পার্বত্য চুক্তির ২২ বছরে পাহাড়ে ৬ শতাধিক হত্যাকাণ্ড

পক্ষ-বিপক্ষ দলে অঘোষিত সমঝোতা, তবুও থামছেনা রক্তপাত

সবুজ পাহাড়ে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতে ২২ বছরে ঝরেছে ৬ শতাধিকের বেশী তাজা প্রাণ। একের পর এক প্রাণের বিনিময়েও যেন থামছেনা রক্তপাত। নিত্যনতুন একের পর এক হত্যাকাণ্ড ও অপহরণের ফলে চরম আতংক বিরাজ করছে পাহাড়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,আধিপত্য বিস্তার ও অর্থনৈতিক কারণে ভাঙ্গা গড়ায় এ সময়ের মধ্যে পাহাড়ী আঞ্চলিক সংগঠন হয়েছে চারটি। চুক্তির পক্ষে ও বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সৃষ্ট দলগুলোর অবস্থা এখন একই রকম। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির পর পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) সন্তু গ্রুপের কার্যক্রম ও চুক্তির বিভিন্ন ধারার বিরোধীতা করে পরের বছর পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের নামে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এর আর্বিভাব হলেও বিগত ৪ বছর ধরে অঘোষিত বোঝাপড়ার মাধ্যমে দুই পক্ষ একসাথে পার্বত্য চট্টগ্রামে রাজনৈতিক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে, মূল জেএসএস ও ইউপিডিএফ এর বিভিন্ন কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বের হয়ে আসা নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত জেএসএস এমএন লারমা ও ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকেরও রয়েছে সাংগঠনিক বোঝাপড়া। এতে করে পাহাড়ের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোর বড় যে এজেন্ডা ছিল পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ভিত্তিক তা থেকে অনেকাংশ সরে পড়ছে দলগুলোর কর্মকান্ড। নিজেদের মধ্যে এলাকা ভিত্তিক আধিপত্য বিস্তারসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েছে সংগঠন গুলো। এক সময়ের চুক্তির পক্ষ বিপক্ষ নিয়ে বড় প্রতিদ্ব›দ্বী দুই দল ও তাদের উপ-শাখা দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা আসলেও পাহাড়ে থামছেনা মৃত্যুর মিছিল।

পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, ১৯৯৮ সালে ইউপিডিএফ গঠনের পর থেকে চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত ৩১২ জন নেতাকর্মী ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতে নিহত হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের পর জেএসএস সন্তু লারমা গ্রুপের ২ শতাধিক নেতাকর্মী নিহত হয়েছে। এ ছাড়া সবশেষ ৭ জুলাই বান্দরবানের বাঘমারায় ৬ জন নেতাকর্মী সহ জেএসএস এমএন লারমার ৮৫ নেতাকর্মী নিহত হয়েছে। ২০১৭ সালে আত্মপ্রকাশের পর ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের মারা গেছে ১০ জন। এ ছাড়াও চার দলের অসংখ্য নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পঙ্গুত্ব বরণ ও নিখোঁজ রয়েছে।

এই ব্যাপারে বান্দরবান জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ইসলাম বেবী বলেন, ধারাবাহিক হত্যাকান্ডের ফলে সম্প্রিতীর এই জেলায় আতংক বিরাজ করছে, শসস্ত্র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান গ্রহন করা উচিত।

পার্বত্য চট্টগ্রামে অশান্ত পরিবেশের জন্য সন্তু লারমাকে দায়ি করে জেএসএস এমএন লারমা গ্রুপের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক সুধাকর ত্রিপুরা বলেন, সন্তু লারমার অদূরদর্শীতার কারণে পাহাড়ে স্থায়ী সমাধান আসছে না। চুক্তি বাস্তবায়নের পথে না হেটে সন্তু লারমা চুক্তির বিরোধী পক্ষ ইউপিডিএফকে নিয়ে পাহাড়ে একের পর এক হত্যাকাণ্ড চালিয়ে অস্থিরতা জিয়ে রাখছে।

অন্যদিকে ইউপিডিএফ সংগঠক অংগ্য মারমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জাতির অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে নেতৃত্ব যারা দিচ্ছেন তাদের নির্মূল করতে রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র চলছে। আর সে ষড়যন্ত্রে সামিল হয়ে কিছু দলছুট ও নীতি বিচ্যুত লোক একের পর এক হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তবে অঘোষিত সমঝোতার বিষয়ে কথা বলেননি তিনি।

আরও পড়ুন
Loading...