পূর্ণ:গঠন হলো বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ : চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা, সদস্য হলেন যারা

অবশেষে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ ফের পূর্ণ:গঠন হয়েছে। পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসাবে নিয়োগ পেয়েছে বর্তমান চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা।

পরিষদের ১৪ সদস্যের মধ্যে নিয়োগ পেয়েছে জেলা সদরের ক্যাসা প্রু, থানচি উপজেলার শৈহ্লাচিং বাশৈচিং মার্মা, আলীকদম উপজেলার দুংড়ি মং মার্মা, রোয়াংছড়ি উপজেলা থেকে কাঞ্চনজয় তংচঙ্গ্যা, সদর উপজেলা থেকে সিং ইয়ং ম্রো, জেলা শহর থেকে সত্যহা পানজি ত্রিপুরা,নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা থেকে ক্যনে ওয়ান চাক, রুমা উপজেলা থেকে জুয়েল বম, পৌর এলাকা থেকে লক্ষীপদ দাশ, ও মোজাম্মেল হক বাহাদুর,লামা উপজেলা থেকে শেখ মাহাবুবর রহমান, রোয়াংছড়ি থেকে সিংঅং খুমী, পৌর এলাকা থেকে মিজ তিংতিং ম্যা ও লামা উপজেলা থেকে ফাতেমা পারুল। সদস্যদের মধ্যে নতুন মুখ মাত্র ৪ জন।

আজ বৃহস্পতিবার ১০ ডিসেম্বর মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব সজল কান্তি বণিক স্বাক্ষরিত এক পত্রে এই তথ্য জানা যায়।

আরো জানা গেছে, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, ১৯৮৯ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন,১৯৯৭ এর ১৬ ক (৪) উপধারাএবং বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন ২০১৪ এর ৪ (২) উপধারার প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ পুনগঠন করেছে।

সূত্র জানায়, আইন অনুযায়ী জনগনের ভোটে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠন হওয়ার কথা থাকলে বিগত বিভিন্ন সরকারের সময় থেকে সরকারদলীয় লোক মনোনয়ন দিয়ে পূর্নঃগঠন হয়ে আসছে পার্বত্য জেলা পরিষদ, এবারও এর ব্যাতিক্রম হয়নি। পার্বত্য জেলা পরিষদে প্রথম ও শেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৯ সালের ২৫ জুন। এরপর আর নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। নির্বাচন অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনগণের দাবি থাকলেও সরকার তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে দলীয় লোক মনোনয়ন দিয়ে পরিচালনা করছে।

আইনে আরো বলা আছে, প্রত্যেক পরিষদে সংশ্লিষ্ট জেলার জনগণের ভোটে উপজাতিদের মধ্য থেকে ১ জন চেয়ারম্যান ও ২০ জন সদস্য, অ-উপজাতি ১০ জন এবং সংরক্ষিত তিনটি মহিলা আসনে ২ জন উপজাতি ও ১ জন অ-উপজাতি সদস্য নির্বাচিত হবেন। প্রতিটি নির্বাচিত পরিষদের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। কিন্তু গত ৩০ বছর ধরে নির্বাচন না হওয়ায় পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোতে জনগণের অংশগ্রহন নিশ্চিত হয়নি।

১৯৯৬ সালের ৫ আগস্ট নির্বাচিত তিনটি পরিষদ ভেঙে দিয়ে প্রত্যেক পরিষদে ১ জন চেয়ারম্যান ও ৪ জন সদস্য মনোনয়ন দিয়ে অন্তবর্তীকালীন পরিষদ গঠন করে আওয়ামী লীগ সরকার। পাশাপাশি ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত পার্বত্য শান্তিচুক্তির শর্তে ১৯৯৮ সালে আইন সংশোধন করে পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ থেকে ‘পার্বত্য জেলা পরিষদ’ নামে সংশোধিত হয়। এরপর আর নির্বাচন দেয়নি সরকার। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ২৫ মার্চ পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত ১ জন চেয়ারম্যানসহ সদস্য সংখ্যা ৫ থেকে ১৫-তে উন্নীত করে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন করে সরকার।

প্রসঙ্গত, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ ফের পূর্ণ:গঠন করা হবে এবং কারা হবেন তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, এসব বিষয় নিয়ে গতকাল বুধবার রাতে ২টি সংবাদ পরিবেশন করে ৩ পার্বত্য জেলা আলোচনায় আসে জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল পাহাড়বার্তা।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।