পানছড়ি খাদ্য গুদামের উপ-সহকারি পরিদর্শককে মারধর করলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি বাহার মিয়া

জেলার পানছড়িতে গুচ্ছগ্রামের খাদ্যশস্য ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গুদামের উপ-সহকারি পরিদর্শক রোকন মিয়াকে মারধর করেছেন, উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি বাহার মিয়া। এসময় তিনি লোকজন নিয়ে অফিসের আসবাবপত্র ভাংচুা করেছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যায় তিনি পানছড়ি খাদ্য গুদামে গিয়ে খাদ্য গুদাম পরিদর্শকের অনুপস্থিতিতে উপ-সহকারি পরিদর্শক রোকন মিয়া’র কাছে ১১ টন গম দাবি করেন। রোকন মিয়া, বাহারের প্রার্থিত খাদ্যশস্য এরিমধ্যে আরেক ব্যবসায়ী আশীষ দেব নিয়ে গেছেন বলার সাথে সাথেই উত্তেজিত হয়ে উঠেন। এক পর্যায়ে তিনি রোকন মিয়া’র গায়ে হাত তোলেন এবং অফিসের আসবাবপত্র ভাংচুর করতে থাকেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিম পৌঁছলে তিনি সটকে পড়েন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১২টি বাঙালি ও ৫টি পাহাড়ি গুচ্ছগ্রামের রেশন বাবদ প্রতি তিন মাস পর পর আসা খাদ্যসশ্য ব্যবসার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিদ্বন্ধী ব্যবসায়ী আশীষ দেব এবং এবাদ মিয়া’র বাহারের সাথে বিরোধ লেগে ছিল। এবারও সর্বশেষ প্রান্তিকের ১১টন গম নিয়ে এই বিরোধ তুঙ্গে উঠে।
অভিযোগের জবাবে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বাহার মিয়া বলেন, খাদ্যগুদামে এক গাড়ি খাদ্যসশ্য (১১ টন গম) তিনি পূর্ব দমদম গুচ্ছগ্রামের প্রজেক্ট চেয়ারম্যান এবাদ াময়া’র কাছ থেকে অগ্রিম টাকা দিয়ে কিনেছেন। কিন্তু বুধবার গুদামে গিয়ে দেখেন কোনই মাল নেই।
তিনি অভিযোগ করেন, পাহাড়ি-বাঙালি গুচ্ছগাম মিলে ১২’শ টন (৩’শর ওপর গাড়ি) আনা-নেওয়া বাবত প্রতি গাড়ি ৩২ হাজার টাকা পরিবহন ব্যয় লুঠপাট করার জন্য খাদ্য গুদাম সংশ্লিষ্টরা বিক্রি করে ফেলেছেন। ফলে তিনি অগাম টাকা দিয়েও গম পাননি। এটার সদুত্তর দিতে না পারাই একটু উচ্চবাচ্য হয়েছে।এমপি সাহেব নিজেই এসব নিয়ে ধমক দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সম্পাদক ও খাদ্য ব্যসায়ী আশীষ দেব’র ছোট ভাই বিজয় দেব বলেন, খাদ্য গুদামে বাহার মিয়া দলের ক্ষমতাবলে ভাংচুর করেছেন। জোরপূর্বক খাদ্যশস্য নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন।
খাদ্য গুদামের উপ-সহকারি পরিদর্শক রোকন মিয়া বলেন, আওয়ামীলীগের সভাপতি প্রজেক্ট চেয়ারম্যান এবাদ মিয়া’র নাম বলে ১১ টন গম দাবি করেন। প্রথমে হুমকি-ধামকি দেন। পরে মারধর করতে ঔদ্ধত্য হন। তিনি অফিসের আসবাবপত্র ভাংচুর করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, বাহার মিয়া প্রায়ই আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে তা করেন। ওসি সাহেব নিজেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
স্থানীয় সাংবাদিক মো: সাজু বলেন, তিনি ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকাই ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানতে পারেন নি।
সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও বাহার মিয়া’র ছোট ভাই নাজির হোসেন বলেন, রোকনের সাথে তর্কবিতর্ক হয়েছে শুনেছি। আশীষ দেব ও সদর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি আবাদ মিয়া’র সাথে বাঙালি গুচ্ছগ্রামের খাদ্যশস্য নিয়েই বিরোধ হয়েছে।
খাদ্য গুদামের পরিদর্শক মঈনুল খায়ের বলেন, আওয়ামীলীগ সভাপতি বাহার মিয়া নিজে গিয়ে ভাংচুর করেছেন। হঠাৎ গিয়ে উপ-সহকারিকে গিয়ে টর্চারিং করেছেন বলে শুনেছি। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনী পদক্ষেপ নেবেন।
পানছড়ি থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, খাদ্য গুদামে একটা গোলমাল হয়েছে। কোনই লিখিত অভিযোগ হয়নি। তাই কোন ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না।
পানছড়ির ইউএনও সো: আবুল হাশেম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এর আগেও বাহার মিয়া এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন। সংসদ সদস্য মহোদয়ও তাঁর সম্পর্কে অবগত। এ ঘটনাতে তাঁর বিষয়ে পদেক্ষেপ নেয়া হবে।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।