পাহাড়ের প্রতিটি সমস্যার নেপথ্যে ভূমি সমস্যা : হেডম্যান ও কার্বারী সম্মেলনে বক্তারা

খাগড়াছড়ি পৌর টাউন হলে দুইদিন ব্যাপী হেডম্যান ও কার্বারী সম্মেলনে অতিথিরা
পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতিটি সমস্যার নেপথ্যে ভূমি সমস্যা। প্রথাগত ঐতিহ্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির যথাযথ অনুসরণ করা দরকার। চুক্তি মোতাবেক যদি পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোতে ভূমি প্রশাসন ব্যবস্থাপনা হস্তান্তর এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনকে কাজ করতে দেয়া তাহলে পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধান হবে। শুক্রবার বিকেলে খাগড়াছড়ি পৌর টাউন হলে দুইদিন ব্যাপী ঐতিহ্যবাহী হেডম্যান ও কার্বারী সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভারত প্রত্যাগত শরণার্থী প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসন এবং অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু ও পুনর্বাসন সম্পর্কিত টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান(প্রতিমন্ত্রী) যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা একথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম সর্ম্পকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াকিবহাল আছেন। শেখ হাসিনা শান্তি চুক্তি করেছেন উনার হাত ধরেই চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হবে। এর জন্য সময় ও সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। চুক্তির পর থেকে আওয়ামীলীগ সরকার যখনই ক্ষমতাই আসে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগোষ্ঠীদের অগ্রসর করতে বহুমুখী উন্নয়ন কর্মকান্ড গ্রহণ করছে। উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে হেডম্যান কার্বারীদের সজাগ থাকার পরামর্শ দেন। হেডম্যান কার্বারীদের জন্য সরকারি ভাতা চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরে সুপারিশ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্ক’র আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট ভবতোষ দেওয়ানের সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম এম সালাহউদ্দিন, দাতা সংস্থা ইউএনডিপি-সিএইচটিডিএফ’র উপ-পরিচালক প্রসেনজিত চাকমা, দীঘিনালা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নব কমল চাকমা, খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বিউটি রাণী ত্রিপুরা।
এর আগে শুক্রবারের প্রথম অধিবেশনে হেডম্যান কার্বারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন খাগড়াছড়ি মং সার্কেলের চীফ সাচিং প্রু চৌধুরী।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, হেডম্যান প্রতিবেদন ব্যতীত পার্বত্য চট্টগ্রাম আইন ১৯০০ অনুযায়ী কোন জায়গা জমি রেজিষ্ট্রেশন, বন্টন ও নাম পরিবর্তন করা যাবে না। এছাড়া প্রথাগত বিবাহ, জুম চাষ, ভূমি ব্যবস্থাপনার খাজনা ও জরিমানা আদায়ে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন।
দুইদিনের সম্মেলনে বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা, মৌজা বন, সামাজিক বন ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে হেডম্যান কার্বারীদের ভূমিকা রাখতে আহব্বান জানান।
বৃস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া দুইদিন ব্যাপী হেডম্যান ও কার্বারী সম্মেলনে খাগড়াছড়ির মং সার্কেল ও রাঙামাটির চাকমা সার্কেলের ১২১ মৌজা থেকে ৫ শতাধিক হেডম্যান ও কার্বারী অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।