পাহাড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী : ব্রিগে.জেনারেল মো: কামরুজ্জামান

খাগড়াছড়িতে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, এনডিসি, পিএসসি, জি।
খাগড়াছড়িতে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, এনডিসি, পিএসসি, জি।
ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার আর বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে পার্বত্য খাগড়াছড়িতে ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ১৯বছর পূর্তি উদযাপিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে গুইমারা রিজিয়নের আয়োজনে বিভিন্ন উপজেলার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, ব্যাবসায়ী ও সুশীল সমাজের অংশগ্রহণে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা গুইমারা কলেজ ক্যাম্পাস থেকে শুরু করে গুইমারা রিজিয়ন স্পোর্টস কমপ্লেক্সে গিয়ে শেষ হয়।

গুইমারা রিজিয়ন স্পোর্টস কমপ্লেক্সে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরীসহ আমন্ত্রিতদের সাথে নিয়ে শান্তির প্রতীক পায়রা ও নানা রঙয়ের বেলুন উড়িয়ে শান্তিচুক্তির ১৯ বছর পূর্তি উপলক্ষে দিনব্যাপী কর্মসুচীর উদ্বোধন করেন গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, এনডিসি, পিএসসি, জি।

পরে শান্তিচুক্তির বর্ষপূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, এনডিসি, পিএসসি, জি। অনুষ্ঠানে বিজিবি‘র গুইমারা সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল জাবেদ সুলতান, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, মাটিরাঙ্গা জোন অধিনায়ক লে. কর্নেল জিল্লুর রহমান পিএসসি-জি, সিন্দুকছড়ি জোন কমান্ডার লে. কর্ণেল রাব্বি আহমেদ ও মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বি.এম মশিউর রহমান প্রমুখ বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, এনডিসি, পিএসসি, জি বলেন, একই ছামিয়ানার নীচে, একই ব্যানারে, একই মঞ্চে পাহাড়ী-বাঙ্গালী সকলের উপস্থিতিই শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের বড় স্বীকৃতি। তিনি বলেন, একতাই বল, একতাতেই শক্তি কোন বিভেদে নয়।
নিরাপত্তাই একটি দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির বড় অংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সারাদেশের ন্যায় পার্বত্য চট্টগ্রামেও শান্তি চুক্তির মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তির ফলে পাহাড়ের উন্নয়ন হচ্ছে এবং শান্তি বিরাজ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে বর্তমান সরকারের প্রচেষ্ঠার কথা উল্লেখ করে বলেন, পাহাড়ের সংঘাতের দিন শেষ, পাহাড়ে এখন উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। সমতল থেকে দলে দলে মানুষ আসছে পাহাড়ের সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে, এখানে পর্যটন শিল্পের বিকাশ শান্তিচুক্তিরই ফসল।

শান্তিচুক্তির মাধ্যমে পাহাড়ের দীর্ঘদিনের সংঘাতময় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে উল্লেখ করে মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বি.এম মশিউর রহমান স্বরচিত কবিতার ভাষায় বলেন, ‘চাইনা হিংসা, চাইনা বিদ্বেষ, চাইনা কোন রেষারেষি, হাতে হাত ধরে আমরা সবাই চলো না দেশটারে ভালবাসি’।

আলোচনা সভায় মানিকছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান ম্্রাগ্য মারমা, লক্ষীছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান সুপারজ্যোতি চাকমা, লক্ষীছড়ি কলেজের অধ্যক্ষ টথাই প্রু মারমা, সিন্ধুকছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রেদাক মারমা, মানিকছড়ি গিরি মৈত্রী ডিগ্রী কলেজের ছাত্রী সীমা ত্রিপুরা ও শহীদ লে মুশফিক বিদ্যালয়ের ছাত্র অনিক-উজ-জামান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

শান্তিচুক্তির ১৯ বছর পূর্তি উপলক্ষে গুইমারা রিজিয়ন স্পোর্টস কমপ্লেক্সে আয়োজন করা হয়েছে দিনব্যাপী মেলা। একই স্থানে সন্ধ্যা ছ‘টা থেকে চলবে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় শিল্পী ছাড়াও চট্টগ্রাম থেকে আগত শিল্পীরা সঙ্গীত পরিবেশন করবেন।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।