পার্বত্য চট্টগ্রামের আর্থসামাজিক অবস্থা পরিবর্তনের জন্য অনন্য প্রতিষ্ঠান পাড়া কেন্দ্র : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলায় সমন্বিত সমাজ উন্নয়ন প্রকল্পের ৪০০০তম পাড়াকেন্দ্র উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত হয়
পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের সার্বিক উন্নয়ন সরকার হিসেবে আমাদের একটা দায়িত্ব। প্রায় ২০ বছর এ অঞ্চলের মানুষ সম্পূর্ন অবহেলিত ছিল এ অঞ্চলে কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। সেই সংঘাতপূর্ণ অবস্থা থেকে শান্তিপূর্ন অবস্থানে আসতে সক্ষম হই শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন শান্তি হচ্ছে উন্নয়নের পূর্বশর্ত। নিজের দেশের অভ্যন্তরে কোথাও কোন অশান্তি থাকুক সেটা আমরা চাইনা। স্বাধীনতার পর জাতির পিতা ৩বার পার্বত্য চট্টগ্রামে গিয়েছেন এবং পার্বত্য অঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়ন সাংস্কৃতিক উন্নয়ন সবকিছু বিবেচনা করে এ অঞ্চলকে বিশেষ গুরত্ব দিয়েছিলেন। আমরা সরকার গঠন করার পর থেকেই বিষয়টা মাথায় রেখেছি কিভাবে এ অঞ্চলের মানুষের শান্তি নিরাপত্তা এবং উন্নয়ন কার্যকর করা যায়।
এ অঞ্চলে আমরা শিক্ষাকে গুরত্ব দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় করেছি, বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন করছি, কারিগরী কলেজ করছি। পার্বত্য চট্টগ্রাম একটা বিশাল অঞ্চল সেখানে মানুষ অনেক সময় প্রশাসনিক সেবা পায়না সেটা বিবেচনা করে নতুন উপজেলা নতুন ইউনিয়ন করে দিয়েছি। বাংলাদেশ উন্নত হোক,বাংলাদেশ এগিয়ে যাক আমরা সেটাই চাই। দেশের উন্নয়ন হতে হবে সকলকে নিয়ে আলাদাভাবে উন্নয়ন কখনো হয়না, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই শান্তি চুক্তি কাজেই শান্তি চুক্তির আলোকেই এ অঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য ব্যাপক কর্মসূচী বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি এবং ইতিমধ্যে মধ্যে ঐ অঞ্চলের মানুষ যথেষ্ট সচ্চলতা অর্জন করছে। সেটাই আমাদের লক্ষ্য।
তিনি বলেন সমন্বিত সমাজ উন্নয়ন প্রকল্পটা শেষ হয়ে যাচ্ছে এবং পার্বত্য অঞ্চলের সামাজিক উন্নয়নের জন্য নতুন একটা প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। পুরাতন প্রকল্পের জনবল নতুন প্রকল্পে সম্পৃক্ত করে আরো অধিক জনবল নিয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলায় সমন্বিত সমাজ উন্নয়ন প্রকল্পের ৪০০০তম পাড়াকেন্দ্র উদ্বোধনকালে তিনি ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত হয়ে স্থানীয় জনসাধারনের সাথে কথা বলেন। প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ ইয়াছিন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে পাড়া কেন্দ্রের ছাত্রী উমেনু মারমা, উপকারভোগী মা রোজিনা আক্তার, পিসিএমসি সভাপতি আশীষ কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার, সাংসদ ঊষাতন তালুকদার এবং মহিলা সাংসদ ফিরোজা বেগম চিনু প্রধানমন্ত্রীর সাথে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী পাড়াকেন্দ্রের ৩বছর বয়সী ছাত্রী উমেনু মারমার কাছে গান শুনতে চাইলে উমেনু গান গেয়ে শোনান। প্রধানমন্ত্রীর পাড়াকেন্দ্র উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে রাঙামাটি জেলায় উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। দূরদুরান্ত থেকে অনেককে মিতিঙ্গাছড়ি পাড়াকেন্দ্রে উপস্থিত হতে দেখা গেছে।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।