পাহাড়ে জলকেলি

পাহাড়ে বাংলা নববর্ষ শেষ হতে না হতেই বান্দরবানে শুরু হয়েছে মারমা সম্প্রদায়ের সাংগ্রাই উৎসব বা রিলংপোয়ে। যা অন্য ভাষা-ভাষির লোকের কাছে মৈত্রী বর্ষণ, জলকেলি উৎসব বা ওয়াটার ফেস্টিভাল বলে পরিচিত। উৎসবকে ঘিরে পাহাড়ে চলছে এখন পানির উৎসব বা জলকেলি উৎসব।

মারমারা প্রথম দিনকে সাংগ্রাই আকনিয়াহ, দ্বিতীয় দিনকে সাংগ্রাই আক্রাইনিহ ও শেষ দিনকে লাছাইংতার বলে। পানিকে পবিত্রতার প্রতীক মেনে তরুণ-তরুণীরা জল ছিটান একে অপরের গাঁয়ে।

শনিবার বিকেলে বান্দরবানের স্থানীয় রাজার মাঠে ফিতা কেটে এ উৎসবের উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা।

উদ্বোধনের অপেক্ষার পালা শেষ। এবার মারমা তরুণ তরুণীরা উদ্বোধনের পরেই দুই দলে বিভক্ত হয়ে সাঁজোয়া নৌকা থেকে পানি নিয়ে একই রঙের কাপড় পরিধান করে একে অপরকে পানি ছিটাতে শুরু করেন। বাদ যায়নি মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ অনুষ্ঠানে দেখতে আসা পর্যটকরা।জলকেলি উৎসবে যোগ দিতে আসা ম্রাই সিং জানান, পানি খেলা খেলতে অনেক ভালো লাগে। আমরা একে অপরের গায়ে পানি ছিটাবো।

শুধু তরুণ-তরুণীরা আর যুবক যুবতীরাই নয় এই উৎসবে মেতে উঠেন সব বয়সের মানুষ। হাজার হাজার দর্শক এই উৎসবে ভিড় জমান। দেশি-বিদেশি পর্যটকের সমাগম মিলে এই উৎসবের।

উৎসবে ঘুড়তে আসা পর্যটক সাইফুল ইসলাম বলেন, এ রকম খেলার কথা বন্ধুদের মুখে শুনেছি। এই প্রথম দেখলাম। অনেক সুন্দর। না আসলে উপভোগ করতে পারতাম না।

স্থানীয় রাজার মাঠে এই আনন্দ সীমবদ্ধ না থেকে এই উৎসবের আনন্দ চলে যায় পাড়া মহল্লাগুলোর প্রতিটি ঘরে ঘরে।

পাড়ার ছেলে-মেয়েরা উৎসবের জন্য বাবা-মা থেকে যা সামান্য টাকা পেয়েছে তা নিয়ে সকলে মিলে ছোট ছোট যান ভাড়া করে। পরে সেই ছোট শিশুরাও খালি বোতলে পানি ভর্তি করে ছোট যান নিয়ে এদিকে ওদিক ছোটাছুটি করছে।আর কাউকে দেখলেই দল বেধে পানি ভর্তি বোতল নিয়ে ছুটে আসছেন গায়ে পানি ছিটানোর জন্য। তবে সবাইকে নয়, বিশেষ করে তরুণ-তরুণী আর যুবক-যুবতীরাই তাদের লক্ষ্য।

পাহাড়ে আনন্দ শুধু জলকেলিতেই সীমাবদ্ধ নই, আনন্দের মাত্রাকে আরেকটু বাড়িয়ে দিতে উৎসব উদযাপন কমিটি দুই দিন ব্যাপী আয়োজন করেছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিকেলে মারমারা নিজস্ব ভাষায় গান করে পুরো অনুষ্ঠান স্থলকে মাতিয়ে তুলেন।

এদিকে, পুরো অনুষ্ঠান স্থলে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুরা অনুষ্ঠানস্থলকে ঘিরে রেখেছে পুলিশ।

নিরাপত্তার কথা জানাতে গিয়ে বান্দরবানের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় বলেন, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সকল ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আমরা নিয়েছে। অনুষ্ঠানে পার্বত্যবাসীকে সাংগ্রাই উৎসবের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মন্ত্রী।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর বলেন, এটি মারমাদের উৎসব হলেও প্রত্যেক জাতি, বর্ণ নির্বিশেষে এ উৎসবে অংশগ্রহণ করেছেন। যা মহামিলনে পরিণত হয়েছে।

আরও পড়ুন
1 মন্তব্য
  1. Kyaw Sein Aung বলেছেন

    thanks

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।