নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারীতে বাড়ছে বাল্য বিয়ে

3222 copyবান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারীতে অভিবাবকদের অসচেতনতায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বাল্য বিয়ে। প্রশাসনের হস্থক্ষেপসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার নজরদারীতেও ঠেকানো যাচ্ছেনা বাল্য বিয়ে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বাইশারীতে ২০১৪/১৫ সালের শেষে এবং বছরের শুরুতে অর্ধশতাধিক মেয়েদের বাল্য বিয়ের শিকার হতে হয়েছে শুধু মাত্র গৃহকর্তাদের কারনে। সবে মাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গন্ডি পেরিয়ে উচ্চ বিদ্যালয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছেন শিশুরা। কিন্তু গৃহকর্তাদের চাপের মুখে অনেক শিশুরাই শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে বাধ্য হয়েছে। অন্যথায় বাড়ীর বড়জনদের চাপের মুখেই জীবন কাটাতে হয় বলে বাল্য বিয়ের শিকার অনেক মেয়েরা জানান। বাইশারীর উপজাতীয় ও বাঙ্গালীদের মাঝে বর্তমানে বাল্য বিয়ের প্রবনতা আশংকা জনক হারে বাড়ছে বলে জানান অনেকেই।
আরো জানা যায়, এক শ্রেনীর অভিভাবকেরা ভূয়া জন্ম নিবন্ধন তৈরি করে স্থানীয় বিবাহ ও নিকাহ নামা কাজী অফিসে কাজীদের ম্যানেজ করে মোটা অংকের বিনিময়ে কাবিন নামা করে যাচ্ছেন। গত ২ মাসে বাইশারী ইউনিয়নে ৫টির মত বাল্য বিয়ের ঘটনা ঘটেছে। যাদের বয়স ১৩ বছরেরও নিচে। এ ছাড়াও শুধু মেয়েরা বাল্য বিয়ের শিকার নয়, অনেক অভিভাবকেরা শখের বশে ছেলেদেরও বাল্য বিয়ে করাচ্ছেন। তাছাড়া স্কুল কর্তৃপক্ষের অসেচতনতা বাল্য বিবাহ বৃদ্ধির জন্য দায়ী করছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে বাইশারী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আলম বলেন, সরকার ও উন্নয়ন সংস্থসহ পরিষদের পক্ষ থেকে সভা সমাবেশ করে বারবার বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে এগিয়ে আসার জন্য আহবান জানালেও ঠেকানো যাচ্ছেনা বাল্য বিয়ে। তবে তিনি বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে সর্বদা সচেতন আছেন বলে জানান।
গত ৩১ আগষ্ট ইউনিয়নের দক্ষিন বাইশারী এলাকায় এক স্কুল ছাত্রীকে পিতা মাতা জোর পূর্বক বাল্য বিয়ে দেওয়ার সময় খবরটি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে পন্ড হয়ে যায়। তাছাড়া বিগত ২ মাস পূর্বে ১০ম শ্রেণির দুই স্কুল শিক্ষার্থী বিয়ে করার উদ্দেশ্যে পালিয়ে গেলে প্রশাসন এবং অভিভাবক মিলে বয়স হলেই বিবাহ সম্পাদন হবে মর্মে লিখিত অঙ্গিকার করলেও পরে সবাইকে ফাঁকি দিয়ে ঘর সংসারে ব্যস্থ এখন তারা।
বাইশারী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আবু মুসা জানান, যোগদানের পর থেকে তিনি বাল্য বিয়ের ব্যাপারে কোন অভিযোগ পাননি। তবে গত বুধবার বাল্য বিয়ের বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে বাল্য বিয়েটি বন্ধ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।