পার্বত্য জেলায় শিল্পায়নে অর্থমন্ত্রীকে বীর বাহাদুর এর চিঠি

দেশের বিভিন্ন জেলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হলেও ব্যাপক সম্ভবনা থাকা সত্ত্বেও তিন পার্বত্য জেলায় সরকার শিল্পায়নে তেমন কোনো নীতি গ্রহণ না করায় শিল্পায়নের উদ্দ্যেগ নিতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে চিঠি দিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে দেশের অন্য অঞ্চলের তুলনায় পিছিয়ে পড়ছে তিন পার্বত্য জেলা। বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের উদ্যোগ নিতে শিল্প স্থাপনে উদ্যোক্তাদের প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব করে সম্প্রতিক সময়ে প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে এই চিঠি প্রেরণ করেন।
বীর বাহাদুর চিঠিতে বলেন, দেশের এক দশমাংশ এলাকা নিয়ে গঠিত,বান্দরবান,রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা। বিভিন্ন দিক থেকে সম্ভবনাসময় অঞ্চল। সড়ক যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নতি হয়েছে, বিদ্যুৎ সংযোগও বেড়েছে। পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মাধ্যমে পাহাড়ের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের রফতানি খাতকে সমৃদ্ধ করা যেতে পারে। এজন্য তিনি পার্বত্য জেলায় যারা শতভাগ রফতানিমুখী শিল্প স্থাপন করবে, তাদের রফতানির বিপরীতে ভর্তুকি দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন।
তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐতিহাসিক পার্বত্য শান্তিচুক্তি সম্পাদনের পর পার্বত্য অঞ্চলে শিক্ষা,যোগাযোগ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে। দেশের রফতানি খাতকে উৎসাহিত করতে সরকার বিভিন্ন সময়ে এলাকাভিত্তিক শিল্পায়নে প্রণোদনা দিয়ে আসছে। বর্তমান সরকারের এ ইতিবাচক কর্মসূচির আওতায় তিন পার্বত্য জেলায় শিল্প স্থাপনে উদ্যোক্তাদের প্রণোদনা ও ভর্তুকি দেওয়া হলে শিল্পায়ন সম্ভব।
এই ব্যাপারে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপির এপিএস সাদেক হোসেন চৌধুরী বলেন, প্রতিমন্ত্রী মহোদয় পার্বত্য জেলায় শিল্পায়নের জন্য অর্থমন্ত্রীকে পত্র দিয়েছেন।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, পার্বত্য জেলার আয়তন ১৩ হাজার ২৯৫ বর্গ কিলোমিটার। ২৫টি উপজেলায় আদিবাসী বাঙালী মিলে প্রায় ১৬ লাখ মানুষের বসবাস। তিন জেলায় সরকারের প্রচুর পরিমাণে খাস জমি রয়েছে।মূল্যবান কাঠ ও বনজ সম্পদে পরিপূর্ণ এ অঞ্চলের ধান, গম, ভুট্টা, সরিষা, তুলা, আখ, শাকসবজি, ইত্যাদি উৎপন্ন হয়। ফলের মধ্যে উৎপাদিত হয় আম, কাঁঠাল, আনারস, কলা, পেঁপে, পেয়ারা, লেবু ও তরমুজ। এ ছাড়া সেগুন, গামারি, কড়ই, গর্জন, চাপালিশ, চম্পাফুল, জারুলের মতো মূল্যবান কাঠের উৎপাদন হয় পাহাড়ে।
এখানকার প্রশাসন ও বসবাসকারীরা মনে করেন, পর্যটন, বনজ সম্পদ, খনিজ সম্পদ, রাবার শিল্প, ফলভিত্তিক কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প এবং হস্তশিল্পে পার্বত্য জেলায় ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, তিন জেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেও গ্যাস সংযোগ না থাকায় শিল্প উন্নয়নে বাধা হয়ে দাড়িয়েছে।
আদিবাসী মেয়েরা ঘরে বসে কোমর তাঁতে কম্বল, মাফলার, চাদর ও নিজেদের পরিধেয় কাপড় তৈরি করে। শুধু পারিবারিক চাহিদা মেটানোর জন্য একসময় এর ব্যবহার ছিল। বর্তমানে এ শিল্প আয়ের উৎস হিসেবে পরিচিতি লাভ করছে, পাহাড় থেকে তাঁতের কাপড় দেশের প্রত্যান্ত এলাকায় বিক্রির জন্য যাচ্ছে। এ ছাড়া এ অঞ্চলের বাঁশ ও বেতের হস্তশিল্পও মানুষের কাছে জনপ্রিয়, সেই হিসাবে হস্তশিল্পের উন্নয়নে তেমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সরকারি যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এসব সামগ্রী রফতানির সম্ভাবনা রয়েছে।
বান্দরবানের শৈলপ্রপাতের তাতী আছিন বম বলেন, প্রয়োজনিয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে পাহাড়ের তাঁত শিল্প দেশের বাজারে আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠতো কিন্তু প্রয়োজনিয় উদ্দ্যেগ নেই।
আরো জানা গেছে, রাঙামাটিতে রয়েছে কর্ণফুলী পেপার মিল ও রাঙামাটি টেক্সটাইল মিলস। বান্দরবান জেলায় সোয়েটার ফ্যাক্টরি লুম্বিনী লিমিটেড, সাত্তার ম্যাচ ওয়ার্কসের দুটি ফ্যাক্টরি, আজিজ উদ্দিন ফ্যাক্টরি ও বাংলাদেশ বন শিল্প উম্নয়ন সংস্থার প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তবে খাগড়াছড়িতে কোন শিল্প কল কারখানা গড়ে উঠেনি। প্রতিটি জেলাতেই পর্যটন শিল্পকে কেন্দ্র করে হোটেল-মোটেলের ব্যবসা গড়ে উঠেছে।
বান্দরবান চেম্বারের পরিচালক একেএম জাহাঙ্গীর বলেন, উদ্যোক্তারা পার্বত্য জেলাগুলোতে শিল্প স্থাপনে তেমন উদ্যোগ নেননি। সরকারের উচিত এই বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা গ্রহন করা।

আরও পড়ুন
2 মন্তব্য
  1. Sabbir Ahmed বলেছেন

    বান্দরবানের জন্য বহুল প্রতিক্ষিত আশা

  2. Barrypobby বলেছেন

    Hi What we find here is , an captivatingforth
    Upstanding click

    https://drive.google.com/file/d/1McjfqpNMK4b89idwYYQ61Skw1SXeTvLI/preview

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।