পাগলাছড়া কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ: প্রকৌশলীর যোগসাজশের নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহার

পাগলাছড়া কমিউনিটি ক্লিনিক
বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার দুর্গম পাগলাছড়া পাড়ার কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মানে দায়িত্বরত প্রকৌশলীর যোগসাজশের নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিন্মমানের সামগ্রী ও সাধারণ কংকরের বদলে ব্যবহার করা হচ্ছে ব্যবহার অযোগ্য রাবিশ। ফলে ছাদ ধসে পড়ার শংকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা। ঠিকাদার লিয়াকত নিজের প্রভাব খাটিয়ে এমন কাজ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সূত্রে জানা গেছে, পাগলাছড়া পাড়ার কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের লক্ষে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রায় ১৭ লাখ টাকার প্রকল্পের কাজ পায় ঠিকাদার লিয়াকত। প্রধানমন্ত্রীর ১০টি বিশেষ ব্র্যান্ডিং উদ্যোগের মধ্যে একটি হচ্ছে স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান কমিউনিটি ক্লিনিক। জনগণের স্বাস্থ্য সেবা মানুষের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দেয়া লক্ষ্যে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা হয়েছে প্রত্যেকটি দুর্গম অঞ্চলে। এর অংশ হিসাবে বহু বছর পর সেখানে নির্মান করা হচ্ছে একতলা বিশিষ্ট কমিউনিটি ক্লিনিক ভবন। চলতিবছর এই কমিউনিটি ক্লিনিক ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ইতিমধ্যেই এই কমিউনিটি ক্লিনিক ভবনের ছাদও নির্মিত হয়েছে,এখন চলছে ফিনিশিং এর কাজ। এতে ছাদ ঢালাইয়ে ব্যবহার করা হয়েছে স্বাভাবিক কংকরের বদলে রাবিশ (মূল কংকর থেকে নি:সৃত গুঁড়ো) যা নির্মাণ কাজে কোন মতেই ব্যবহার যোগ্য নহে।
পাগলাছড়া কমিউনিটি ক্লিনিক পরিদর্শনে গিয়ে জানা গেছে,কমিউনিটি ক্লিনিক ভবনের নির্মিত ছাদে উন্নতমানের কংকর ব্যবহারের নির্দেশনা শর্ত্বেও সেখানে ব্যবহার করা হয়েছে ব্যবহার নিষিদ্ধ রাবিশ। মূলভবনের দেওয়ালে ব্যবহার করা হয় নিন্মমানের ইট-সিমেন্ট। ফলে দেওয়ালটি ধসে পড়ে যেতে পারে। যে কোন সময় এই দেওয়াল ধসে পড়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলেও জানিয়েছে স্থানীয় এলাকাবাসি।
পাগলাছাড়া এলাকায় বসবাসরত মার্মা,ত্রিপুরা,ম্রো,খিয়াং,খুমি,বম এবং তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের বাসস্থান। এলাকার একমাত্র কমিউনিটি ক্লিনিক ভবনের এই বিপজ্জনক নির্মাণ কাঠামোর কারণে এলাকাবাসীর মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে। ছাদ ঢালাইয়ের সময় নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাধা-প্রতিবাদ জানানোর পরও ঠিকাদার ও মিস্ত্রী এক প্রকৌশলীর উপস্থিতিতে কংকরের বদলে ব্যবহার করেছেন রাবিশ এবং নিন্মমানের ইট,সিমেন্ট নির্মাণ কাজে কোন ভাবেই ব্যবহার যোগ্য নহে।
এস,টি রঞ্জন তঞ্চঙ্গ্যা,কমিটি সভাপতি বিজয় তঞ্চঙ্গ্যা ও সাবেক ইউপি মেম্বার গোপাল তঞ্চঙ্গ্যার অভিযোগ করে বলেন, দায়িত্বরত প্রকৌশলীদের ঠিকাদার সাথে আঁতাত ও যোগসাজশে ছাদ নির্মাণের সময় নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। বহুবার বন্ধের জন্য অনুরোধ জানানো তা আমলে নেননি।
নির্মাণ কাজের মিস্ত্রি মো: আব্দুল কুদ্দুস বলেন, আমরা ঠিকাদার যে ভাবে কাজ করতে বলা হচ্ছে সে ভাবে কাজ করে যাচ্ছি।
মো: লিয়াকতের সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগও তিনি স্বীকার করে বলেন, ক্লিনিক ভবনের নির্মাণে কাজে সিডিউল মোতাবেকই কাজ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ছাদ ঢালাই ও হয়ে গেছে। তবে সামন্য সমস্যা দেখা দিয়েছে। ছাদ ঢালাই মধ্যে কিছু অংশ থেকে লিড বা পানি পড়েছে।
এ ব্যাপারে বান্দরবানে স্বাস্থ্য বিভাগের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রকৌশলী মো: মোর্শেদ বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকের ছাদ নির্মাণের সময় আমি ছিলাম না। তাঁর পরিবর্তে সহকারি একজনকে দায়িত্বে দেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ছাদ ঢালাইয়ের কাজে কিছু কিছু স্থান সমস্যা হতে পারে, ঠিক না হলে পুনরায় ঢালাই করা হবে।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।