নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে সৈন্য সমাবেশ : রোহিঙ্গাদের চলে যাবার জন্য ফের মাইকিং

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্তে কোনা পাড়ার নো মেন্স ল্যান্ডের হঠাৎ করে অতিরিক্ত সৈন্য সমাবেশ ঘটাচ্ছে মিয়ানমার। এই সৈন্য সমাবেশকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ সীমান্তে বিজিবি টহল জোরদার ও নজরদারি বাড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তুমব্রু সীমান্তের নো মেন্স ল্যান্ডে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের দিকে ভারী অস্ত্রের পাশাপাশি হালকা অস্ত্র তাক করে রেখেছে বর্মী সেনারা। এর পাশাপাশি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের নিদের্শনায় সকাল ১১টায় মাইকিং করে শূণ্যরেখা থেকে রোহিঙ্গাদের সরে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এতে করে সীমান্তের জিরো লাইনে থাকা রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতংক ও উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের মতো যে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিজিবি সম্পূর্ণরূপে সীমান্তে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এসব মিলে শূণ্যরেখার অবস্থানরত রোহিঙ্গারা নিরাপদে থাকার লক্ষে সতর্ক অবস্থায় থেকে টহল জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ পরিস্থিতিতে দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
নো মেন্স ল্যান্ডের অবস্থানরত রোহিঙ্গারা জানান,আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ৭টি ট্রাকে করে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সদস্যরা তুমব্রু সীমান্তের ওপারে কাটা তাঁরের বেড়ার কাছে ভারী অস্ত্রসহ হালকা অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেয়। সীমান্তের কাঁটা তারের বেড়া বরাবর বাংকার গুলোতেও অবস্থান নিয়েছে বর্মী সেনারা। বর্মী সেনাদের সাথে তাদের সীমান্ত রক্ষী পুলিশ (বিজিপি) সদস্যরাও পাহারা দিচ্ছে বলেও জানান অবস্থানরত রোহিঙ্গারা।
নো মেন্স ল্যান্ডের অবস্থানরত রোহিঙ্গা আরেফ আহাম্মেদ জানান, সকাল থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সদস্যরা মর্টারসহ অন্যান্য অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নিয়েছে। তাদের সাথে বিজিপির সদস্যদেরও দেখা যাচ্ছে। এতে করে রোহিঙ্গারা আতংকের মধ্যে রয়েছেন। তবে এ অবস্থাতেও কোনো রোহিঙ্গা এখনো সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেনি।
রোহিঙ্গা আলী জোহার ও রফিক জানান, বর্মী সেনাবাহিনীর সদস্যরা নো মেন্স ল্যান্ডে অবস্থানরত সাড়ে ছয় হাজার রোহিঙ্গাদের দিকে অস্ত্র তাক করে রেখেছে। এছাড়া, শূণ্যরেখায় থাকা সকাল ১১টায় মিয়ানমার কতৃক সরে যাওয়ার জন্য মাইকিংও চলছে। তবে সীমান্তের শূণ্যরেখায় সৈন্যসহ ভারী অস্ত্র নিয়ে কেন সেনা সমাবেশে অবস্থান নিয়েছে তা জানা যায়ুন।
উল্লেখ্য, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার তুমব্রু সীমান্ত পরিদর্শন করেন তিন নোবেল বিজয়ী নারী। তারা রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলে শূণ্যরেখার স্থান পরিদর্শন করেন। তারা রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের কথা শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। গণহত্যার জন্য আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচির বিচারের দাবিও তোলেন তারা। তাদের সফরের এক,দুই দিন পরই মিয়ানমার সরকার সীমান্তে তাদের সৈন্য সংখ্যা বাড়ালো।
শূন্যরেখার ওপারে বর্মী সেনার সমাবেশের কথা বলতে গিয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম সরওয়ার কামাল জানান, সীমান্তের শূন্যরেখার কাঁটা তারের বেড়ার পাশাপাশি শূন্য সমাবেশের মত লক্ষ করা গেছে । তবে আমাদের বিজিবি সতর্ক অবস্থা থেকে টহল অব্যাহত রয়েছেন। অপ্রীতিকরের মত কোন ঘটনা ঘটাবে এই রখম পরিস্থিতি এখনও লক্ষ করা যায়নি।
সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার কর্তৃক সৈন্য সমাবেশ ঘটানোর বিষয়টি স্বীকার করে বিজিবির কক্সবাজার সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আবদুল খালেক জানান, ওপারে মিয়ানমার প্রায় সময়ই সৈন্য সেনা বাড়ানো এটি নতুন কিছু নয়। তবে এপারে বিজিবির সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন এমপি বলেন, আমাদের বিজিবি সেখানে (সীমান্তে) সতর্ক অবস্থায় রয়েছে, আমাদের বিজিবি দেশকে ভালোবাসে এবং দেশের ভেতরে এসে কেউ কোন রকম বিশৃংখলা করবে এটা অসম্ভব। আমাদের বিজিবি অত্যান্ত শক্তিশালী, তারা দেশ প্রেমে উদ্ভুদ্ধ, তারা তাদের ট্রেনিং এ সেই জিনিসটা প্রাপ্ত হয়েছে। আমাদের বিজিবি কখনও মাথানত করেনা।

আরও পড়ুন
2 মন্তব্য
  1. Shakil Mahmud Khan বলেছেন

    এরা আবার ফেরতও নিবে!

  2. Delowar Hossain বলেছেন

    এই লুতুপুতু পররাষ্ট্রনীতি আর চুক্তির দৌড় কি মাঠ এ মারা যাবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।