ফুরিয়ে আসছে সময় : জুটেনি রেশন

মাছের বংশ বিস্তারের লক্ষ্যে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে গত ১২ মে থেকে তিন মাসের জন্য মাছ আহরণ বন্ধ ঘোষণা করেছে মৎস অধিদপ্তর। যা শেষ হচ্ছে আগামী ১১ আগষ্ট মধ্যরাতে। কিন্তু মাছ আহরণ বন্ধ সময়ে পেশীজীবি জেলেদের রেশন হিসেবে খাদ্যশস্য ও নগদ অর্থ প্রদানের কথা থাকলেও এবারও তা দেয়া হয়নি খাগড়াছড়ির মহালছড়ির জেলেদের। এতে করে দুঃখ কষ্টে দিন যাচ্ছে জেলেদের, অনেকে আবার ঝ্ুঁকি নিয়ে জাল নিয়ে নামছে হ্রদে। Khagrachhari fisher crisis pic (3)-1
বাংলাদেশ মৎস উন্নয়ন করপোরেশন মহালছড়ি ঘাটের তথ্যমতে, গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে মহালছড়ি ঘাট থেকে ৫০লক্ষ ৯৬ হাজার ৮২২ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। মহালছড়ির জেলেদের তালিকা প্রণয়ন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। মহালছড়ি উপজেলার সিলেটিপাড়া, পাহাড়তলী, মনারটেক, সিঙ্গীনালা, চৌংড়াছড়ি ও মহাজনপাড়া জেলে পল্লীতে তালিকাভুক্ত ১২৬৩টি জেলে পরিবার রয়েছে। যাদের একমাত্র পেশায় মৎস আহরণ। কিন্তু বছরের তিন মাস মাছ আহরণ বন্ধ থাকায় বেকার হয়ে পড়ে তারা। এতে করে প্রতিবছরই বাড়ছে ঋণ গ্রহীতা ও সুদের হার। যার হাল ধরতে হচ্ছে পরিবারের সকলকে।
সম্প্রতি সিলেটিপাড়া গিয়ে কথা হয় সুমন আলীর সাথে। সপ্তম শ্রেণীতে পড়–য়া সুমন আলীর বাবা সুরুজ আলী পেশায় একজন জেলে। তিনমাস মাছ ধরতে না পারায় পরিবার চালাতে স্থানীয় কয়েকটি এনজিও থেকে ঋণ গ্রহণ করেছে তার পরিবার। সাপ্তাহিক কিস্তি পরিশোধ করতে আবারও অধিক মুনাফা দেয়ার শর্তে মহাজন থেকে ঋণ নেয়া হয়েছে। সে টাকা পরিশোধ কখন করতে পারবে তার কোন নির্দিষ্ট সময় জানা নেই। তাই মাছ আহরণ শুরু হলে বিদ্যালয় না গিয়ে বাবার সাথে জাল নিয়ে যাব হ্রদে। এভাবে প্রতিবছরই জড়ে পড়ছে অসংখ্য সুমন আলী। অনেকে আবার ঝুকি নিয়ে জাল নিয়ে নামছে হ্রদে। ধরা পড়লে জুটছে জরিমানা কিংবা জেল। তবুও থেমে নেই জীবন সংগ্রাম।
মহালছড়ি উপজেলা মৎস সমবায় সমিতির সভাপতি ফরিদ মিয়া জানান, এবছর ঈদে জেলেদের অনেক ঘরে চুলায় আগুন জ্বলেনি। ছেলেমেয়েরা নতুন জামা পায়নি। জাল টানা বন্ধ হওয়ায় এখানকার মানুষদের মুখের হাসিও বন্ধ হয়ে গেছে। প্রতিবছরের মতো এবছরও মৎস করপোরেশন তালিকা করছে। তার কিছুদিন পর কয়েকজনকে পরিচয়পত্র দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এখনো পর্যন্ত রেশনের খাদ্যশস্য ও টাকা হাতে পায়নি। পাব কিনাও জানিনা। তবে জাল নিয়ে হ্রদে নামলে আবারও দিতে হবে রাজস্ব।
এবিষয়ে বাংলাদেশ মৎস উন্নয়ন করপোরেশন মহালছড়ি ঘাটের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশিক ইমরান জানান, প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও তালিকা করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি কিন্তু জেলেরা এখনও রেশন পায়নি।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।