পার্বত্য অঞ্চল থেকে মেধাবী শিক্ষার্থী গড়ে তুলতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে : বৃষ কেতু চাকমা

রাঙামাটির রানী দয়াময়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা
পার্বত্য অঞ্চল থেকে মেধাবী শিক্ষার্থী গড়ে তুলতে অভিভাবক-শিক্ষক’সহ সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা। তিনি বলেন, সমতল এলাকার চাইতে পার্বত্য জেলাগুলো শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, অর্থনৈতিক’সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে। অন্য জেলা থেকে চিকিৎসক, বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা পার্বত্য জেলাগুলোতে বদলি হয়ে আসলেও বছর দু-তিন বছর থেকে বেশীদিন থাকতে চাইনা। প্রশিক্ষন বা কোন না কোন কারন দেখিয়ে তারা এখান থেকে চলে যায়। ফলে এখানকার মানুষ শতভাগ সুফল পাইনা।
আজ শনিবার সকালে রাঙামাটির রানী দয়াময়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া, একাডেমিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী এবং অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা একথা বলেন। তিনি বলেন, মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণ করে এ জেলা থেকেই যদি মেধাবী শিক্ষার্থী গড়ে তোলা যায় তারাই একদিন চিকিৎসক, বড় কর্মকর্তা, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের করে বড় ব্যবসায়ী হয়ে নিজ জেলায় থেকে জনগনের সেবা দিতে পারবে।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী, রাঙামাটি পাবলিক কলেজের অধ্যক্ষ তাছাদ্দিক হোসেন কবির, শহীদ আব্দুল আলী একাডেমী স্কুলের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম, রানী দয়াময়ী উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য মধু চন্দ্র চাকমা, রানী দয়াময়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক সনৎ কুমার বড়ুয়া’সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রানী দয়াময়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রনতোষ মল্লিক।
অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আরো বলেন, বর্তমান সরকার পার্বত্যবাসির প্রতি খুবই আন্তরিক। পার্বত্যবাসীর সার্বিক উন্নয়নে যে কোন প্রকল্পের কথা উপস্থাপন করলে তিনি তা একমত প্রকাশ করেন এবং অনুমোদন দিয়ে দেন। পার্বত্য জেলার উন্নয়নে নতুন নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মান, সংস্কার’সহ যা যা করা প্রয়োজন বর্তমান সরকার করছে। এখানকার নৃ-গোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের তাদের স্ব স্ব ভাষায় শিক্ষা গ্রহনের জন্য সরকার পাঠ্যবই বিতরণ করছে এবং নৃ-গোষ্ঠী ভাষা ও অক্ষরে শিক্ষা দানের জন্য জেলা পরিষদ কর্তৃক শিক্ষকদের প্রশিক্ষন প্রদান করেছে যা আগামীতেও করা হবে।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সরকারের এ উন্নয়নে অনেকের চোখ জ্বালা পোড়া করছে। বিশেষ করে এখানকার আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোর। কোন প্রতিষ্ঠানে পরিষদ হতে চেয়ারম্যান বা সদস্যকে আমন্ত্রন করা হলে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের নেতারা সে প্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্মকর্তা ও অভিভাবকদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করা হয় পরিষদের কাউকে নিমন্ত্রন না জানানোর জন্য। বিষয়টি সত্যিই দুঃখজনক ও চুক্তি বিরোধী।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মামুনুর রশিদ বলেন, মানসম্মত শিক্ষা ব্যাবস্থা উপর শিক্ষকদের আরো বেশী গুরুত্ব দিতে হবে। স্কুলের কোন শিক্ষার্থী যদি এসএসসি টেষ্ট পরীক্ষায় ফলাফল খারাপ করে তার জন্য কোন সুপারিশ গ্রহণ না করারও পরামর্শ দেন তিনি। আগামীতে ভালো ফলাফলের লক্ষ্যে প্রয়োজনে শিক্ষক, অভিভাবক ও এসএমসি কমিটির সহিত মতবিনিময় সভা করা হবে।
পরে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ী স্কুলের শিক্ষার্থী, শ্রেষ্ঠ শিক্ষদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। এর আগে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।