পর্যটকদের ফেলা প্লাষ্টিকে রুপ হারাচ্ছে বান্দরবানের পর্যটনস্পটগুলো

প্রাকৃতি তার সব রুপ দিয়ে বান্দরবানের প্রাকৃতিক পরিবেশকে সাজিয়েছে। আর এই রুপের টানে প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটক বান্দরবান ভ্রমনে আসলেও তাদের অসেচতনতার কারনে নষ্ট হচ্ছে বান্দরবানের পর্যটনস্পটগুলোর প্রাকৃতিক পরিবেশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার থানচির পর্যটন স্পট নাফাখুম, আমিয়াখুম, বেলাখুম, সাতভাইখুম, রেমাক্রীমুখ পাথরসিঁড়ি, রুমা উপজেলার,রিঝুক, বগালেক, লামার মিরিঞ্জা, খোদ জেলা সদরের নিলাচল, মেঘলা, প্রান্তিক লেক শৈল প্রপাত, রাম জাদিসহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে উপভোগের সময় ভ্রমনকারী পর্যটকরা যেখানে সেখানে পলিথিন, প্লাষ্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট, যত্রতত্রভাবে ফেলে প্রাকৃতি পরিবেশকে মারাত্বকভাবে নষ্ট করছে।

আরো জানা গেছে, জেলা শহরের মেঘলা, নীলাচলসহ কয়েকটি স্পটে আবর্জনা ফেলার জন্য ডাস্টবিন থাকলেও উপজেলাগুলোর পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ময়লা-আবর্জনা ফেলার ডাস্টবিন নেই। কিন্তু পর্যটকরা সব পর্যটনস্পটগুলোতে যততত্র প্লাষ্টিক ময়লা আবর্জনা ফেলার কারনে দূসর হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ।

থানচি উপজেলার রেমাক্রী মুখ পাথর সিঁড়িতে ভ্রাম্যমান দোকান ব্যবসায়ী উশৈমং মারমা বলেন, পর্যটক ও স্থানীয়রা ব্যাগভর্তি পলিথিন, প্লাষ্টিকের বোতল, চিপস প্যাকেট ইত্যাদি নিয়ে আসে এবং খাওয়ার পর যেখানে সেখানে ফেলে দেয়, ফলে প্রাকৃতি তার রুপ হারাচ্ছে।

গত ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্ত্রী বান্দরবান শহরের নীলাচল পর্যটন কেন্দ্র ভ্রমনে আসে। এসময় তারা পুরো নীলাচল জুঁড়ে প্লাষ্টিক ও কাগজ ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেললে বান্দরবানের স্থানীয়রা সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদ করে।

এই ব্যাপারে বান্দরবানের ছাত্র রাজীব রাহাত বলেন, তারা যেভাবে নীলাচলকে নোংরা করেছে, সৌন্দর্য বাজায় রাখার শিক্ষাটা না দিতে পারলে কোন প্রতিষ্ঠানের উচিত নয় শিক্ষা সফরে আসা।

আরো জানা গেছে, অধিকাংশ পর্যটক সাঙ্গু নদী পথে বান্দরবানের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র থানচি উপজেলায় নাফাখুম, রেমাক্রি, বড় পাথর, ছোট মদক, বড় মদক এবং রুমা উপজেলার রিঝুক ভ্রমনে যান। এসময় নদীতে এসব ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারনে নদীতে থাকা বড় বড় পাথরের সাথে আটকে গিয়ে একদিকে যেমন নদীর জ্বলজ প্রাণী প্রান হারাচ্ছে, অন্যদিকে জ্বলজ উদ্ভিদ বিকশিত হতে পারছেনা।

পর্যটন স্পট ছোট মদকের ব্যবসায়ি মং প্রু মার্মা বলেন, এখানে যারা আসনে তারা সবাই শিক্ষিত কিন্তু তারা যেভাবে যত্রতত্র প্লাষ্টিক ফেলেন তাতে মনে হয় তারা প্রাকৃতি আর পরিবেশ নিয়ে একটুকুও সচেতন নয়।

এই ব্যাপারে থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আরিফুল হক মৃদুল বলেন, উপজেলার কিছু কিছু পর্যটন স্পটে আমরা প্রাকৃতিক রুপেই রাখতে চাই,সেখানে কোন অবকাঠামো হবেনা। তবে এই বিষয়ে পর্যটকদের সচেতন হতে হবে।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।