নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে মিয়ানমারের আরও বাঙ্কার, সেনা বৃদ্ধি

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্তে নতুন বাঙ্কার তৈরী করেছে মিয়ানমার
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তে নতুন করে আরও সৈন্য বাড়িয়েছে মিয়ানমার। সেই সঙ্গে কাঁটাতারের বেড়া ঘেঁষে তৈরি করা হচ্ছে আরও বাঙ্কার। কাটাঁ তারের বেড়ার ওপারে লাগোয়া পাহাড় টিলায় মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষীরা অবস্থান করলেও গভীর রাতে পাহাড় থেকে নেমে এসে নো মেন্স ল্যান্ডের অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের পাশে এসে অনেকটা গায়ে পড়ে উত্তেজিত করতে বিভিন্ন ধরনের হর্ণ বাজিয়ে থাকেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাইক দিয়ে নো মেন্স ল্যান্ড থেকে সরে যাওয়ার জন্য প্রচার এখনো থামেনি। আর এদিকে গত শুক্রবার (২ মার্চ) দুই দেশের পতাকা বৈঠকের পর সৃষ্ট উত্তেজনা কিছু সময়ের জন্য প্রশমিত হলেও শনিবার থেকে আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। গত রবিবার ও সোমবার তুমব্রু সীমান্তে নতুন করে সৈন্য বাড়ানো হয়েছে এবং মিয়ানমার সেনা ও বর্ডার গার্ড পুলিশকে বাঙ্কার খনন করতে দেখা গেছে বলে দাবি করেন রোহিঙ্গা নেতা মাষ্টার দিল মোহাম্মদ।
গত শুক্রবার বিকালে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিপি) ও বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের (বিজিবি) মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সীমান্তে টহল দেওয়ার ক্ষেত্রে এবং ফাঁকা গুলি ছোড়ার ক্ষেত্রেও বিজিবিকে পূর্বাবহিত করা হবে বলে কথা দেয় মিয়ানমার সেনারা। কিন্তু শনিবার থেকে তুমব্রু সীমান্তের জিরো পয়েন্টে তারা নতুন করে আরও সৈন্য বাড়িয়েছে। তৈরি করছে নতুন বাঙ্কারও। এতে জিরো পয়েন্টে প্রায় ৬ হাজার রোহিঙ্গা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ-উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। সীমান্তে মিয়ানমারের সৈন্য সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বিজিবিও তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে।
বিজিবি ৩৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মঞ্জুরুল হাসান খান সাংবাদিকদের বলেন, শুক্রবার পতাকা বৈঠকে মিয়ানমার বিজিপি দাবি করেছে, তারা নিজেদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য সীমান্তে সৈন্য মোতায়েন ও টহল বৃদ্ধি করেছে। তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে সীমান্তে টহল দিতে হলে বিজিপি ও বিজিবি যৌথভাবে টহল দেবে এবং কোনো কারণে নিরাপত্তা জোরদারের কোনো প্রশ্ন আসলে তারা আমাদের আগেই অবহিত করবে। কিন্তু তারা আমাদের অবহিত না করেই সীমান্তে সৈন্য সমাবেশ করেছে। তবে আমরাও সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। এছাড়া সীমান্তে ইতিমধ্যে তিনটি সিসিটিভি ক্যামরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরার সাথে ইনফ্রারেডও সংযুক্ত করা হয়েছে যাতে রাতের বেলায়ও ভাল দেখা যায়। সার্বিক পর্যবেক্ষনের জন্য তথ্য প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হবে।
রোহিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদ জানান, সীমান্তের জিরো পয়েন্টে আশ্রিত রোহিঙ্গা ও স্থানীয় এলাকার লোকজন চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। ইতিমধ্যে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে কেউ কেউ বাড়িঘর ছেড়ে দূরে আত্মীয় বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।
ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম জানান, সীমান্ত পরিস্থিতি আগের চেয়ে আরও অবনতি হয়েছে। মিয়ানমার নতুন করে সৈন্য সংখ্য বৃদ্ধি করায় আতঙ্ক বেড়েছে। তিনি জানান, মিয়ানমার গত রবিবার থেকে আরো সেনা বৃদ্ধি করেছে। ১ মার্চ সীমান্তে ৭ ট্রাক সেনা বৃদ্ধি করা হয়। পতাকা বৈঠক শেষে আবারও তারা সীমান্তে অবস্থান নেয়।
এদিকে দুই দিন ধরে নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তে বিপুলসংখ্যক বিজিপি সদস্যরা অবস্থান নেয় জিরো পয়েন্ট থেকে মাত্র ১৫০ গজ ভিতরে। এ সময় তারা সীমান্ত ঘেঁষে বাঙ্কার খোঁড়ার কাজও করে। তবে মিয়ানমার সেনাবাহিনী পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থান নিয়েছে। ফলে শূন্য রেখার রোহিঙ্গা ও সীমান্তবর্তী বাঙালিদের মধ্যে আতঙ্ক বৃদ্ধি পেয়েছে।

আরও পড়ুন
1 মন্তব্য
  1. Mo Mg বলেছেন

    ok

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।