পাহাড়বার্তার শুভযাত্রা: ‘আমি কান পেতে রই’- প্রদীপ চৌধুরী

গত দুদিন ধরে অবিরাম বৃষ্টিতে ভিজছে পার্বত্য চট্টগ্রামের বেশিরভাগ এলাকা। টানা বর্ষণে রাঙামাটিতে সংঘটিত ‘জুন ট্র্যাজেডী’র কারণে অতিবৃষ্টি পাহাড়বাসীদের কাছে অজানা এক আতংক হয়ে আছে। তাই আমিও কান পেতে ছিলাম.. .. .. অজানা কোন দু:সংবাদের আশংকায়। মধ্য দুপুরে এক সহকর্মীকে ফোন দিয়ে জানতে চেয়েছিলাম কোন নিউজ আছে কীনা?
অলস সময় পার করার সাথে যোগ করে নিলাম রবীন্দ্রনাথের বর্ষার গানকে। ফাঁকে একবার চোখ বুলালাম ‘পাহাড়বার্তাডটকম’-এ।
দেখেই একটু চমকে উঠলাম,শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করলো পোর্টালটি। ডিজিটাল ক্লিকের মাধ্যমে এর শুভ উদ্বোধন করেন, মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য বীর বাহাদুর উশৈসিং। অকপটে যদি বলি, তাহলে বলতে হয়; আমি খুশী হয়েছি। খুশী হবার বড়ো কারণ, এতোদিন বান্দরবান জেলায় গ্রহনযোগ্য কোন নিউজপোর্টাল ছিলো না। ‘পাহাড়বার্তাডটকম’ সে শূন্যতা পূরণ করলো, এবার পাঠকের প্রত্যাশা পূরনের চ্যালেঞ্জ শুরু।
আমি ব্যক্তিগতভাবে এই প্রতিষ্ঠানের নিউক্লিয়াস থেকে দূরবর্তী শুভাকাঙ্খী হিসেবে সংযুক্ত থাকার চেষ্টা করেছি। বিশেষত পোর্টালের সম্মানিত সম্পাদক সাদেক হোসেন চৌধুরী আমার এক যুগেরও বেশি সময়ের চেনা। বয়সের হেরফের থাকলেও ঘনিষ্ঠ বন্ধুতা রয়েছে। আর নির্বাহী সম্পাদক এস বাসু দাশ, আমার অনুজ হলেও বান্দরবান জেলার ক্রিয়েটিভ ও পরিশ্রমী সাংবাদিকদের একজন। দুই জনেরই চেতনাগত অবস্থান মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে অত্যন্ত দৃঢ় এবং সক্রিয়। এটা মহান রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে আমার কায়মনো প্রত্যাশাও।
‘পার্বত্য চট্টগ্রাম’ ঐতিহাসিক ভাবে জনবৈচিত্র-ভূরাজনীতি- প্রাকৃতিক ও বনজ সম্পদ-সাংস্কৃতিক বর্ণিলতা এবং স্বাধীনতা উত্তর সময়ে সশস্ত্র স্বাধীকার আন্দোলনের কারণে দেশে-বিদেশে বহুল চর্চিত। জ্ঞান অনুসন্ধান ও অনুশীলন এবং জ্ঞান বিনিময় ও পাচারের এক উর্বর ক্ষেত্র। সে বিবেচনায় একটি অনলাইন মিডিয়ার দায়িত্ব বহুলাংশে আর্ন্তজাতিকতাময়ও বটে।
সবকিছু ছাপিয়ে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ বৈচিত্রপূর্ন জেলা বান্দরবান। সবচেয়ে বেশি ভাষা-সংস্কৃতি ও ধর্মের লোক এখানে বসবাস করেন। সেই জেলা থেকে পরিচালিত একটি মিডিয়ার কাছে ওই জেলার সব শ্রেণি-পেশার মানুষের একটি বাড়তি চাওয়া থাকতেই পারে। এই বিশেষ দায়বদ্ধতার দায় কাঁধে নিয়েই পথ চলতে হবে ‘পাহাড়বার্তাডটকম’-কে। আমি অত্যন্ত আশাবাদী, এরিমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি সেই প্রস্তুতি শেষ করতে চলেছে।
