বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় বান্দরবানে সাংগ্রাই উৎসব শুরু

করোনার কারনে গত ২ বছর পাহাড়ের সাংগ্রাই উৎসব পালন করা না হলেও এবছর বান্দরবান পার্বত্য জেলায় জমকালো আয়োজনে শুরু হয়েছে মারমা সম্প্রদায়ের নববর্ষ বরণের প্রাণের উৎসব সাংগ্রাই। জেলার ৭টি উপজেলায় বর্ষবরণের এই উৎসবকে কেন্দ্র করে এখন সাজসাজ রব। মৈত্রী পানি বর্ষণের মাধ্যমে পুরাতন বছরকে বিদায় জানিয়ে স্বাগত জানানো হবে নতুন বছরকে।

এদিকে প্রতিবছরের মত মারমাদের সাংগ্রাইং উৎসবকে ঘিরে সকালে বান্দরবান সাংগ্রাইং উৎসব উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে জেলা শহরের রাজার মাঠ থেকে বের করা হয় বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টির সাংস্কৃতিক ইনিস্টিটিউটে গিয়ে শেষ হয়। এসময় ১১টি ক্ষুদ্র নৃ গোষ্টি সম্প্রদায় ও বাঙ্গালী সম্প্রদায়ের তরুণ তরুণীরা বৈচিত্রময় ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে ঐতিহ্যবাহী পোশাকে শোভাযাত্রায় অংশ গ্রহন করে। এসময় মারমা, চাকমা, ম্রো, ত্রিপুরা, চাকসহ ১১ টি ক্ষুদ্র নৃ গোষ্টি সম্প্রদায়ের সাথে অনেক বাঙালীও অংশগ্রহন করে।

সাংগ্রাই র‌্যালীতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বেলুন উড়িয়ে উৎসবের আনুষ্টানিক উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং। এসময় তিনি আগামীতে একটি সুখী ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ নির্মাণ আর পার্বত্য এলাকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার আহববান জানান।

পরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টির সাংস্কৃতিক ইনিস্টিটিউটে আয়োজন করা হয় এক বয়োজ্যেষ্ঠ পূজা। আর এসময় বিভিন্ন পাড়া ও গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় অনুষ্টানে বয়োজ্যেষ্ঠদের বরণ করে নেয় তরুন তরুনীরা,আর এরপরই তাদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে প্রদান করা হয় নানা রকম দানীয় বস্তু।

বান্দরবান সাংগ্রাই উৎসব উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শৈটিং ওয়াই বলেন, সাংগ্রাই উপলক্ষ্যে ১৪ তারিখ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অংশগ্রহনে মিনি ম্যারাথন দৌড়, ১৫ এপ্রিল আলোকচিত্র প্রদর্শনী, শহরের সাঙ্গু নদীর তীরে মৈত্রী পানি বর্ষণ এবং খেলাধুলা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমাদের এ উৎসবের সমাপ্তি করা হবে।

মৈত্রি পানি বর্ষন উৎসবের সময় তরুন-তরুণীরা নির্ধারিত মঞ্চে অবস্থান করে। তরুণীদের সামনে বিভিন্ন পাত্রে বা জলাধারে জল রাখা থাকে। এক একজন তরুণ একজন তরুণীর দেহে জল ছিটায়। আর ঐ তরুণীও ঐ তরুণের দেহে পাল্টা জল ছিটিয়ে তার প্রতি উত্তর দেয়। আগামী ১৫ এপ্রিল ধর্ম দেশনা শ্রবণ অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের ইতি টানা হবে।

পাহাড়ের চাকমা সম্প্রদায়রা এই উৎসবকে বিঝু, মারমা’রা সাংগ্রাই এবং ত্রিপুরারা বৈসু বা বৈসুক বলে। ত্রিপুরাদের বৈসুর (বৈ), মারমাদের সাংগ্রায়ের (সা) চাকমাদের বিঝুর (বি) থেকে “বৈসাবি”। মারমা সম্প্রদায়ের কাছে বর্ষবরণের এই উৎসব “সাংগ্রাই” নামে পরিচিত।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।