বসুন্ধরা আমাকে ২য়বার বিজয়ের স্বাদ এনে দিয়েছে : সাংবাদিক প্রিয়দর্শী বড়ুয়া

আলোকউজ্জ্বল মঞ্চে হাজারো দর্শকের সামনে দাড়িয়ে বসুন্ধরা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ২০২১ স্মারক হাতে নিয়ে প্রায় বাকরুদ্ধ বান্দরবানের লামা উপজেলার প্রবীণ সাংবাদিক প্রিয়দর্শী বড়ুয়া বলেন, অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর একবার বিজয় দেখেছি। কলম নিয়ে দীর্ঘ চার দশক যুদ্ধ করার পর মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড হাতে তুলে দিয়ে বসুন্ধরা গ্রুপ আমার জীবনে আরো একবার বিজয়ের আনন্দ এনে দিয়েছে।

দেশের শীর্ষ শিল্পগ্রুপ বসুন্ধরার আয়োজনে প্রথমবারের মত প্রবর্তিত ‘বসুন্ধরা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’ ২০২১-এ দেশের ৬৪ জেলা থেকে যে ৬৪জন প্রবীণ ও তৃণমূলের গুণী সাংবাদিককে সম্মানীত করা হয়েছে- প্রিয়দর্শী বড়ুয়া তাদেরই একজন। তবে জেলা সদরের বাইরে কোন প্রান্তিক উপজেলায় সাংবাদিকতা করে যে ক’জন অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম।

দেশের সবশেষ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা উপজেলায় সাংবাদিকতা করেন এই প্রবীণ ব্যক্তিত্ব। সাধারণতঃ রাজধানী, মহানগর ও জেলা সদরের সাংবাদিকরাই আলোচনায় উঠে আসেন। কিন্তু এবার সবাইকে ছাপিয়ে বান্দরবান জেলায় বসুন্ধরা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, স্কুল শিক্ষক ও তৃণমূলের সাংবাদিক প্রিয়দর্শী বড়ুয়া।

আমরা সবাই জানি, বসুন্ধরা গ্রুপের মিডিয়া হাউসগুলোতে কাজ করছেন দেশের প্রথিতযশা সাংবাদিকরা। নিজেদের চেয়ে অন্যদের কাজকে বড় করে দেখেন বলেই মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডের বাইরে রাখা হয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপের মিডিয়া হাউসগুলোতে নিয়োজিত সকল সাংবাদিককে। দেশের তৃণমূলের সাংবাদিকদের সম্মানীত করা যেমন একটি মহৎ উদ্যোগ, নিজেদেরকে বিবেচনার বাইরে রাখার পদক্ষেপটিও নিঃসন্দেহে সবার কাছে প্রশংসিত হবে।

প্রিয়দর্শী বড়ুয়া বলেন, জহুরীর মতই অপেক্ষাকৃত উপযুক্ত মানুষকে যে বসুন্ধরা গ্রুপ খুজে বের করতে সক্ষম হয়েছে, আজ বিশাল এই মঞ্চে আমার মত একজন প্রান্তিকজনের দাড়ানোর সুযোগটিই তার বড় প্রমান।

তিনি বলেন, একাত্তরে দেশকে স্বাধীন করার জন্য যে যুদ্ধ করেছি। তাতে আমরা সফল হয়েছি। বিশ্ব সভায় নিজেদের মাথা উচু রাখার জন্য বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা যে লড়াই শুরু করেছেন,আমাদের সবার অংশ গ্রহনে এ যুদ্ধেও আমরা বিজয়ী হবোই।

১৯৫১ সালে ১৫ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন প্রিয়দর্শী বড়ুয়া। পিতা গগণ চন্দ্র বড়ুয়া একজন শিক্ষক ছিলেন। এইচএসসি পাশ করার পর পিতার পদ অনুসরন করে ১৯৭১ সালের শুরুতে তিনি শিক্ষকতায় যোগ দেন। সেসময় বঙ্গবন্ধুর ডাকে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েন এবং মুক্তিযুদ্ধ শেষে শিক্ষকতা পেশায় ফিরে আসেন। টানা ৩২ বছর শিক্ষকতার পর ২০০৩ সালে তিনি অবসরে যান।

১৯৮২ সাল থেকে প্রিয়দর্শী বড়ুয়া স্থানীয় সাপ্তাহিক যুবরবি পত্রিকা দিয়ে তার সাংবাদিকতা পেশা শুরু করেন। এরপর স্থানীয় দৈনিক নতুন বাংলাদেশ, সাপ্তাহিক খবরের কাগজ, দৈনিক আজকের কাগজ এবং যায়যায়দিন পত্রিকায় লামা উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। বর্তমানে দৈনিক সমকাল এবং দৈনিক পূর্বকোণ-এ লামা প্রতিনিধি হিসেবে নিযুক্ত আছেন।

সাহস, মেধা ও মননশীলতা দিয়ে তিনি যেসব প্রতিবেদন তৈরি করেছেন তা কখনো কারো সমালোচনার মুখোমুখি হয়নি। একটি প্রান্তিক পাহাড়ি এলাকায় থেকে সততা ও নিষ্ঠার মধ্য দিয়ে তিনি নিজ এলাকা, জেলা এবং আশপাশের জেলা সমূহে নিজের জন্য একটি সুদৃঢ় অবস্থান তৈরি করেন। প্রকাশিত সংবাদসমূহ এলাকার উন্নয়নে অবদান রেখে আসছে। তিনি গত দেড় দশক ধরে লামা প্রেসক্লাবের সভাপতি হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন এবং তৃণমূলে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য ও সৌহার্দ্য বজায় রেখেছেন।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।