পার্বত্য অঞ্চলে রক্তপাত বন্ধে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন হবে : পার্বত্য মেলায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পার্বত্য অঞ্চলে রক্তপাত বন্ধ করতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। আজ বুধবার (৫জানুয়ারি) রাজধানীর বেইলী রোডে শেখ হাসিনা পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সে চার দিন ব্যাপী পার্বত্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, আমিও জানি পার্বত্য অঞ্চলে মাঝে মাঝেই রক্তপাত হয়, এতে ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষতি হয়। পার্বত্য শান্তি চুক্তির ফলে যেসব আর্মি ক্যাম্প পরিত্যক্ত হয়েছে সেগুলোতে আমরা পুলিশ নিয়োগ করব। আপনাদের শান্তি নিশ্চিত করার জন্য।

আসাদুজ্জামান খান বলেন, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক দিক বিবেচনায় পার্বত্য অঞ্চল কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও আমরা উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছি। এই তিন জেলা অর্থনৈতিকভাবে আরও সমৃদ্ধ হলে বাংলাদেশ সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে। এ মেলার মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষেরা তাদের উৎপাদিত পণ্য দেশের মূল বাজারে আনতে পারছে। ফলে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষে ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

শেখ হাসিনা পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সে পার্বত্য মেলার শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর (উশৈসিং) এমপি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য বাসন্ত্রী চাকমা, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব মো: মেসবাহুল ইসলাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা, রাঙগামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুইপ্রু চৌধুরী, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোসাম্মৎ হামিদা বেগম।

পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উৎপাদিত পণ্যসামগ্রীর প্রচার ও বিপণনের মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে প্রতি বছরের মতো এবারও এ মেলার আয়োজন করেছে পার্বত্য মন্ত্রণালয়। চার দিনব্যাপী এ মেলা শেষ হবে আগামী ৮ জানুয়ারি। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

মেলায় মোট ৯১টি স্টল রয়েছে। স্টলসমূহের মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, প্রতিষ্ঠিত উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী, তিন পার্বত্য জেলায় উৎপাদিত কৃষি পণ্য সামগ্রী, হস্ত শিল্প, ঐতিহ্যবাহী কোমর তাঁত, ঐতিহ্যবাহী পার্বত্য খাবার দ্রব্য ইত্যাদি রয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, মেলা প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে। আজ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পরিবেশন করেছে বান্দরবানে শিল্পীরা।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।