নেই আর নেই দিয়ে চলছে বান্দরবান ডায়াবেটিক হাসপাতাল

পরিচালনা কমিটির অদক্ষতা

অব্যবস্থাপনা আর নানা অনিয়মের কারণে বন্ধ হতে বসেছে বান্দরবান ডায়াবেটিক হাসপাতাল। নিজস্ব ভবন এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সহযোগিতা থাকা সত্ত্বেও সঠিক পরিচালনার অভাব এবং ডাক্তার আর নার্সের অভাবে হাসপাতালটির সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জেলার ডায়াবেটিক রোগীরা।

সুত্রে জানা যায়, বান্দরবানের ডায়াবেটিকস রোগীদের সেবায় লক্ষ্য নিয়ে ২০১৩ সালের অক্টোবর মাসে বান্দরবান ডায়াবেটিক সমিতির পরিচালনায় যাত্রা শুরু করে, বান্দরবানের একমাত্র ডায়াবেটিক হাসপাতালটি। এর মধ্যে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে প্রচুর অনুদান পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি, কিন্তু হাসপাতালের যাত্রার পরপরই কয়েক বছর সব ঠিকঠাক থাকলেও বর্তমানে কমিটির সঠিক দেখভালের অভাবে হাসপাতালের সর্বত্র ময়লা আর আবর্জনার স্তুপ জমতে শুরু করেছে, শুধু তাই নয় হাসপাতাল হলেও এখানে বর্তমানে নেই কোন ডাক্তার আর নার্স। হাসপাতালের এমন বেহাল দশায় চরম বিড়ম্বনায় পড়েছে ডায়াবেটিক রোগীরা।

ডায়াবেটিকস হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী আয়েশা আক্তার জানান, আগে বান্দররবান ডায়াবেটিক হাসপাতালে ডাক্তার ছিল, সেবা ও ভালো ছিল, তবে এখন সেবাও নেই, ডাক্তারও নেই।

তিনি আরো জানান, অব্যবস্থাপনার ফলে এই এখন রোগীরা আর আসে না, যাদের ডায়বেটিস রোগ আছে, তারা বাধ্য হয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করে কেরানীহাট ও চট্টগ্রাম গিয়ে ডাক্তারের শরনাপন্ন হয়।

ডায়াবেটিকস হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা বান্দরবানের নিউগুলশান এলাকার বাসিন্দা মো:শামসুল হক জানান, নামেই বান্দরবান ডায়াবেটিক হাসপাতাল, ডাক্তার আর নার্স কিছুই নেই। হাসপাতাল ভবনটির চেহারা দেখলে মনে হয় হাসপাতাল নিজেই রোগী।

মো.শামসুল হক আরো জানান,পরিচালনা কমিটির অদক্ষতার কারণে জেলার একমাত্র এই হাসপাতালটি এখন বন্ধের পথে, আর আমরা গরীব রোগীরা পাচ্ছি কষ্ট।

সুত্রে জানা যায়, বিগত দিনগুলোতে প্রতিদিন গড়ে ৪০-৫০জন ডায়াবেটিকস রোগী এখানে সেবা নিলেও এখন কোন ডাক্তার না থাকায় রোগীর দেখা নেই হাসপাতালে। শুধুমাত্র ১ জন ম্যানেজার,১ জন আয়া, ১জন নৈশ প্রহরী আর ১ জন টেকনেশিয়ান রোগীদের রক্তের পরীক্ষা করে রির্পোট দিয়ে শেষ করছে তাদের প্রতিদিনের দায়িত্ব।

বান্দরবান ডায়াবেটিক হাসপাতাল এর দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার ওয়াং ম্যা থুই মারমা জানান, ডায়াবেটিকস হাসপাতালের বর্তমান অবস্থা খুবই খারাপ। হাসপাতালে কোন ডাক্তার আর নার্স না থাকায় কার্যক্রম প্রায় বন্ধের পথে।

ম্যানেজার ওয়াং ম্যা থুই মারমা আরো জানান,বর্তমানে হাসপাতালে শুধুমাত্র রোগীদের রক্ত পরীক্ষা করা হয় আর কোন সেবা দেয়া হয় না, রোগীরা রক্ত পরীক্ষার রির্পোট নিয়ে গিয়ে বাইরে ডাক্তারদের দেখিয়ে ওষুধ সেবন করে।

বান্দরবান ডায়াবেটিক হাসপাতাল এর টেকনেশিয়ান ম্যাং ক্য হ্লা মারমা জানান,পূর্বে হাসপাতালে প্রতিদিনই ৫০থেকে ৬০ জন রোগী আসতো আর এখন হাসাপাতালে কোন ডাক্তার না থাকায় রোগী কমে গেছে।

এদিকে কমিটির সঠিক সিদ্বান্তের অভাব আর শারীরিক অসুস্থতার কারণে সঠিকভাবে হাসপাতালটিকে পরিচালনা করতে না পারলেও শীঘ্রই নতুন কমিটি গঠন এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ করে পুরোদমে হাসপাতালটি চালু করার আশাবাদ জানান হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি।

বান্দরবান ডায়াবেটিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, পৌর মেয়র মোহাম্মদ ইসলাম বেবী বলেন, আমার শারীরিক অসুস্থার কারণে বান্দরবান ডায়াবেটিক হাসপাতাল এর কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা করতে কিছুটা কষ্ট হচ্ছে তবে শীঘ্রই নতুন কমিটি গঠন এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ করে পুরোদমে বান্দরবান ডায়াবেটিক হাসপাতাল আমরা চালু করবো এবং রোগীদের পর্যাপ্ত সেবা দেব।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।