পার্বত্য জেলা থেকে হারিয়ে গেছে ২ প্রাণী ॥ বিলুপ্তির পথে ৯

peacockএক সময় বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল তিন পার্বত্য জেলার অরণ্যে ঘেরা সবুজ পাহাড় হলেও বর্তমানে মানুষের অবাধ বিচরণ, বন উজার করার ফলে পাহাড় থেকে হারিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী।
বন ও বন্যপ্রাণী নিয়ে কাজ করা ওয়ার্ল্ড লাইফ ট্রাষ্ট বাংলাদেশ এর সূত্র জানান, ২০১০ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি বন ও বন্যপ্রাণী নিয়ে বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় তাদের জরিপ চলে। পার্বত্য জেলার সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পাশাপাশি অন্য বনগুলোতে সংস্থাটির ১২ জন সেচ্ছাসেবক পাহাড়ে থাকা বিভিন্ন প্রাণীর সন্ধানে চষে বেড়ায়। স্থানীয় বন বিভাগের তৈরী করা ম্যাপ এর উপর ভিত্তি করে তারা জরিপ শেষ করে। পাহাড়ে বিভিন্ন বন্য প্রাণীর পায়ের ছাপ দেখে সনাক্ত করা হয় তাদের উপস্থিতি।

এ জরিপে বেরিয়ে আসে তিন পার্বত্য জেলা থেকে গন্ডাল, বন গরু হারিয়ে গেছে। অন্যদিকে বিলুপ্তির শেষ প্রান্তে রাম ছাগল, চিতা বাঘ, লাম চিতা বাঘ, বন গয়াল,বার্মিজ অজগর এবং রেটিকুলেটেড অজগর, সাম্বা হরিণ, রাজ ধনেশ, উল্লুখ ৯টি প্রাণী হারিয়ে যাবার তালিকায় যোগ হবে।

R1GmaiQaZVvwসংস্থাটির সূত্র আরো জানান, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার কাচালং রিজার্ভ ফরেষ্ট এবং বান্দরবান পার্বত্য জেলার সাঙ্গু ও লামা উপজেলার মাতামুহুরি রিজার্ভ ফরেষ্ট, এই দুই রিজার্ভ ফরেষ্টের উপর ভিত্তি করে তাদের জরিপ চালানো হয়। পার্বত্য জেলার বন ও বনের প্রাণীকুল রক্ষায় জরিপের চূড়ান্ত রিপোর্ট এর প্রস্তাবনা সরকারের সংশ্লিষ্টদের কাছে তুলে ধরা হয়।
এই ব্যাপারে ওয়ার্ল্ড লাইফ ট্রাষ্ট বাংলাদেশ এর এসেস্ট রিচার্জ কো-অর্ডিনেটর সুপ্রিয় চাকমা বলেন,পাহাড়ের বনজ সম্পদ ও জীববৈচিত্র রক্ষায় দেশের রাজনৈতিক সচেতনতার পাশাপাশি পার্বত্য জেলার হেডম্যান ও কারবারিদের সচেতন হতে হবে। বন্য প্রাণী হারিয়ে যাবার পেছনে প্রধান কারন হিসাবে জরিপকারীরা বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস, বনগুলো খন্ড খন্ড হয়ে যাওয়া, বন্যপ্রানী হত্যা, বাণিজ্যিক ভাবে বন আহরন, ব্যাপক ভাবে অপরিকল্পিত জুম চাষাবাদ, দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি,তামাক চাষাবাদকে চিহ্নিত করেন।
বান্দরবানের লামা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বান্দরবানের বাইশারী, ঈদগড় ও আলিক্ষ্যং মৌজা নিয়ে বন্য প্রাণীর অভয়ারন্য গড়ে তোলার জন্য একটি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরো জানান,

বন রক্ষায় উক্ত অভয়ারন্যে মানুষের বিচরন সম্পূর্ন নিষিদ্ধ করা হবে। অন্যদিকে জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলার তারাছা এলাকায় ইকোপার্ক গড়ে তোলার উদ্দ্যেগ বন বিভাগ গ্রহন করলেও বিগত আট বছরেও এই উদ্দ্যেগ আলোর মুখ দেখেনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক পরিবেশবীদ বলেন, পাহাড়ের বনজ সম্পদ ও জীব বৈচিত্র রক্ষায় সরকারের কঠোর সিদ্ধান্তের পাশাপাশি তিন বোমাং সার্কেলের রাজাদের মাধ্যমে স্থানীয় হেডম্যান ও কারবারিদের সচেতন করতে হবে। এদিকে মঙ্গলবার বান্দরবান জেলা প্রশাসন অফিসের সামনে একটি গয়াল রাখা হয় এবং গয়ালটির ছবি ও মোবাইল নাম্বার ফেসবুকে পোষ্ট দিয়ে গয়ালের মাংস ক্রয় করতে ইচ্ছুকদের যোগাযোগ করতে বলা হয়। আর এ ঘটনায় জেলার অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, রাঙ্গামাটিতে ৬ কোটি ৩০ লক্ষ ৬৬ হাজার ৫৪৩ একর, খাগড়াছড়িতে ৩ লক্ষ ৪৮ হাজার ৮৫৩ এবং বান্দরবানে ৯৯ হাজার ৩৩০ হেক্টর সরকারী ও অশ্রেণীভুক্ত ১ লক্ষ ৯৪ হাজার ২০২ হেক্টর বন কাগজে কলমে থাকলেও হয়ে পড়েছে বৃক্ষ ও বনপ্রাণী শূণ্য।

আরও পড়ুন
Loading...