পাহাড়ে বৈষম্য ও কোটা প্রথা ক্ষতিকর, পাহাড়ে শান্তির জন্য সংলাপের বিকল্প নেই
রাঙামাটিতে আলোচনা সভায় বক্তারা
রাঙামাটিতে অনুষ্ঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি আদ্যোপান্ত শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, পাহাড়ের সংকট সমাধানে জোরজবরদস্তি নয়, প্রয়োজন সকল সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণমূলক সংলাপ। তারা অভিযোগ করেন, অতীতে তাড়াহুড়া করে করা চুক্তি সমগ্র পার্বত্যবাসীর মতামত নিয়ে হয়নি এবং চুক্তি বাস্তবায়নে অসংগতি থাকায় “শান্তির বদলে অশান্তি বেড়েছে।
আজ শনিবার বেলা ১০টায় রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের সম্মেলন কক্ষে ডায়ালগ ফর পিস অব চিটাগং হিল ট্রাক্টস (ডিপিসি)–এর আয়োজিত পার্বত্য চট্টগ্রামে চুক্তি ৯৭ এর আদ্যোপান্ত শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভায় এসব কথা বলা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক বিশ্লেষক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) এস এম আইয়ুব।
তিনি বলেন, পাহাড়ে বৈষম্য চাই না। কোটা থাকলে তা বিভাজন সৃষ্টি করবে। ভারতীয়দের মদদে চুক্তি হয়েছে, যার ফলে একটি গোষ্ঠীর স্বার্থ ছাড়া সকল সম্প্রদায়ের সঙ্গে বেইমানি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, হানাহানি ও রক্তারক্তি দিয়ে শান্তি সম্ভব নয়, আলোচনার বিকল্প নেই। দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব বিবেচনায় সকল সম্প্রদায়কে নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. আব্দুল্লাহ আল ইউসুফ চৌধুরী বলেন, ভারতের স্বার্থরক্ষার জন্য এ চুক্তি করা হয়েছে। সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে চুক্তি হলে তার বৈধতা থাকে না। তিনি আরও সতর্ক করেন, এভাবে চলতে থাকলে বাঙালীরাও অস্ত্র হাতে নিতে পারে। চুক্তির কারণে অশান্তি বেড়েছে, শান্তি নয়।
রাঙামাটি দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর এ্যাড. প্রতিম রায় পাম্পু বলেন, চুক্তি সংবিধান অনুযায়ী হয়নি, এটি ছিল পারস্পরিক সমঝোতা। যার বৈধ জায়গা আছে– সে পাহাড়ি বা বাঙালি যেই হোক – চুক্তির সুবিধা তারই হওয়া উচিত। তিনি যুক্ত করেন, সময়ের দাবি অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামের সব আইন-চুক্তি সংশোধন ও পরিমার্জন জরুরি।

রাঙামাটি জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি এ্যাড. মিহির কুমার চাকমা বলেন, কাউকে বঞ্চনা দিয়ে কেউ সুখে থাকতে পারে না। সিদ্ধান্ত এমন হওয়া উচিত যা সকল জনগোষ্ঠীর কল্যাণে আসে।
রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার আল হক মন্তব্য করেন, তাড়াহুড়া করে চুক্তি করতে গিয়ে মূল সমস্যা থেকে দূরে সরে যাওয়া হয়েছে। সকল সম্প্রদায়ের মতামত নেওয়া উচিত ছিল।”
রাঙামাটি দায়রা জজ আদালতের জিপি এ্যাড. মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, চুক্তি শান্তির জন্য হলেও বাস্তবায়নে অসঙ্গতি রয়ে গেছে। ভূমি নিস্পত্তি আইন কার্যকর হলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার এডিটরিয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট সৈয়দ ইবনে রহমত। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল গাফ্ফার মুন্না। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন সুজন।
সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলা আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি এ্যাড. মোখতার আহমেদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম সমধিকার নেতা জাহাঙ্গীর আলম মুন্না,বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর সভাপতি নির্মল বড়ুয়া মিলন, পার্বত্য চট্টগ্রাম সমধিকার আন্দোলনের নেতা জাহাঙ্গীর কামাল, জাতীয় নাগরিক পার্টির সমন্বয়ক বিপিন জ্যোতি চাকমা, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ আইয়ুব চৌধুরীসহ আরও অনেকে।
বক্তারা বলেন, পাহাড়ের সমস্যা রাজনৈতিক ও নীতিনির্ভর। সংঘাত নয়, সমঝোতা ও আইনি কাঠামোর মাধ্যমে সকল সম্প্রদায়কে সমান মর্যাদায় রেখে সমাধান করতে হবে। ভূমি সমস্যা সমাধান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও আন্তসম্প্রদায়িক সংলাপই হতে পারে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ।



