পিলার দেখেই ৬ বছর পার

দুই প্রান্তে সেতুর সাইড গার্ডওয়াল। আর মাঝে চারটি অর্ধ নির্মিত পিলার। জলের ওপর মাথা তুলে আছে জং ধরা রড। এই দেখে দেখে ছয় বছর পার করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সেতু নয়, বরং দুই পাড়ের মানুষের জীবন আর জীবীকা চলছে এখন দুই প্রান্তে দড়িবাঁধা ভেলায়!

রাঙামাটির লংগদু উপজেলার আটারকছড়া ইউনিয়নের সোনাই হাজাছড়া থেকে পূর্ব মালাদ্বীপ গ্রামে যেতে সোনাই খালের ওপর নির্মাণকাজ ফেলে রাখা সেতুর চিত্র এমনই। ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দে ২০১৫ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু করে রাঙামাটি জেলা পরিষদের নিযুক্ত ঠিকাদার; কিন্তু দীর্ঘ ৬ বছরেও সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় জনদুর্ভোগের সাথে বাড়ছে স্থানীয়দের ক্ষোভ। ঠিকাদার বলছেন-পর্যাপ্ত অর্থ না পাওয়ায় কাজ বন্ধ আছে। তবে অগ্রাধিকার দিয়ে অসম্পূর্ণ কাজ সমাপ্ত করার কথা জানিয়েছেন রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান।

সেতুর ছাঁদ ধরে রাখার জন্য দুই সারিতে পিলার নির্মাণের নিয়ম থাকলেও সেতুটিতে দুই পাড়ে সাইড গার্ডওয়াল দিয়ে মাঝে কেবল এক সারিতেই চারটি পিলার দেখা গেছে। উন্মুক্ত থাকায় জং ধরে নষ্ট হচ্ছে সেতুর রড। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় গ্রামবাসী বাঁশের ভেলা বানিয়ে তাতে দুই পাড়ের সাথে রশি বেঁধে ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছেন খাল। আর এতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত সেতুটি নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগিরা।

সোনাই গ্রামের বাসিন্দা আবু বকর সিদ্দিক মামুন বলেন, ‘খালের পশ্চিম পাড়ে সোনাই বাজার, আর পূর্ব পাড়ে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও উপজেলা সদর। তাই দৈনন্দিন প্রয়োজনে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের অন্তত ৫ হাজার মানুষের যাতায়াত হয় এই খাল দিয়ে।

৬ বছর আগে শুরু হওয়া সেতুটির নির্মাণকাজ স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে এনে দিয়েছিল খুশি। এখন সেখানে ঠাঁই হয়েছে কেবলই হতাশা আর ক্ষোভের। গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মজিদ মাতবর বলেন, ‘যাতায়াতে অসুবিধা হচ্ছে। কেউ দেখছে না আমাদের দুর্ভোগ।’ আব্দুল মোতালেব বলেন, ‘প্রসুতি আর রোগী পারাপারে বেশি কষ্টে পড়ি।’

গৃহবধূ রোশনারা ইয়াসমিন বলেন, ‘খাল পারাপারে শিক্ষার্থী, নারী ও বয়স্করা মারাত্মক দুর্ভোগে পড়েন। সেতুটা খুব দরকার; কিন্তু কেউ তা শুনছে না।’ হাদিস মিয়া বলেন, ‘সাঁতরিয়ে খাল পার হতে গিয়ে গত ২৯ আগস্ট রাজ মাহমুদ নামে ওই গ্রামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। অথচ সেতুটি থাকলে এমন মৃত্যু দেখতে হতো না’।

পর্যাপ্ত অর্থ না পাওয়ায় কাজ বন্ধ আছে বলে দাবি করেছেন সেতুটি নির্মাণকাজের ঠিকাদার শাহ মো. নজরুল ইসলাম। বলেন, ‘সেতুটি নির্মাণের জন্য রাঙামাটি জেলা পরিষদ থেকে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। ওই টাকায় যতটা সম্ভব কাজ করেছি; কিন্তু আরও অর্থ দরকার। জেলা পরিষদে অনেকবার তদবির করেও নতুন অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় কাজ শেষ করতে পারিনি।’

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বিষয়টি আমলে নিলে জনদুর্ভোগ বন্ধ হবে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগিরা। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দা আবু তাহের বলেন, ‘মানুষ দুর্ভোগে আছে। উপজেলা চেয়ারম্যানকে অনেকবার বলেছি; কিন্তু কাজ হয়নি।’

উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান বারেক সরকার বলেন, ‘দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় সেতুর স্থাপনা নষ্ট হচ্ছে। মানুষের চলাচলে কষ্ট হচ্ছে। জেলা পরিষদকে কাজটি দ্রুত শেষ করতে বলব।’

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুইপ্রু চৌধুরী বলেন, ‘অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজগুলো অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত শেষ করার জন্য চেষ্টা করব, যাতে জনগণ উপকৃত হয়।’

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।