পার্বত্য জেলায় সংরক্ষিত নারী আসন : মনোনয়ন পেতে সুসময়ের পাখিদের দৌঁড়ঝাপ

জাতীয় সংসদ ভবন
পার্বত্য জেলার জন্য জাতীয় সংসদে মহিলা সংরক্ষিত ৫০ নং আসনে লড়াইয়ে নেমেছেন মোট ১৭ জন নারী। এরমধ্যে সাবেক সদস্য ফিরোজা বেগম চিনুও রয়েছেন। এবারও তিনি সরকারি দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী। তাঁর সাথে পাল্লা দিয়ে খাগড়াছড়ি থেকে মহিলা আওয়ামীলীগ-এর কেন্দ্রীয় দুই নির্বাহী সদস্য ছাড়াও তিন জেলার জেলা-উপজেলা এবং এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়ের নেত্রীও দলের মনোনয়ন কেনার শখ পূরণ করেছেন। তবে এরমধ্যে বেশিরভাগ মনোনয়ন প্রত্যাশীই রাজনীতিতে সুসময়ের পাখি এবং বর্তমান সরকারের টানা দুই মেয়াদে পদ-পদবী এবং সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে অনেকটা ‘মেঘ না চাইতে বৃষ্টি’র মতো প্রাপ্তি হাতিয়ে নিয়েছেন। শুধু তাই নয়, এখন তাঁরা দলের পুরনো দু:সময়ের পরীক্ষিত নেত্রীদের ছাপিয়ে এগিয়ে চলেছেন সুসময়ের পাখিরাই।
দেশ স্বাধীনের পর থেকে বিভিন্ন সরকারের সময় রাঙামাটি ও বান্দরবান থেকে সংরক্ষিত নারী কোটায় বেশ কয়েকজন জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেলেও এখন পর্যন্ত খাগড়াছড়ি জেলা থেকে কেউ-ই নারী সংসদ সদস্য হবার সুযোগ পাননি। ফলে দলে পুরনো-নতুন মিলিয়ে খাগড়াছড়ি জেলা থেকেই সর্বোচ্চ সংখ্যক সাতজন নারী সংরক্ষিত আসনে মনোনয়নে মাঠে তৎপর হয়ে উঠেছেন।
তিন জেলার মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে সাবেক এমপি ও রাঙামাটি জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ফিরোজা বেগম চিনু, হত্যাকান্ডের শিকার রাঙামাটি জেলার প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অনিল তঞ্চগ্যার স্ত্রী শান্তনা চাকমা, খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামীলীগের নির্বাহী সদস্য শাহিনা আক্তার, বান্দরবান সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান সুচিত্রা তঞ্চগ্যা এবং খাগড়াছড়ি জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভানেত্রী ও জেলা মহিলা সংস্থা’র চেয়ারম্যান ক্রইসাঞো চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী রাজনীতিতে সক্রিয় দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।
এছাড়া রাঙামাটি জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহিতা দেওয়ান, জেলা মহিলা যুবলীগের সভাপতি শিক্ষিকা রোকেয়া আক্তার, সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক লেখিকা চাকমা এবং ফারজানা আক্তার রয়েছেন।
খাগড়াছড়ি থেকে জেলা আওয়ামীলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও পার্বত্য জেলা পরিষদের নারী সদস্য শতরুপা চাকমা, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট-এর ট্রাস্টি ও মহিলা আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য বাসন্তি চাকমা, জেলা পরিষদ সদস্য নিগাড় সুলতানা, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য অন্তরা খীসা এবং দলের নেতাকর্মীদের কাছে স্বল্প পরিচিত জিরুনা ত্রিপুরা রয়েছেন।
বান্দরবান জেলা থেকে সুচিত্রা তঞ্চগ্যা ছাড়াও জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি জাহানারা আরজু, বর্তমান সভাপতি জহুরা চৌধুরী এবং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি উজিতা বেগম রোজীও রয়েছেন নারী সংসদ সদস্য মনোনয়ন পাবার দৌঁড়ে।
