পাহাড়িদের শিকারি বলা বিদ্বেষমূলক, বন ধ্বং‌সের জন্য দা‌য়ি বন‌ বিভাগ : সুপ্রদীপ চাকমা

পরিকল্পিত বনায়ন করি, সবুজ বাংলাদেশ গড়ি—এই প্রতিপাদ্য নিয়ে রাঙামাটিতে শুরু হয়েছে বৃক্ষমেলা-২০২৫। আজ শনিবার সকালে রাঙামাটি শহরের জিমনেসিয়াম মাঠে জেলা প্রশাসন ও বনবিভাগের আয়োজনে এই মেলার উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) এম এ আকমল হোসেন আজাদ, পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এস এম সাজ্জাদ হোসেন, বন সংরক্ষক মো. আবদুল আউয়াল সরকার, সিভিল সার্জন ডা. নুয়েন খীসাসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে মাঠে এসে শেষ হয়। পরে প্রধান অতিথি ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন। মেলা উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের মাঝে চারাগাছ বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অতিথিরা নার্সারি স্টল ঘুরে দেখেন। মেলাটি চলবে আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা বলেন, আশির দশকে যেসব জায়গা ছিল বনজঙ্গলে ভরা, আজ সেখানে গাড়ি চলে। বনভূমি হারিয়ে যাচ্ছে, অথচ দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ সঠিক ভূমিকা রাখছে না। বন ধ্বং‌সের জন্য দা‌য়ি বন‌বিভাগ।

NewsDetails_03

তিনি বলেন, বন বিভাগ সেগুন কাঠ রোপণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ঠিকই, তবে এর বিকল্প গাছ নির্ধারণ না করায় বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়, বাস্তবসম্মত বিকল্প বের করাও বন সংরক্ষণের অংশ, বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ জানে কীভাবে বন ও লেক ব্যবস্থাপনা করতে হয়, তাই তাদেরকে এই কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে।

এ সময় তিনি বন বিভাগের এক প্রতিবেদনে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে ‘শিকারি’ হিসেবে উপস্থাপনের সমালোচনা করে বলেন, এ ধরনের বক্তব্য বিদ্বেষমূলক। বন বিভাগের আরও দায়িত্বশীল হওয়া দরকার।

বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বনায়ন ছাড়া পরিবেশ রক্ষা সম্ভব নয়। বন শুধু পরিবেশ নয়, অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক পরিকল্পনায় বনাঞ্চল টিকিয়ে রাখতে সবাইকে সচেতন হতে হবে বলে মত দেন তারা।

আরও পড়ুন