বর্তমান সরকারই নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালন করবে: ওবায়দুল কাদের

সেতু ও পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, অক্টোবর মাসে কোনও অন্তর্বর্তীকালীন বা নির্বাচনকালীন সরকার গঠন হবে না। সরকার যেটা আছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে— এই সরকারই থাকবে। তিনি বলেন, ‘সরকারের দায়িত্বে এরিয়া বদলে যাবে। মেজর দায়িত্ব থেকে সাধারণ দায়িত্ব ও রুটিন দায়িত্ব পালন করবে। হয়তো সাইজটা একটু ছোট হবে, যা অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে হতে পারে।’

রবিবার (৭ অক্টোবর) আওয়ামী লীগ ঘোষিত গণসংযোগ কর্মসূচির শেষ দিনে রাজধানীর উত্তরা আজমপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন আমির কমপ্লেক্স এলাকায় আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচন কমিশন জানুয়ারি মাসের ২৭ তারিখের আগে যে কোনও দিন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করতে পারে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘তবে এটা নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার।’

ওবায়দুল কাদের বিএনপির উদ্দেশে বলেন, ‘ক্ষমতার মঞ্চে পরিবর্তন চাইলে নির্বাচন ছাড়া কোনও বিকল্প নাই। বিএনপি ক্ষমতার পরিবর্তন চায়। দলটির নেতাদের উদ্দেশে বলবো— যত নালিশ, যত নাশকতার পরিকল্পনা করেন, যত সন্ত্রাস চালান, কোনও কাজ হবে না।’

এসময় উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপির খবর কী, আছে? অক্টোবর কবে হবে। আগস্ট মাসে বলে একমাসের কথা। সেপ্টেম্বর মাসে বলে একমাসের কথা। সেপ্টেম্বর গেল, এখন বলে একমাসের মধ্যে আন্দোলন হবে। দেশের চেহারা পরিবর্তন হয়ে যাবে। বিশ্বাস করে মানুষ, বহুরূপী ব্যারিস্টারের কথা মানুষ কি বিশ্বাস করে?’

জাতিসংঘের মহাসচিবের সঙ্গে বিএনপি মহাসচিবের সাক্ষাতের প্রসঙ্গ টেনে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জাতিসংঘের মহাসচিবের নামে এই চিঠি ভুয়া।’ যারা জাতিসংঘের মহাসচিবের নামে এদেশের মানুষের কাছে মিথ্যাচার করে, তারা ক্ষমতায় গেলে গণতন্ত্র কতটুকু নিরাপদ, এমনও প্রশ্নও রাখেন তিনি।

দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘যারা দলীয় মনোনয়নের বিরোধীতা করবেন, এবার বঙ্গবন্ধু কন্যা কাউকে ক্ষমা করবেন না। শোডাউনের নামে যারা বিশৃঙ্খলা করবে, তাদের নম্বর কাটা যাবে। কয়েকটা সংস্থা এখানে মনিটরে আছে। কারা কী করছে সব দেখছি। প্রার্থীদেরকে বলবো— সমর্থকদের থামান। না হলে ক্যাডারের জন্য কিন্তু আপনার নম্বর কমবে। যে নেতা ক্যাডারের কথায় চলে, ওই নেতার আমাদের দরকার নাই। মশারির মধ্যে মশারি চলবে না। ঘরের মধ্যে ঘর করলে চলবে না। ঠিকঠাক মতো চলেন। চাঁদাবাজদের, দখলদারদের প্রশ্রয় দেবেন না। চাঁদাবাজের জায়গা আওয়ামী লীগে নেই। তাফালিং করার পরিণতি ভালো নয়, তাফালিং ছাড়তে হবে। ক্ষমতার দাপট দেখাবেন না। ক্ষমতার অহঙ্কার মানুষ পছন্দ করে না।’ উপস্থিত সবার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যারা অপকর্ম করে আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার ধানমন্ডির অফিসে টেলিফোন করে নালিশ করবেন, আমরা বিচার করবো।’

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন— আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, একেএম এনামুল হক শামীম, দফতর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান প্রমুখ।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।