তিন যুগের অধিক সময় আওয়ামীলীগের সাথে কাটিয়েছেন সাবেক এমপি ফিরোজা বেগম চিনু। বর্তমানে তিনি আবারো প্রার্থী হয়েছেন- মহিলা সংরক্ষিত আসনে এমপি হতে। এজন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।
মহিলা সংরক্ষিত আসনে এমপি হতে চান রাঙামাটির মেয়ে মোহিতা দেওয়ান। এজন্য তিনিও মনোনয়ন ফরম তুলেছেন এমপি হওয়ার আশায়।
বর্তমানে জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন মোহিতা দেওয়ান। মহিলা সংরক্ষিত আসনে এমপি হতে চান রাঙামাটির বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত আব্দুর রব ফরাজীর স্ত্রী ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা রোকেয়া আক্তার। তিনি রাঙামাটি জেলা যুব মহিলা আ’লীগের সভাপতি। বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব ফরাজী রাঙামাটির তৎকালীন স্থানীয় সরকার পরিষদের সদস্য নির্বাচিত সদস্য ছিলেন। মহিলা সংরক্ষিত আসনে এমপি হতে চান রাঙামাটির জেলা মহিলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকে লেখিকা চাকমা। তবে রাঙামাটির রাজনীতিতে ফিরোজা বেগম চিনু’র পরেই শক্তিশালী অবস্থানে আছেন শান্তনা চাকমা। তাঁর স্বামী কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্যা ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান অনিল তঞ্চগ্যা রাঙামাটির আওয়ামী রাজনীতিতে দু:সময়েও দু:সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন। তাই তিনি দুর্বৃত্তদের হাতে অকালে প্রাণ হারিয়েছেন।
খাগড়াছড়ি থেকে সংরক্ষিত আসনে এমপি পদ প্রত্যাশীদের মধ্যে কেন্দ্রীয় মহিলা লীগের সদস্য ও খাগড়াছড়ি জেলা মহিলালীগের সাধারণ সম্পাদিক শাহিনা আক্তার জানান, আমি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আস্থাশীল। তিনিই পাহাড়ে শান্তির জন্য পাহাড়ি-বাঙালি সকল সম্প্রদায়ের সহাবস্থানের নিশ্চয়তা বিধান করেছেন। দলের দু:সময়ে আমি কাজ করেছি। তিনি যাঁকেই যোগ্য মনে করবেন, আমি তাঁর নেতৃত্বেই অনুগামী হবো।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শতরূপা চাকমা বলেন, খাগড়াছড়িবাসী মানুষ আমাকে চায়। পাহড়ের সকল সম্প্রদায়ের উন্নয়নে কাজ করাসহ নারীদের অগ্রধিকার নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে আমি কাজ করবো। বাসন্তি চাকমা জানান, তিন পার্বত্য জেলায় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে খাগড়াছড়ি জেলার নারীরা নানাক্ষেত্রে বঞ্চিত হয়েছে। এ অঞ্চলের নারী সমাজের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য খাগড়াছড়ি থেকে সংরক্ষিত আসনে নেতৃত্বের দাবি খাগড়াছড়িবাসীর।
খাগড়াছড়ির মনোনয়ন প্রত্যাাশী বাসন্তি চাকমা নিজের মনোনয়নের ব্যাপারে শত ভাগ আশাবাদী দাবী করে বলেন, বিগত দিনে খাগড়াছড়িকে নারী আসন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এ কারণে খাগড়াছড়ির নারীরা অনেক পিছিয়ে রয়েছে। সংরক্ষিত নির্বাচিত হলে পাহাড়ে নারী শিক্ষায়নে বিশেষ ভূমিকা পালনের পাশাপাশি অবহেলিত ও বঞ্চিত নারীদের কর্মসংস্থানে উদ্যোগ নিবেন বলে জানান।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।