প্রকৌশলী জানেন না বরাদ্দ কত : রোয়াংছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম

বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংস্কার কাজ চলছে। আর এই কাজ নিন্মমানের হওয়ার কারনে আলোচনায় আসলেও কাজের গুনগত মান ঠিক রাখার দায়িত্বে থাকা ক্ষোদ স্বাস্থ্য বিভাগের প্রকৌশলী জানেন না কত টাকার কাজ চলছে। কাজের ঠিকাদার রোমেল বড়ুয়া ও কাজের দায়িত্ব প্রাপ্ত এই প্রকৌশলীর যোগসাজশে হাসপাতাল ও কর্মরত ডাক্তাদের ৩টি আবাসিক ভবন সংস্কারে ব্যাপক অনিয়ম ও নিন্মমানের কাজ করার অভিযোগ উঠেছে।

সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৯ সালের ১০ মার্চ হাসপাতালটি নির্মান করা হয়। রোয়াংছড়ি উপজেলার দূর্গম এলাকার বসবাসরত ১৮ হাজার মানুষের একমাত্র নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। বর্তমানে হাসপাতালের মূল ভবনসহ ডাক্তারদের ৩টি আবাসিক ভবনে ছাদের পানি চুয়ে পড়েছে। হাসপাতাল ও ৩টি আবাসিক ভবনের ছাদে পানি পড়ার ফলে সে ভবনগুলোতে মানুষের থাকা অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

আরো জানা গেছে, হাসপাতাল ও আবাসিক ভবনের একাধিক ফ্যান,লাইট,বৈদ্যুতিক লাইন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ে। হাসপাতালে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ও নিয়মিত কর্মস্থলে থাকতে সমস্যা মধ্যে পড়তে হয়। কর্মরত স্টাফ ও রোগিদের ভোগান্তি দেখে হাসপাতলের কর্তৃপক্ষ এবং স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ থেকে জরুরী ভিত্তিতে সংস্কারে উদ্যোগ নেয়া হয় ভবনগুলোকে।

আরো জানা যায়,২০১৮-২০১৯ অর্থ সালে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে হাসপাতালের মূল ভবনসহ ডাক্তারদের ৩টি আবাসিক ভবন সংস্কারে কাজে বরাদ্দের অর্থ অনুমোদন পেয়ে চট্টগ্রাম জেলাধীন পটিয়া উপজেলা নিবাসী রোমেল বড়ুয়া নামে ঠিকাদার এ কাজটি ২০১৮-২০১৯ অর্থ সালে জুনের আগে সংস্কার কাজ শুরু করেন। কাজ শুরু করা হলেও সিডিউল নিয়মানুযায়ী কাজ করা হয়নি। কাজ করার নামে ব্যাপক অনিয়ম ও অবৈধ পন্থা অবলম্বনে কারণে ২০১৮-২০১৯ অর্থ সালের জুন মাসে কাজটি শেষ করার কথা থাকলে ও নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে বর্তমানে ২০১৯-২০২০ অর্থ সালে সেপ্টেম্বর মাসে শেষ দিকে পৌঁছেছে। তারপরও সে সংস্কারে কাজ এখনো শেষ করতে পারেননি।

জানা যায়, ঠিকাদার রোমেল বড়ুয়া সংস্কার কাজের শর্তানুযায়ী কাজ না করে নিন্মমানের কাজ করেছে। ঠিকাদার রোমেল বড়ুয়া ও কাজের দেখার দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রকৌশলী মো: মোর্শেদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় ও সচেতনমহল থেকে ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে।

আরো জানা যায়,কার্য মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় দ্রুত বিল উত্তোলনে তড়িঘড়ি করে গত রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংস্কারের কাজ সমাপ্তি হয়েছে মর্মে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য বান্দরবান জেলা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে উপসহকারী প্রকৌশলী পার্থ প্রতিম দাশকে নিয়ে এসে কাজটি বুঝিয়ে দিতে চেষ্টা করেন। এতে উপসহকারী প্রকৌশলী পার্থ প্রতিম দাশ কাজ পরিদর্শন ও বুঝিয়ে নেওয়ার সময় কাজের ব্যাপক অনিয়ম ও নিন্মমানের কাজ করার বিষয় দেখতে পান।

এসময় হাসপাতালে স্টাফ ও আবাসিক ভবনে বসবাসরতরা সাথে সাথে উপসহকারী প্রকৌশলী পার্থ প্রতিম দাশকে নানা অনিয়ম ব্যাপারে অভিযোগ করেন। এছাড়া হাসপাতালের স্টোর কিপার মো: জসিমসহ একাধিক স্টাফ ঠিকাদারের দেখভাল দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার মো: জিয়া ও মিস্ত্রীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, বারবার কাজের মান নিয়ে কথা বলার পরও তারা আমাদের কথা কর্ণপাত না করে তাদের ইচ্ছায় কাজ করে চলছে। তারা আরো বলেন, সংস্কারের কাজ করছে ঠিকই, কিন্তু কাজ শেষ হতে না হতে আবার নষ্ট হয়ে গেছে।

এ বিষয়কে পার্থ প্রতিম দাশকে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে জানিয়ে দেব। তিনি আরো বলেন, সিনিয়র প্রকৌশলী মো: মোর্শেদের নির্দেশে এ কাজ দেখার জন্য এসেছি। সিনিয়র স্যারের সিদ্ধান্ত ছাড়াই কিছু করতে পারব না।

ঠিকাদার রোমেল বড়ুয়া এ ব্যাপারে বলেন, আমি এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারব না, ইঞ্জিনিয়ার যেটা বলবে সেটা হবে। স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রকৌশলী মো: মোর্শেদ এর সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সিডিউলে যা আছে, সে অনুযায়ী এ কাজটি করা হবে।

বরাদ্দের পরিমাণ ও সিডিউলে কি কি আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সিডিউল না দেখে সঠিক বলা যাবে না। এই প্রকৌশলী প্রথমে বলেন, বরাদ্দ প্রায় ২৫ থেকে ২৭ লক্ষ টাকা হতে পারে। দ্বিতীয়বার বলেন ,১৬ থেকে ১৭ লক্ষ টাকা হতে পারে। তিনি নির্দিষ্ট পরিমাণে বরাদ্দের টাকার ব্যাপারে বলেননি।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।