পাহাড়ধসে ভেঙে পড়তে পারে বান্দরবানের বৌদ্ধ জাদিটি

বান্দরবান শহরের ১২৭ বছরের প্রাচীনতম বৌদ্ধ জাদিটি (চৈতি বা স্তম্ভ) যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত ১২ ও ১৩ জুন ভারী বৃষ্টিতে জাদি পাহাড়ের দুই পাশে ধসে পড়ায় বোমাং রাজবিহার প্রাঙ্গণে অবস্থিত প্যাগোডাটি বিপজ্জনক অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে।
বোমাং রাজবিহারের প্রধান উপাসক বা চ মং মারমা বলেছেন, ভাঙন রোধ করার জন্য ধসে পাহাড়ে কিছু মাটির বস্তা ফেলা হয়েছে। কিন্তু কংক্রিটের সুরক্ষা দেয়াল (রিটেইনিং ওয়াল) না দিলে বস্তা ফেলে রক্ষার চেষ্টা যথেষ্ট নয়।
জাদি এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, বোমাং রাজবিহারের পূর্ব পাশে পাহাড়ে নির্মিত প্রাচীন জাদির দুই পাশে মাটি সরে গেছে। উত্তর-পশ্চিম পাশের জাদির মূলভিত্তি (ফাউন্ডেশন) ঘেঁষে পাহাড়ের ধস নেমে সীমানা দেয়ালটিও ভেঙে গেছে। পূর্ব-দক্ষিণ পাশের টাউন হল পাড়ার দিকেও পাহাড়টি ধসে পড়েছে। ভারী বৃষ্টি হলে উভয় পাশ থেকে পাহাড়টি ভেঙে পড়বে। এতে জেলার প্রাচীনতম জাদি পড়া যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে খ্রিষ্টান মিশনের পাহাড়টিও টাউন হল পাড়া ও টাউন হলের কিছু অংশের ওপর ধসে। টাউন হল পাড়াবাসী মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছেন।
বান্দরবানের বোমাং রাজা ক্য জ সাইন প্রু চৌধুরীর আমলে ১৮৯০ সালে নির্মিত জাদির নাম অনুসারে পাহাড়ের নাম হয়েছে জাদি পাহাড়। সেখানে জাদিপাড়া নামে একটি পাড়াও হয়েছে। জাদিপাড়ার বাসিন্দা উ থোয়াই প্রু মারমা বলেছেন জাদিটি কয়েক বছর আগে সংস্কার করে নতুনের মতো করা হয়েছিল। ভারী বৃষ্টি ১৩ জুন ভোর রাতে পাহাড়টি ধসে পড়েছে। বিহার কমিটির উদ্যোগে এলাকার মানুষ ভাঙন রোধে কিছু মাটির বস্তা ফেলে দিয়েছে। একই পাড়ার মংচু মারমা বলেছেন, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মতো ১২৭ বছরের প্রাচীন জাদিটি রক্ষার জন্য সরকারিভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
রাজবিহারের প্রধান উপাসক বা চ মং মারমা বলেন, বিহার কমিটির সুরক্ষা দেয়াল নির্মাণের সামর্থ্য নেই। এ জন্য জাদি ভেঙে পড়া ও জরুরি ভিত্তিতে সুরক্ষা দেয়াল নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বান্দরবান জেলা পরিষদে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুল আবছার বলেন, প্রতিরক্ষা দেয়ালের মতো ব্যয়বহুল নির্মাণকাজ ইচ্ছে করলেও দ্রুত করা যায় না। তাঁরা খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেবেন বলে তিনি জানিয়েছেন। সূত্র: প্রথম আলো

আরও পড়ুন
1 মন্তব্য
  1. Mijan Mejbah বলেছেন

    কর্তৃপক্ষের নিকট দৃষ্টি আকর্ষন করছি।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।