নতুন এই পোর্টালের কাছে দেশ-বিদেশের পাঠকরা কী চান বা চাইতে পারেন? অথবা ‘পাহাড়বার্তা ডটকম’ কেমন পাঠক চান; সে প্রশ্নটির মীমাংসা বা ভারসাম্য খোঁজা জরুরী। কারণ, যে কোন ধরনের সংবাদ-ই এখন পণ্য। ডিজিটাল ভাষায় একেকটি কনটেন্ট। এখানে মানুষ নিজের কেনা ‘এমবি’ দিয়েই সংবাদ পড়বেন বা বিনোদিত হবেন। সুতরাং শুদ্ধ পাঠকের মনকে পরিশুদ্ধ করার এখতিয়ার একমাত্র কর্তৃপক্ষের। পণ্য উৎপাদন, পণ্য বিপনন, পণ্য পরিবেশনের স্টাইল ও গুণগত মানই ভোক্তাকে আকৃষ্ট করবে।
এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে খুব সচেতনভাবেই পাঠকের স্বার্থ ও চাহিদাকে মাথায় রাখতে হয়। এটি ছোট-বড়ো সব মিডিয়ার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। এবং আমি নিশ্চিতভাবে বলে দিতে পারি, ‘পাহাড়বার্তাডটকম’ সেই পথে চলতে অনেকটা প্রস্তুত।
বান্দরবান বা পৃথিবীর যে কোন প্রান্ত থেকেই সক্রিয় একটি ফেইসবুক-টুইটার-ইউটিইবার আর্ন্তজাতিক মাধ্যম-বিশ্বজনীন উন্মুক্ত। কিন্তু একটি নিউজপোর্টাল তার চেয়েও অনেক বেশী শক্তিশালী চেতনাসঞ্চারি উত্তেজনা সৃষ্টিকারী এবং অধিকন্তু সংবেদনশীল। তার চেয়েও বড়ো, বান্দরবান জেলা; দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যেই এমন একটি বহুত্বপূর্ন জনপদ, যেখানে ভাষা-সংস্কৃতি ও ধর্মীয় বিশ্বাসে ব্যাপক ভিন্নতা রয়েছে। এমনকি খাদ্যাভ্যাস-পরিধেয়-বসতি থেকে শুরু করে উৎপাদন-চাষাবাদেও বৈপরীত্য বিদ্যমান।
ফলে এ জেলার সংবাদকর্মীদের যতো সংবেদনশীলতার সাথে সংবাদ উৎপাদন এবং পণ্যায়ন করতে হয়, তা বুঝি দেশের অন্য জেলার সংবাদকর্মীদের কল্পনারও অতীত। অমাবশ্যা-পূর্ণিমার মতো এখানেও আলো-আঁধার খেলে যায় সাংবাদিকতায়। তাবৎ দুনিয়ার মতোই এখানেও সাংবাদিকতা অনেক চ্যালেঞ্জিং এবং ঝুঁকিপূর্ন। তবু জীবনের মাঝ বয়সে এসে প্রিয় ‘সাদেক হোসেন চৌধুরী’ এবং অনুজ ‘এস. বাসু দাশ’ বান্দরবানে ভিন্নমাত্রিক সাংবাদিকতার প্রত্যয়ে ‘পাহাড়বার্তাডটকম’ শুরু করেছেন।
আমি তাঁদের অগ্রযাত্রা যেমন কামনা করি, তেমনি ‘পাহাড়বার্তাডটকম’-এর প্রতি বন্ধুপ্রতিম সকল সংবাদকর্মীর উদার ভালোবাসা কামনা কামনা করছি। জয়তু ‘পাহাড়বার্তাডটকম’।

প্রদীপ চৌধুরী: সংবাদকর্মী, খাগড়াছড়ি।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।