পুনর্বাসিত হচ্ছে পার্বত্য তিন জেলার ৮২ হাজার উদ্বাস্তু পরিবার

সরকারি অর্থায়নে পুনর্বাসনের আওতায় আসছে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান জেলার ৮২ হাজার উদ্বাস্তু পরিবার। এ জন্য এ তিন পার্বত্য জেলার ৮১ হাজার ৭৭৭ উদ্বাস্তু পরিবারের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর অনুমোদন দিয়েছে সরকার গঠিত টাস্কফোর্স। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর তাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু হবে।

মঙ্গলবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নগরের সার্কিট হাউসে আয়োজিত ‘ভারত প্রত্যাগত শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসন এবং অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু নির্দিষ্টকরণ ও পুনর্বাসন’ সংক্রান্ত টাস্কফোর্স এর ৯ম সভায় এ তালিকার অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন টাস্কফোর্সের সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা।

সভায় পুনর্বাসনের জন্য ভারত থেকে প্রত্যাগত ২১ হাজার ৯০০ শরণার্থী পরিবারের তালিকাও অনুমোদন দিয়েছে টাস্কফোর্স। এছাড়াও উদ্বাস্তু ও শরণার্থীদের ‍ঋণ মওকুফ, ফৌজদারী মামলা প্রত্যাহার, প্রত্যাগত শরণার্থীদের চাকরিতে জ্যেষ্ঠতা প্রদান, রেশন দেওয়া এবং টাস্কফোর্স সদস্যদের সম্মানি ভাতা নিয়ে আলোচনা করেন টাস্কফোর্স সদস্যরা।‍

ঋণ মওকুফের বিষয়ে টাস্কফোর্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণ চন্দ্র চাকমা সভায় জানান, উদ্বাস্তু ও শরণার্থীদের ‍ঋণ মওকুফ করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের পক্ষ থেকে ‍ঋণদাতা সোনালি ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক এবং বিআরডিবির ব্যাবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বিষয়টি অগ্রগতির পর্যায়ে রয়েছে।

উদ্বাস্তু ও শরণার্থীদের বিরুদ্ধে ৪৫১টি ফৌজদারী মামলা রয়েছে বলে সভায় জানান, খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, এসব মামলার মধ্যে ৪৪৬টি মামলা ইতোমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বাকি মামলাগুলোতে কিছু জটিলতা থাকলেও তা নিরসন করে দ্রুত প্রত্যাহার করা হবে।

প্রত্যাগত শরণার্থীরা সরকারি চাকরিতে জ্যেষ্ঠতা সুবিধা ভোগ করছেন বলে সভায় জানান অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) নুরুল আলম নিজামী। তিনি জানান, এ পর্যায়ের ২৬২ কর্মকর্তাদের মধ্যে ২৫৫ জন কর্মকর্তা জ্যেষ্ঠতা সুবিধা ভোগ করছেন।

৯ম সভা থেকে টাস্কফোর্স সদস্যদের সম্মানি ভাতা দেওয়ার কথা জানান বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান। তিনি বলেন, টাস্কফোর্স সদস্যদের সভা প্রতি সম্মানি ভাতা আমরা দেবো। তবে মাসিক সম্মানি ভাতার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে। অনুমতি পেলে সেটিও ব্যবস্থা করা হবে।

টাস্কফোর্সের সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তির সুবাতাস ছড়িয়ে দিতে সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। এখানে পাহাড়ি বা বাঙালি কোন ভেদাভেদ নেই। সবাই বাংলাদেশের নাগরিক।

তিন পার্বত্য জেলার উদ্বাস্তু ও শরণার্থীদের পুনর্বাসনে সরকার গঠিত টাস্কফোর্স আরও কার্যকর হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এ সময় উদ্বাস্তু ও শরণার্থী পরিবারের তালিকা থেকে কোনো পরিবারের নাম বাদ পড়লে তাদের দ্বিতীয় তালিকায় যোগ করা হবে বলেও জানান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা।

সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মানিক লাল বণিক, স্থানীয় সরকারের বিভাগীয় পরিচালক দীপক চক্রবর্ত্তী, রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ, খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

আরও পড়ুন
Loading...