ভোগ দখলে আছেন।

বিবাদী দুলাল বড়ুয়া জানান, ২৭০ নং নাইক্ষ্যংছড়ি মৌজার ৩৪৬ নং হোল্ডিং এ ২.০০একর ২য় শ্রেণির জমি ১৯৮১/৮২ সনের ২৬৯ বন্দোবস্তি মূলে প্রাপ্ত হয়। উক্ত জমি ভোগ দখলরত অবস্থায় পিতা মৃত্যু বরণ করলে আমরা ওয়ারিশগণ উক্ত জমি ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত হয়ে শান্তিপূর্ণ ও নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে ভোগ দখলে আছেন। আমার পিতা অর্থাৎ মৃত পিয়ারী মোহন বড়ুয়ার পুত্র মৃত সুবধন বড়ুয়ার নিজ নামী জমির ওয়ারিশসূত্রে প্রাপ্ত মালিক হয়। ২০১৯ সালে আমাদের ওয়ারিশগণের বিরুদ্ধে ১৮/২০১৯ এর একটি মিস,সি,আর মামলা দায়ের করেন প্রতিপক্ষ দেলোয়ার রহমান গং। সে মামলা ২০২০ সালের ৩১ জানুয়ারি একটি রায়ের আদেশ হয়। রায়ের আদেশটি বিজ্ঞ আদালত সার্বিক পর্যালোচনা এবং ন্যায় বিচার পাওয়ার স্বার্থে আমাদের পক্ষে রায়ের আদেশ হয়।

তিনি আরো বলেন, হঠাৎ আদালতের রায়ের আদেশকে উপেক্ষা করে গত ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসের দিকে আবারও আমাদের ভোগদখলীয় জমি ফের জবর দখল করার চেষ্টা করলে আমি বাদী হয়ে জমিতে জবর দখল চেষ্টা করার ভয়ে এবং অবৈধ ভাবে অনুপ্রবেশ করতে না পারে সে জন্য প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় অভিযোগ দায়ের করি। সেই দায়ের করা অভিযোগ আদালত আমলে নিয়েছেন। আমরা ওয়ারিশগণের বিরুদ্ধে আদালত অন্যায় প্রমাণীত না পাওয়ায় প্রতিপক্ষ পূনরায় জবর দখল করার ও ভুঁয়া মামলা সৃজন করার চেষ্টা আছে জেনে আমি আর আমার ওয়ারিশগণের সহযোগিতায় স্থানীয় থানায় অভিযোগের কাগজপত্র দাখিল করার প্রক্রিয়াধীন।

আর এদিকে ২০১৯ সালের দেলোয়ার রহমান গং কতৃক ১৮/২০১৯ এর মিস,সি,আর মামলার উল্লেখিত আদেশে জানা যায়, বিবাদী দুলাল গং এর পিতার বন্দোবস্তী প্রাপ্ত জমির সহিত বাদী দেলোয়ার রহমান গং এর পক্ষের জমির হোল্ডিং নং সম্পূর্ণ ভাবে ভিন্ন থাকলেও জমির চৌহদ্দি সামান্য মিল থাকায় বিভিন্ন সময় বাদী দেলোয়ার রহমান গং উক্ত নালিশী জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করেন। ১ম পক্ষ বাদী দেলোয়ার গং এবং ২য় পক্ষ দুলাল বড়ুয়া গং এর ভোগ দখলীয় জমি অন্যায় ভাবে গ্রাস করার কুমানষে মামলাটি সৃজন করেছেন। অতএব আদালত নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা ও সহকারিণী কমিশন (ভূমি-অ:দা:) এর তদন্তের প্রতিবেদন আলোকে পর্যালোচনা এবং সাক্ষিগণের সাক্ষী ও নালিশী জমি বিবাদী পক্ষে দখল প্রতীয়মান হওয়ায় এহেন প্রেক্ষাপটে বাদী পক্ষ এ মোকদ্দামায় প্রার্থীত প্রতিকার পাওয়ার যোগ্য নহে মর্মে বিজ্ঞ ম্যাজিস্টেট আদালত সার্বিক বিবেচনায় ২য় পক্ষ কতৃক এ মোকদ্দমা শান্তি শৃঙ্খলা ভঙ্গের সম্ভাবনা আছে বলে আদালতের নিকট প্রতিয়মান হয় না। অতএব ন্যায় বিচারের স্বার্থে মোকদ্দমাটি খারিজ ও নথিজাত করার আদেশ গৃহিত হয়।

এ ব্যাপারে দেলোয়ার রহমান ও স্ত্রী সুফিয়া খাতুনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি। পরে তাদের বাড়িতে গেলে দেলোয়ার ও স্ত্রী সুফিয়া বলেন, আমরা ওখানে জমি পাব। তাই আমরাও ২০১৯ সালে মামলা দায়ের করেছিলাম । সেই দায়ের করা মামলা রায়ের আদেশটি আমাদের পক্ষে প্রতিকার না পাওয়ায় আমরা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হলাম। তবে ন্যায় বিচারের প্রতিকার পেতে উচ্চ আদালতে মামলার আশ্রয় নেবো। অন্যায় ভাবে জোরপূর্বক দখল চেষ্টার কথা অস্বীকার করলেন দেলোয়ার গং।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।