পাটজাত মোড়ক ব্যবহারে সরকারের দ্বৈত নীতিতে ক্ষুব্ধ খাগড়াছড়ির ব্যবসায়ীরা

প্লাস্টিকের বস্তায় আমদানীকৃত চাল সরবরাহ করা হয় খাগড়াছড়িতে
বাংলার সোনালী আঁশ খ্যাত পাট শিল্পকে বাঁচাতে সরকার ১৭টি পণ্যের মোড়কীকরণ ও সংরক্ষণে পাটজাত মোড়ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করলেও সরকারই তা লঙ্ঘন করছে। সম্প্রতি সময়ে ভিয়েতনাম থেকে প্লাস্টিকের বস্তায় আমদানীকৃত চাল সরবরাহ করা হচ্ছে সারাদেশের ন্যায় খাগড়াছড়ির ১১টি খাদ্য গুদামে। সরকার প্লাস্টিকের বস্তায় চাল সরবরাহ করলেও মিল ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে প্লাস্টিকের বস্তা ব্যবহার ও সংরক্ষণে দায়ে গত কয়েক মাসে একাধিকবার ভ্রাম্যমান আদালত করেছে জেলা প্রশাসন। এতে করে ক্ষুব্ধ খাগড়াছড়ি জেলার অটো রাইস মিল মালিক ও চাল ব্যবসায়ীরা।
জেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা যায়, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় প্রতি মাসে সরকারি খাদ্য শষ্যের চাহিদা ৫ হাজার ৫ শত ১৪ মেট্টিক টন। এছাড়া প্রতি তিন মাস অন্তর অন্তর ভারত প্রত্যাগত শরণার্থী ও উদ্বাস্তু পরিবারের জন্য প্রায় ৪ হাজার মেট্টিক টন এবং বাঙালী গুচ্ছ গ্রামের প্রায় ৬ হাজার মেট্টিক টন। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির বরাদ্দের ২৭৮ মেট্টিক টন এবং পার্বত্য জেলা পরিষদ সহ পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের হাজার হাজার মেট্টিক টন খাদ্য শষ্যের চাহিদা রয়েছে। প্রতি মাসে চাহিদার অনুপাতে খাদ্যশষ্য মজুদ থাকে খাগড়াছড়ির ১১টি খাদ্য গুদামে। জেলার বিভিন্ন সেক্টরের জন্য বরাদ্দকৃত অর্ধেক চালই খোলা বাজারে চলে যায়। স্থানীয়, চট্টগ্রাম ও ফেণীর কিছু সিন্ডিকেট খাগড়াছড়ি জেলা থেকে এসব চাল কিনে।
সরেজমিনে, গত ২৭ জুলাই খাগড়াছড়ি সদরের খাদ্য গুদামে গিয়ে দেখা যায় চট্টগ্রাম থেকে আসা প্রতিটি ট্রাকেই প্লাস্টিকের বস্তায় চাল। বস্তার গায়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নাম কালো কালিতে লেখে। কিন্তু সরকারই পাট শিল্পকে বাঁচাতে পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন ২০১৩(সংশোধীত) প্রণায়ন করেছে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে স্থানীয় প্রশাসন। চলতি বছরের ১৫ মে থেকে খাগড়াছড়ি জেলায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে একাধিক ব্যবসায়ীকে অর্থদন্ডে দন্ডিত করেছে। এতে করে সরকারই দ্বৈত নীতিতে ক্ষুব্ধ জেলার চাল ব্যবসায়ীরা।
খাগড়াছড়ি বাজারের চাল ব্যবসায়ী স্বপন দেবনাথ জানান, কয়েক মাস আগে আমার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে প্লাস্টিকের বস্তায় চাল সংরক্ষণ করায় ভ্রাম্যমান আদালত ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। কিন্তু সরকারই এখন পাটের বস্তা ব্যবহার না করে খাদ্য শস্য সরবরাহ করছে।
আরেক ব্যবসায়ী সোলাইমান আলম জানান, আমাদের মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের যত দোষ। পাটের/প্লাস্টিকের বস্তায় হোক আমাদের তো ব্যবসা করতে হবে। সরকারই গুদাম বা মিল থেকে যা পাই আমরা তাই বিক্রী করি। গত মে মাসে মোবাইল কোর্ট আমাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে প্লাস্টিকের বস্তায় চাল রাখায়।
খাগড়াছড়ি খাদ্য শষ্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও পৌর মেয়র রফিকুল আলম জানান, সরকারের দ্বৈত নীতিতে আমরা হতাশ। পাটের বস্তা ব্যবহারে দেশীয় ব্যবসায়ীদের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করলেও সম্প্রতি সময়ে ভিয়েতনাম সহ অন্যান্য দেশ থেকে প্লাস্টিকের বস্তায় চাল আনা ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে সরকার কোন ব্যবস্থায় নিচ্ছে না।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো: আশরাফুল ইসলাম জানান, দেশে খাদ্যের অস্বাভাবিক সংকট সৃষ্টি করতে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পায়তারা চালিয়েছে। এতে করে দীর্ঘ অনেক বছর পর সরকারকে বাহির থেকে চাল আমদানী করতে হয়েছে। খাগড়াছড়ির ১১ টি খাদ্য গুদামে ভিয়েতনাম থেকে আনা আমদানীকৃত চাল সরবরাহ করা হচ্ছে, যার সব বস্তায় প্লাস্টিকের মোড়কে। কিন্তু সরকারের উচ্চ পর্যায়ে সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে আমাদের এসব খাদ্য শষ্য গ্রহণ করতে হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক মো: রাশেদুল ইসলাম জানান, সম্ভাবনাময় পাট শিল্পকে রক্ষা করতে সরকার আইন করেছে। সে আইনের প্রেক্ষিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।