পাথর খেকো বশর কোম্পানীর খপ্পরে রুমা-রোয়াংছড়ি সীমান্তের সাকলাই ঝিরি

ম্রখ্যংখালের সাকলাই ঝিরির উজানে প্রায় এক হাজার বোল্ডার পাথরের স্তূপকৃত দৃশ্যের একাংশ
ম্রখ্যংখালের সাকলাই ঝিরির উজানে প্রায় এক হাজার বোল্ডার পাথরের স্তূপকৃত দৃশ্যের একাংশ
বান্দরবানের রুমা-রোয়াংছড়ি সীমান্তরেখা ম্রখ্যখালের সাকলাই ঝিরি-ঝরনা থেকে অবাধে পাথর উত্তোলণ করছে পাথর খেকো বশর কোম্পানী, ফলে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংখা করে প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশ রক্ষায় পাথর উত্তোলণ বন্ধে দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।
সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, রুমা ও রোয়াংছড়ি উপজেলার আলেক্ষ্যং মৌজা ও পান্তলা মৌজার মানচিত্রে সীমারেখা হচ্ছে “সাকলাই ঝিরি”। রুমা-বান্দরবান সড়কের ম্রোংগো ডাকবাংলা হয়ে ম্রক্ষ্যংখালের সাকলাই ঝিরির উজানে ভিতরে বোল্ডার পাথরের স্তুপ আর স্তুপ, চোখে পড়ে। মাটি খুঁড়ে বোল্ডার পাথর উত্তোলণ করে স্তুপ রাখা হয়েছে।
বোল্ডারের স্তুপ করার কাজে নিয়োজিত শ্রমিক সর্দার আব্দুল্লাহ বলেন, পাথরের স্তুপগুলো বান্দরবানের হাফেজ ঘোনার বাসিন্দা বশর কোম্পানীর। তিনি আরো বলেন, পাথর উত্তোলণে অনুমতি কাগজপত্র আছে কিনা আমি জানিনা। এ কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের দেখাশুনা করা তার দায়িত্ব বলে জানিয়েছেন, শ্রমিক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।
স্থানীয় লোকজন জানায়, রোয়াংছড়ি ও রুমা উপজেলা সীমারেখা ম্রক্ষ্যংখালের “সাকলাই” ঝিরিতে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা জুঁড়ে গত অক্টোবর মাস থেকে মাটি খুঁড়ে বোল্ডারের পাথর স্তুপ করা শুরু হয়,নিরাপত্তা বাহিনীর নাম ভাঙ্গিয়ে অবাধে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। বর্তমানে বোল্ডারের পাথর স্তুপগুলো পরিমাণে দুই লক্ষ ঘনফুটের বেশি জামানো হয়েছে। এইসব পাথর বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে অবাধে, আরো পাথর ট্রাকে করে বান্দরবানসহ বিভিন্ন জায়গায় পাচার করা হবে।
পাথর উত্তোলনকারী মোহাম্মদ বশর কোম্পানী বলেন, রোয়াংছড়ি উপজেলার অধীনে একটি অনুমতি পত্র আছে। অনুমতি পত্র দেখাতে বলা হলে তিনি বলেন, নিরাপত্তাবাহিনীর পাথর সরবরাহ করার জন্য পাথর উত্তোলনের কোনো অনুমতি প্রয়োজন হয়না।
ম্রখ্যংখালের সাকলাই ঝিরির উজানে প্রায় এক হাজার বোল্ডার পাথরের স্তূপকৃত দৃশ্যের একাংশ
ম্রখ্যংখালের সাকলাই ঝিরির উজানে প্রায় এক হাজার বোল্ডার পাথরের স্তূপকৃত দৃশ্যের একাংশ
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বান্দরবানের হাফেজ ঘোনার বাসিন্দা বশর কোম্পানী শ্রমিক লাগিয়ে পাথর উত্তোলণ করছে। প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে নানা জায়গা থেকে অবৈধভাবে আহরিত এইসব পাথর বিভিন্ন ঠিকাদারের কাছে সরবরাহ করে ব্যবসা করছে। অব্যাহত পাথর উত্তোলণের কারণে একদিকে প্রশাসন ব্যাপক হারে রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে বিপন্ন হচ্ছে প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশ। তবে এখানে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের নেই কোন কার্যকরি পদক্ষেপ।
ডলুঝিরি পাড়ার বাসিন্দা সুইসিঅং ও সাবেক ইউপি সদস্য থুইসাচিং বলেন, অবাধে পাথর উত্তোলণ অব্যাহত থাকায় ছড়া-ঝিরিগুলোতে পানি প্রবাহের উৎস বন্ধ হয়ে যাবার উপক্রম হচ্ছে, উত্তোলণ বন্ধ করা না গেলে ভবিষ্যতে এ ঝরণায় পানি শুকিয়ে যাবে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে জারিকৃত খনি ও খনিজ সম্পদ বিধিমালা-২০১২ এর ৯৫ বিধি অনুসারে খাল, ঝিড়ি ও নদীতে ভাসমান পাথর ব্যতিত মাটি খুঁড়ে ও পাহাড় কর্তন করে পাথর উত্তোলন করা যাবে না শর্ত আরোপ করে পাথর আহরণের অনুমতি দেওয়া হলেও তা মানছে না স্থানীয় পাথর ব্যবসায়ীরা।
এদিকে ম্রক্ষং পাড়া চনুমং মারমা জানান, অক্টোবর মাস শুরু থেকে বশর কোম্পানী প্রায় ৫০জন শ্রমিকের মাধ্যমে বোল্ডার পাথর উত্তোলণ করে স্তূপ করেছে। ফলে এই সাকলাই ঝরনা পানি উৎসের প্রবাহ শুকিয়ে যাবে। পানি অভাবে ডলুঝিরির দু‘টি পাড়ার ৮০টি পরিবার এখন থেকে ভবিষ্যতে অন্যত্র চলে যেতে হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করেন।
এব্যাপারে রোয়াংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ দাউদ হোসেন চৌধুরী বলেন, রোয়াংছড়ি উপজেলায় পাথর উত্তোলনের কারোর কোনো অনুমতি পত্র নেই, ঝিরিতে অবাধে পাথর উত্তোলণের বিষয় খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

আরও পড়ুন
1 মন্তব্য
  1. সেইন মারমা বলেছেন

    it should stop

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।