পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা কি বললেন?

ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত বর্তমান ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা
বান্দরবানের সাবেক পৌর মেয়র ও ১৯৯৫-৯৭ সালে জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক পদে দায়িত্বে থাকা মিজানুর রহমান বিপ্লব বলেন, ছাত্রলীগ হচ্ছে অসাম্প্রদায়িক সংগঠন । ছাত্রলীগ একটি অনুভূতির নাম ।

সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ছাত্রলীগ নেতাদের উদ্দেশ্য তিনি আরো বলেন, আমাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকতে পারে, কোন্দল থাকতে পারে । আর সেটা যেন প্রতিহিংসার রূপ এবং অনুভূতি হিসেবে না নেয় । একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে আমাদের সকলকে কাজ করতে হবে ।

বান্দরবান জেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে । বুধবার দুপুরে শহরের একটি রেস্তোরায় এই পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয় । এই সময় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বর্তমান ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের মিলন মেলা ঘটে ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক চৌধুরী প্রকাশ বড়ুয়া, সাবেক আহ্বায়ক ও পৌর মেয়র মিজানুর রহমান বিপ্লব, সাবেক সভাপতি ও বর্তমান বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য লক্ষী পদ দাস, সাবেক সাধারন সম্পাদক ও বর্তমান বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য মোজাম্মেল হক বাহাদুর, সাবেক সভাপতি শামসুল ইসলাম, তৌহিদুর রহমান চৌধুরী রাশেদ, সাবেক সাধারন সম্পাদক সুজন চৌধুরী সঞ্জয় । অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কাউসার সোহাগ । অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন সাধারন সম্পাদক জনি সুশীল, পৌর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মো: ইসমাইল সহ আরো অনেকে ।

আর ছাত্রলীগ নেতাদের কর্মকাণ্ডের কথা বলতে গিয়ে বান্দরবানের জেলা পরিষদের সদস্য ও ১৯৯৮-২০০২ সালের ছাত্রলীগের সভাপতি পদে দায়িত্বে থাকা লক্ষী পদ দাস বলেন, ছাত্রলীগের নেতারা কোথাও চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী, জায়গা দখল, অন্যায়ভাবে জুলুম করেছে- এ রকম কোন প্রমাণ কেউ দিতে পারবে না । আর এটাই হল ছাত্রলীগের গর্বের বিষয় ।

ছাত্রত্বের বিষয়ে তিনি বলেন, ছাত্রলীগের যারা করে তাদের ছাত্রত্ব আছে । আর আজকে যারা ছাত্রদল করে এদের ছাত্রত্বের কোন প্রমাণ নেই ।

এ সময় তিনি বিএনপি সরকারের সময় ছাত্রলীগ নেতাদের অত্যাচারের কথা তুলে ধরেন নেতা কর্মীদের সামনে ।

আর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তৌহিদুর রহমান চৌধুরী রাশেদ বলেন, এইটা ভালো উদ্যোগ । আরো আগে করা উচিত ছিল । বারে বারে করা উচিত । ছাত্রলীগের জন্য যারা অবদান রেখেছে তাদের সাথে নতুন প্রজন্মের একটি যোগাযোগ সৃষ্টি হয়েছে ।

এছাড়াও তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরার জন্য প্রতিটি ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী’র প্রতি আহ্বান জানান ।

এছাড়াও দেশের প্রতিটা আন্দোলনে ছাত্রলীগের অবদানের ফিরিস্তি তুলে ধরে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক সুজন চৌধুরী সঞ্জয় বলেন, ছাত্রলীগের প্রতিটা আন্দোলন ছিল বুকের তাজা রক্ত দিয়ে । দেশের ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সহ প্রতিটি ক্ষেত্রে এগিয়ে এসেছিল ছাত্রলীগ । তেমনিভাবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলকে ক্ষমতায় আনতে ছাত্রলীগ নিরলসভাবে কাজ করে যাবে ।

তবে বর্তমান ছাত্রলীগকে সমৃদ্ধশীল বলে মন্তব্য করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য রবিন বাহাদুর বলেন, ছাত্রলীগ আজ সমৃদ্ধশীল । এই সমৃদ্ধশীলতাকে যদি ধরে রাখতে চাই তাহলে আমাদের সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে ।

সকল অপপ্রচার রোধ আর মাটি ও মানুষের কথা বলতে গিয়ে বান্দরবান জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কাউসার সোহাগ বলেন, বান্দরবানের প্রত্যেকটি মাটি ও মানুষের দোড় গোড়ায় আমরা যেতে চাই । আওয়ামীলীগ সরকারকে কীভাবে ক্ষমতায় আনতে পারি সে বিষয়ে ছাত্রলীগ কাজ করবে ।

এ সময় তিনি আওয়ামীলীগ সরকারের বিরুদ্ধে এবং পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুরের বিরুদ্ধে সামাজিক গণমাধ্যমে সকল অপপ্রচার রোধে একটা কমিটি গঠন করার ঘোষণা দেন ।

তবে সংগঠনবিরোধী কার্যক্রমে জড়িতে থাকার প্রমাণ দিতে পারলে পদত্যাগের ঘোষণার কথা বলতে গিয়ে জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক জনি সুশীল বলেন, বান্দরবান জেলা ছাত্রলীগ আজ অনেক বেশি সুশৃঙ্খল ও সুসংগঠিত । তা সম্ভব হয়েছে সাবেক ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের দিক নির্দেশনায় ।

তিনি আরো বলেন, যতদিন এই ছাত্রলীগের পদে অধিষ্ঠিত থাকব, ততদিন ছাত্রলীগ এবং পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুরের হাত শক্তিশালী করার জন্য ছাত্রলীগকে সুসংগঠিত করে যাব ।

এ সময় তিনি চ্যালেঞ্জ রেখে বলেন, সংগঠনবিরোধী কোন কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত থাকলে কোন ছাত্রলীগের নেতা কর্মী যদি তা দেখিয়ে দিতে পারে, সেদিন ছাত্রলীগ থেকে বিদায় নিতে এক মুহুর্তও দেরি করব না ।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।