পাহাড়ে পাঠাগার তৈরি করে আশার আলো দেখাচ্ছেন অপু মার্মা

পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে আলোর পথ দেখানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন অপু মার্মা নামে অনার্স পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী। খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা উপজেলার ২ নং ওয়ার্ডের বাইল্যাছড়ি পাড়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। পাঠাগারের নাম রাখা হয়েছে, “বাইল্যাছড়ি ম্রাইংমা পাঠাগার”।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষা দীক্ষার দিক থেকে অনেকটাই পিছিয়ে থাকা ঐ অঞ্চলে অপু মারমাসহ কিছু সেচ্ছাসেবীর উদ্যোগে পাঠাগারটি তৈরি করা হয়েছে। এই বছরের শুরুর দিকে ক্রার্যক্রম শুরু করলেও অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে কিছুটা থমকে যান। পরে পাড়াবাসী এবং স্থানীয় মানুষের সহযোগীতায় মে মাসে প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে পাঠাগার স্থাপন করা হয়। বর্তমানে পাঠাগারটিতে ১১ টি মতো বই রয়েছে।

এই বিষয় নিয়ে ২ নং ওয়ার্ডের মেম্বার জ্যোতি বসু ধামাই জানান, অপু মার্মাদের কার্যক্রম আমি শুনেছি। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য এমন উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তবে তারা আমাকে কেউ অবগত করেন নি।

আরো জানা গেছে, বর্তমানে শুধু বই পড়াই নয়, এই পাঠাগারটি একই সাথে মাতৃভাষা চর্চার একটা কেন্দ্র হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। বাংলা ভাষার পাশাপাশি, মারমা জনগোষ্ঠীর নিজস্ব মাতৃভাষা শিক্ষার কর্মসূচি চলছে এখানে নিয়মিত। আয়োজন করা হয় মাঝে মাঝে বিতর্ক প্রতিযোগিতাসহ নানা ধরনের শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ড। বর্তমানে ৩৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে এখানে।

স্থানীয় শিক্ষক এবং জনপ্রতিনিধি হরিপদ্ম ত্রিপুরা জানান, অপু মার্মা মাধ্যমিক স্কুলে আমার ছাত্র ছিলো। শৈশব থেকে আমি সবসময় তাকে অনুপ্রেরণা দিয়ে এসেছি। পাঠাগার স্থাপনের শুরু থেকেই আমি তাদের সাথে আছি। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে আলোর পথ দেখানোর জন্য এই রকম হাজারো অপু মার্মারা এগিয়ে আসুক। তাহলে হয়তো এই সমাজ এই দেশের চিত্র বদলে যাবে।

ম্রাইংমা পাঠাগারের মূল উদ্দ্যোক্তা অপু মার্মা জানান, তার এলাকায় তিনি আর আরো একজন ছাড়া বাকিরা ঝরে পরে গেছেন। এলাকার মানুষকে শিক্ষিত আর সচেতন করার লক্ষে তার এই প্রচেষ্টা। পাঠাগারের তৈরি করার জন্য অনেকে এগিয়ে এসেছেন। সহযোগিতা পেলে তিনি আরো বড় পাঠাগার এবং শিক্ষার কার্যক্রম করার আশা করছেন। ইতিমধ্যেই মং সার্কেল এবং মার্মা স্টুডেন্ট ফোরাম এর সহযোগিতায় এতো দুর এগিয়ে এসেছেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, অপু মার্মা বর্তমানে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে ইতিহাস বিভাগের ফাইনাল ইয়ারের শিক্ষার্থী।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।