নাইক্ষ্যংছড়ি কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির নির্বাচন নিয়ে চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভূয়া বাদী’র মামলা !

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সমবায় অফিস কতৃক পরিচালিত “কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির নির্বাচন নিয়ে ভূয়া বাদী সাজিয়ে চার সরকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বান্দরবান সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে।
গত ১৪নভেম্বর জনৈক নূর আহমদ নামে ব্যক্তি আদালতে অপর মামলা নং- ১৩৪/২০১৮ মামলাটি করেছেন। তবে মামলার এজাহারে বর্ণিত বাদী বলছেন তিনি আদালতে কোন মামলা করেননি। এই নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে প্রাপ্ত তথ্য ও উপজেলা বিআরডিবি অফিস সূত্রে জানা গেছে, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচন সমবায় বিধিমালা/২০০৪ এ ৩২ (১) বিধি অনুযায়ী গত ১৭ নভেম্বর সম্পন্ন হয়। কিন্তু এর তিন দিন আগে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউপির জামছড়ি বিত্তহীন সমবায় সমিতির সদস্য ও স্থানীয় মোহছেন আলীর ছেলে নুর আহাম্মদ নির্বাচন বিষয়ে আপত্তি তুলে বান্দরবান সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করার অভিযোগ উঠে। পরে আদালত ওই সংক্রান্ত্রে ব্যাখ্যা চান সংশ্লিষ্টদের কাছে।
এদিকে বিআরডিবি অফিস ও সমিতির নেতৃবৃন্দ পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন জনৈক নূর আহাম্মদ আদালতে মামলাটি করেননি। তার নাম, ঠিকানা উল্লেখ করে কে বা কারা মামলাটি করেছেন। উক্ত মামলায় বাদীর নাম রয়েছে নূর আহাম্মদ। পিতা মোহছেন আলী এবং ঠিকানা নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউপির জামছড়ি লিপিবদ্ধ রয়েছে। কিন্তু নূর আহাম্মদ নিজেও জানেন না মামলাটি কে করেছেন।
এবিষয়ে নূর আহাম্মদ সাংবাদিকদের বলেন, “নির্বাচনে অংশ নিতে আমি মনোনয়ন ফরম নিয়েছিলাম ঠিক। পরে শারীরিক অবস্থার কারনে মনোনয়ন ফরম প্রত্যাহার করে নিয়েছি” তবে আমার নাম, ঠিকানা উল্লেখ করে কে বা কারা স্বার্থ হাসিলেন জন্য মামলাটি করেছেন আমার বোধগম্য নয়। এদিকে নূর আহাম্মদ মামলার বিষয়ে কিছু জানেন না উল্লেখ করে বিআরডিবি দপ্তরের মাধ্যমে আদালতে লিখিত বক্তব্য পাঠিয়েছেন।
বান্দরবান বিআরডিবি অফিসার সুইক্রাচিং মারমা জানান, মামলায় উল্লেখিত বাদী গত ১৭ নভেম্বর নিজে হাজির হয়ে আদালতে দায়েরকৃত মামলার বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে লিখিত স্বীকারোক্তির দিয়েছেন।
এদিকে কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত ৭ সদস্যের কমিটির নাম ঘোষনা করেছে বিআরডিবি। কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মোঃ ফোরকান, সহ সভাপতি মোঃ ইউনুছ এবং সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন, হ্লাফো চাক, কেমেরাউ তংচগ্যা, মোঃ দেলাওয়ার হোসাইন, হ্লাথোয়াংচিং চাকমা ও জুহুরা বেগম।
উল্লেখ্য, মামলায় এজাহারভুক্ত জনৈক কর্মকর্তা চকরিয়া উপজেলার এক ব্যক্তিকে ভূয়া বাদী সাজিয়ে মামলাটি করেছেন বলে এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।