পুর্নবাসন করা হবে বান্দরবানের ৩০০ আদিবাসী পরিবারকে

বান্দরবানের থানচি উপজেলার সাঙ্গু সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে ৩০০ পরিবারকে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার । সরিয়ে নেওয়া পরিবারগুলোর থানচির বড়মদক এলাকার আশে পাশে পুর্নবাসনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে ।
স্থানীয়রা জানায়, থানচি বড়মদকের উজানে একটি বিশাল এলাকা সাঙ্গু সংরক্ষিত বনাঞ্চল। ওই এলাকায় একমাত্র বসবাস দরিদ্র জুমিয়াদের। থানচি সদর থেকে সেখানে যাওয়ার একমাত্র উপায় ইঞ্জিনচালিত নৌকা। শুঙ্ক মৌসুমে যেতে ওইসব এলাকায় যেতে সময় লাগে প্রায় দুই দিন । আর বর্ষাকালে সাঙ্গু নদী খরস্রোতা হওয়ায় বন্ধ হয়ে যায় নৌ যোগাযোগ ।
আরো জানা যায়, থানচি সদর থেকে সীমান্তবর্তী লিক্রি দূরত্ব প্রায় ৮৫ কিলোমিটার।সাঙ্গু সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পাশে মুরংঙ্গ্য, ছোট ইয়াংবংপাড়া, বড় ইয়াংবং পাড়া, বুলু পাড়া, লিক্রিপাড়া সহ আরো ৮ থেকে ১০টি গ্রামের বসবাস । সব মিলিয়ে সাঙ্গু সংরক্ষিত বনাঞ্চলের উপর নির্ভর শীল প্রায় ১ হাজার ২শত পরিবারের বসবাস । তার মধ্যে ৮ শত পরিবার সংরক্ষিত বানঞ্চলের ভিতরেই জুম চাষ করেন ।
ম্যলেংগ এলাকার উম্যসিং জানান, জঙ্গল কেটে জুম চাষ করি । আর জুম চাষ করে সারা বছরের খাবার সংরক্ষণ করি । উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে ভালো দাম পাওয়া যায় না ।
ম্যলেংগ পাড়া এলাকার কার্বারি (গ্রাম প্রধান) থোয়াই চিং মার্মা বলেন, সাঙ্গু বনাঞ্চল থেকে অনেকে গাছ কেটে নিয়েছে । বন ধ্বংস করছে । আগের মতো জীব-জন্তু দেখা যায় না । বনের আশেপাশের লোকজন এই বনাঞ্চলে জুম চাষ ও ফলের বাগান করে খায় ।
সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পাড়াগুলো রেমাক্রি ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত । রেমাক্রি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুইশৈথুই মারমা জানান, থানচি সদর থেকে সাঙ্গু সংরক্ষিত বনাঞ্চল পর্যন্ত কোন সড়ক যোগাযোগ নেই । নৌ যোগাযোগই একমাত্র মাধ্যম । আর উৎপাদিত ফসল নৌ যোগে থানচি সদরে নিয়ে আসলে বিক্রির চেয়ে ক্ষতি হয় ৫গুণ । তাই সাঙ্গু সংরক্ষিত বনাঞ্চলের উপর নির্ভরশীল দুর্গম পাড়াগুলো ।
তিনি আরো জানান, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মহাপরিচালক (বর্তমানে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব) কবির বিন আনোয়ার এসেছিলেন এই জায়গায় । সাঙ্গু সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভিতরে চাষাবাদকারী জুমিয়াদের পুর্নবাসনের কথা বলেছেন । পুর্নবাসিতদের তালিকা করে পাঠাতে বলেছেন । এছাড়াও পুর্নবাসিত পরিবারগুলোর জন্য ঘর-বাড়ি, স্কুল, কমিউনিটি ক্লিনিক, বিশুদ্ধ পানীয় জলের সরবরাহ সহ জীবন ধারনের জন্য যা প্রয়োজন তা করে দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন আমাদেরকে ।
মুইশৈথুই মারমা বলেন, এরই মধ্যে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভিতরে জুম চাষকারীদের তালিকা করা হয়েছে । ৩০০ পরিবারকে পুর্নবাসন করার পরিকল্পনা করছে সরকার । আমরা তালিকা তৈরি করে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করব । এগুলোর ব্যবস্থা করে তালিকাভুক্তদের বড়মদক এলাকার আশে পাশে পুর্নবাসন করা হবে বলে জানিয়েছেন মহাপরিচালক কবির বিন আনোয়ার ।
লিক্রিপাড়া এলাকার হ্লামংচিং মার্মা বলেন, বনে জুম চাষ করে খায় । পুর্নবাসনে সব সুযোগ সুবিধা থাকলে যাবো । বন ধ্বংস করা ঠিক না জানি । তবে চাষ করে খেয়ে বেঁচে থাকতে তো হবে ।
বড় মদক এলাকার ইয়াংবংপাড়া এলাকার ক্যমসাইন বলেন, ঠিকমত পুর্নবাসন করলে তারা যাবে ।
যদি পুর্নবাসন করা হয় জুম চাষের উপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর পরবর্তী কর্মসংস্থান কি হতে পারে এমন প্রশ্নের উত্তরে ইউপি চেয়ারম্যান মুইশৈথুই মারমা বলেন, লিক্রি থেকে এক মণ আম নিয়ে গেলে খরচ পড়ে ৫শত টাকা । আর থানচি বাজারে ওই আম বিক্রি করতে হয় মণ প্রতি ৫শত টাকা । তাই এখানাকার পরিবারগুলোকে লং,এলাচি সহ মসলা জাতীয় চাষে উদ্বুদ্ধ করতে হবে । কারন লং এবং এলাচি ১ মণ বিক্রি করলে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পাওয়া যায়, লাভ বেশি । থানচি বাজারে নিয়ে বিক্রি করলেও তাদের ক্ষতি হবে না ।
থানচি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যহ্লাচিং মার্মা জানান, সাঙ্গু বনাঞ্চল রক্ষা করা না হলে সাঙ্গু নদীকেও রক্ষা করা যাবে না । তালিকাভুক্তদের পুর্নবাসনের পরিকল্পনা করছে সরকার ।

আরও পড়ুন
1 মন্তব্য
  1. Nazrul Islam বলেছেন

    বান্দরবা‌নে বাঙ্গালী ভিক্ষুক বাড়‌ছে, তা‌দের জন্য কি কোন প‌রিকল্পনা নাই?

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।