ফুলে ফুলে সেজেছে পার্বত্য জেলা বান্দরবান

পাহাড়ের প্রকৃতি পরিবেশ যেন নিজের রুপ ফিরে পেয়েছে। রাস্তার দু ধারে শোভা পাচ্ছে নানা রঙের ফুলের । বান্দরবান কেরানীহাট সড়কের পথে গেলে দেখা মিলবে পাশে অসংখ্য বৃক্ষরাজির । সেই সবুজ বৃক্ষরাজিতে এখন ফুটেছে লাল, নীল কিংবা সোনালি ফুল। সবুজ পাহাড়ের মাঝখানে ফুলগাছগুলো যে কাউকে বিমোহিত করবে। কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, অশোক, সোনালু, জারুল, চম্পা ফুল দৃষ্টি কাড়বে যে কারো।

স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও শিক্ষাবিদরা জানান, লকডাউন চলছে । দূরপাল্লার বাসগুলো বন্ধ। পর্যটনকেন্দ্রগুলোও বন্ধ। নেই কোন পর্যটকের কোলাহল । আর এই সময়টাতে প্রকৃতি সেজেছে তার আপন রুপে। সবুজ পাহাড়ের মাঝখানে কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, অশোক, সোনালু ফুল যে কাউকে বিমোহিত করবে।

বান্দরবানের সংবাদকর্মী আমিনুল ইসলাম বাচ্চু জানান, পর্যটকের সমাগম না থাকায় প্রকৃতি তার আপন রুপ ফিরে পেতে শুরু করেছে। প্রকৃতিতে এখন পশু পাখির কোলাহল, কোকিলের মিষ্টি সুর শোনা যাচ্ছে । এখন প্রকৃতিকে উপভোগ করার সময়। পাহাড়ের নদ নদী, লেক আর ঝিরি-ঝর্ণাগুলো তার প্রাণ ফিরে পেয়েছে। নদীগুলোর পানি এখন অনেক পরিস্কার পরিচ্ছন্ন। গাছগুলো নতুন নতুন পাতা আর ফুলে ফুলে শোভা পাচ্ছে, সব মিলিয়ে প্রকৃতির তার রুপ ছড়াচ্ছে অবিরাম।

বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোঃ আবদুস ছালাম জানান, কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ রোধে চলছে লকডাউন । তবে লকডাউনে জনমনে হতাশা থাকলেও আমরা অনেকটা সুফল পেয়েছি। পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে সমাগম নেই হাজারো পর্যটকদের আর পরিবেশ রক্ষার জন্য এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছে। তিনি আরো বলেন, ফুলের শহর, প্রকৃতির শহর আর সৌন্দর্য এর শহর বান্দরবানের এই রুপ ধরে রাখতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি বলেন, পার্বত্য জেলা বান্দরবানকে ফুলের শহর হিসেবে গড়ে তোলার বহুদিনের স্বপ্ন এখন বাস্তবে পরিণত হয়েছে। এ উদ্যোগ ও পরিকল্পনা জেলার সৌন্দর্যকে আরো প্রস্ফুটিত করেছে।

জেলা প্রশাসক আরো বলেন, পর্যটন শহরের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য ইতিমধ্যে রাস্তার দুই পাশে অনেক বৃক্ষ লাগানো হয়েছে, কয়েক বছরের মধ্যে গাছগুলো বেড়ে উঠলে পর্যটন শহর বান্দরবানের সৌন্দর্য্য আরো বেড়ে যাবে।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।