প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তিকারীদের বাঁচানোর চেষ্টায় আলীকদম আওয়ামী লীগ !

ভাতিজাকে রক্ষায় তৎপর সাধারণ সম্পাদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটুক্তির এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কটুক্তিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের কথা প্রতিবাদ সভায় বললেও পদক্ষেপ এড়াতে নানা তালবাহানা করেছে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলা আওয়ামী লীগের পদবীধারী শীর্ষ নেতারা। ক্ষোধ অভিযুক্ত ভাতিজাকে রক্ষায় তৎপর দলটির সাধারণ সম্পাদক, এমন অভিযোগ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ নেতাকর্মীদের।

কটুক্তিকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিলে নিজেদের স্বার্থে আঘাত ও গোমর ফাঁস হবে, এমনটায় ধারণা করছে খোদ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা। তা নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে ।

গত ১৬ ডিসেম্বর ভোর বেলা শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে মিছিল সহকারে আসার সময় উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে কটুক্তিমূলক “শেখ হাসিনা বুবুজান, বাংলা ছেড়ে ভারত যান, ভোট চোর, ভোট চোর, শেখ হাসিনা ভোট চোর এমন কিছু শ্লোগান দেন। তার একটি শ্লোগানের ভিডিও ক্লিপ ফেইসবুকে প্রকাশ করেন বিএনপির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো। এর পরপরেই আলীকদম উপজেলা আওয়ামী লীগের কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করলেও নিরব ভূমিকায় থাকেন উপজেলার শীর্ষ নেতারা।

এবিষয়ে নয়াপাড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি জয়নাল আবেদীন বলেন, এমন কটুক্তি এর আগেও বেশ কয়েকবার করেছে, বার বার আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতারা নিরবতা পালন করে আসছেন, এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনও কটুক্তিকারিদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি আওয়ামীলীগ। মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে অনেকটা এড়িয়ে চলছেন উপজেলা আওয়ামীলীগ। চার দিন পরে অনেকটা দায় এড়াতে একটি প্রতিবাদ সভা ও মিছিল করেন মাত্র।

উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শামশুল আলম বলেন,আলীকদমে বিএনপি জামায়তের নেতাকর্মীরা যে সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে তার এক বিন্দুও আওয়ামী লীগ পরিবার ভোগ করে না। আলীকদমের সব অবৈধ ব্যবসা বাণিজ্য করে বিএনপির নেতা আর এদের আশ্রয়দাতা হিসেবে আছে আওয়ামীলীগের কিছু পদবীধারী নেতারা। প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রীকে বিএনপির নেতাদের করা কটুক্তির চার দিন পরে দায় এড়ানোর জন্য ব্যানার বিহীন মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করছে আওয়ামীলীগ। আওয়ামী লীগের লিয়াজু রাজনীতি করার কারণে আলীকদম আওয়ামী লীগের এই অবস্থা।

তিনি আরও বলেন, এর আগেও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,জননেত্রী শেখ হাসিনা, আমাদের অভিভাবক বীর বাহাদুর ও সংগঠন নিয়ে বেশ কয়েকবার কটুক্তি করলেও বরাবর নিরব ছিল উপজেলা আওয়ামী লীগ। সেসময় তাদের বিরুদ্ধে উপজেলা আওয়ামী লীগ কঠোর ব্যবস্থা নিলে কখনও এভাবে কটুক্তি করার সাহস পেত না।
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা নিয়ে কটুক্তির চার দিন পর প্রতিবাদ সভাটি শুধুমাত্র লোক দেখানো ছাড়া আর কিছু নয়। বিএনপির নেতা উপজেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদের আত্মীয় ও ব্যবসায়িক অংশিদার, তাই ভূলেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা আওয়ামী লীগের এক সহ সভাপতি বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা আদর্শিক রাজনীতি করেন না। করেন নিজেদের স্বার্থের এবং লিয়াজু রাজনীতি। অনেক বিএনপি নেতা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের ভাতিজা ও জামাতা। কটুক্তিকারী তাহার ভাতিজার ব্যবসায়িক অংশীদার। ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জামাল উদ্দিনের ব্যবসায়িক অংশীদার এই জুলফিকার আলী ভুট্টো। আবার অনেক বিএনপি জামায়াতে নেতারা তাদের আর্শীবাদ তুষ্ট, ভুলেও তারা তাদের বিরাজভাজন হবেন না।’প্রধানমন্ত্রীকে কটুক্তি করলে তাদের কি? তাদেরকে তো কোন গালি দিচ্ছে না।

বান্দরবান জেলা আওয়ামীলীগের এক সদস্য বলেন, তাদের কতটা সাহস প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তি করে? আর এই সাহসের প্রধান উৎস উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খোদ নিজেই। যারা কটুক্তি করেছে তাদের একজন জুলফিকার আলী ভুট্টো, আর জুলফিকার আলী ভুট্টো উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের ভাতিজার ব্যবসায়িক পার্টনার। তাই ভাতিজার মন রাখতেই মামলার বিষয়ে এত তালবাহনা।

তিনি আরও বলেন, আলীকদম উপজেলায় বিএনপির অনেক নেতাকে সম্পদ ও ক্ষমতাশালী করেছে আওয়ামীলীগের কিছু নেতা। জামাল উদ্দিনের ইটভাটা আছে, যদি সে মামলার বাদি হয় তাহার ব্যবসার ক্ষতি হবে তাই তিনিও মামলা করতে রাজি না। এভাবে এড়িয়ে যাচ্ছে যার যার মত সবাই।

এই ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামীলীগ সাবেক সভাপতি ও সদরের চেয়ারম্যান নাছির উদ্দীন বলেন, আমি বাইরে ছিলাম, মামলার বিষয়ে জানি না, তবে উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির অভিযোগ লেখার কথা থাকলেও লেখেনি বলে শুনেছি।

‌সদ্য সাময়িক বহিষ্কৃত উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মংব্রাচিং মার্মা বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কেউ কটুক্তি করে আবার বুক ফুলিয়ে চলবে আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে এটি মেনে নিতে পারি না। ‌তিনি আরও বলেন, কেউ মামলা করতে ভয় পেলে আমাকে বলুক, আমি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তিকারীদের বিরুদ্ধে মামলার বাদি হব।

‌এই ব্যাপারে আলীকদম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দুংড়িমং মারমা বলেন, কটুক্তিকারিদের বিরুদ্ধে এখনও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, এর কোন উদ্দেশ্য কাছে কিনা, জানতে চাইলে তিনি উত্তর না দিয়ে কল কেটে দেন।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।