নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের প্রতারক ব্যবসায়িরা নজরদারিতে

মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও স্থানীয় বৌদ্ধদের হত্যাযজ্ঞ থেকে বাঁচতে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে গত তিন সপ্তাহ ধরে পলিথিনের তাঁবু তৈরী করে বসতি স্থাপন করেছে অন্তত ৫০ হাজার রোহিঙ্গা। আশ্রয় নেওয়া এসব রোহিঙ্গাদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তাদের শেষ সম্বল হাজার হাজার গবাদিপশু আয়ত্বে নেওয়া দালালরা এখন স্থানীয় প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বিজিবি, পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ইতিমধ্যেই তাদের চিহ্নিত করেছেন। এ সব ব্যক্তিদের মধ্যে স্থানীয় চেয়ারম্যান, চেয়ারম্যানের ছেলে ও একাধিক ইউপি সদস্য, রাজনৈতিক নেতাসহ অন্তত শতাধিক নাম রয়েছে।
আরো গেছে, নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের চাকঢালা বড়ছনখোলা, চেরারখালের আগা, আশারতলী সাপমারাঝিরি, ফুলতলী এবং ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু, বাইশফাড়ি, রেজু আমতলী পয়েন্ট দিয়ে হাজার হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয়। জিরো পয়েন্টে আশ্রিত এসব রোহিঙ্গাদের একমাত্র সম্ভল গরু-ছাগল দেখে একশ্রেণীর দালাল চক্র হঠাৎ সক্রিয় হয়ে উঠে। তারা প্রশাসনের মানবিকতার সুযোগে ত্রাণ দেওয়ার নামে রোহিঙ্গাদের ঠকিয়ে তাদের কাছ থেকে গরু-ছাগল অতি অল্প দামে কিনে নেয়। এছাড়া অনেক স্থানে রোহিঙ্গাদের গরু চুরিসহ তাদের স্বর্ণলংকার ছিনিয়ে নিয়ে অসহায় ও বাস্তুহারা মানুষগুলোর উপর অমানবিক অত্যাচার করা হয়।
এই বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউপির ৫নং ওয়ার্ড মেম্বার ফয়েজ উল্লাহ জানান, বিজিবির কঠোরতার মাঝেও গর্জনিয়া-কচ্ছপিয়া, কাউয়ারখোপসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে কম মূল্যে গরু কিনেছে অনেকে। কিন্তু স্পষ্ট কারা এ কাজটি করেছে তাদের পরিচয় নিশ্চিত নই।
আরো জানা গেছে, জিরো পয়েন্ট থেকে পাহাড়ী পথে গরু এনে ইউনিয়ন পরিষদের টোল ট্যাক্স আদায়ের মাধ্যমে বৈধ করেছেন চোরাকারবারীরা। সে ক্ষেত্রে গরু বিক্রয়ের চাদাঁর অর্থের একটি অংশ জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যাক্তি ও এক প্রশাসনের কোন কোন কর্তার পকেটে গেছে। যদিওবা নাইক্ষ্যংছড়ি বিজিবি গত ২৫ আগষ্ট থেকে বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক করা প্রায় শতাধিক গরু বালুখালী শুষ্ক কাষ্টমে জমা করেছেন।
এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানা পরিদর্শক (ওসি) এ.এইচ.এম তৌহিদ কবির বলেন, মিয়ানমারে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের ঠকিয়ে গবাদিপশু নেওয়া ব্যাক্তিদের নাম ইতিমধ্যে স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। যেই জড়িত থাক, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা আসার সময় যারা পেরেছে তাদের সম্বল হিসেবে নিয়ে এসেছে একটি বা দুটি করে গরু-ছাগল। আর এসব গরু-ছাগলগুলো সহজমূল্যে তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিতে সক্রিয় হয়ে ওঠে স্থানীয় মেম্বার ও জনপ্রতিনিধিসহ অনেকে। আর বিষয়টি প্রকাশ হলে জেলায় তোলপাড় শুরু হয়।
বান্দরবানের জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক বলেন,সীমান্তের বর্তমান পরিস্থিতিতে সৃষ্ট বিভিন্ন দালাল শ্রেণীর লোকদের ব্যাপারে আমরা অবগত হয়েছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পয়েন্টে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত রয়েছে, কেউ রোহিঙ্গাদের সাথে প্রতারণা করলে তার বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।