বাইশারীতে ধর্মীয় প্রতিষ্টানের নামে সরকারি শিক্ষক কাটলেন সরকারি গাছ

বাইশারীতে ধর্মীয় প্রতিষ্টানের নামে কেটে ফেলা হয় সরকারি গাছ
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের আলী মিয়া পড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মংহ্লাখ্য মার্মার বিরুদ্ধে সড়কের সরকারি গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার গভীর রাতে সড়কের গাছ কাটা হলেও স্থানীয়দের চোখে পড়েনি ওই রাত। তবে রাস্তার পার্শ্বে গাছ গুলো পড়ে থাকার কারনে মঙ্গলবার এলাকায় জানাজানি হলে উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেয় এলাকাবাসী । আর এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক নিজের প্রয়োজনে গাছগুলো কাটলেও এ ঘটনা ঢাকতে বৌদ্ধ মন্দিরের নাম ব্যবহার করেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারী অর্থায়নে সৃজিত সামাজিক বনায়নের কর্মসূচি হিসেবে ২০-৩০ বছর আগে ইউনিয়নের বাইশারী-নারিচবুনিয়া সড়ক এলাকার দুই পাশে কিছু গাছের চারা রোপন করা হয়েছিল। ওই শিক্ষক ইউনিয়নের নারিচবুনিয়া ধৈয়ারবাপের পাড়া বৌদ্ধ মন্দিরের নাম ভাঙ্গিয়ে সড়কে সৃজিত ৩টি বড় বড় আকাশমনি গাছ কেটে নিয়ে গেলেও পরক্ষণে কেহ বুঝতে পারেনি। এলাকার প্রায় লোকজন বিভিন্ন কাজে কর্মে ব্যস্ততার কারনে কেটে নেওয়ার সময় কেহ টের পায়নি।
মঙ্গলবার সড়কের পার্শ্বে পড়ে থাকা অবস্থায় লোকজন চলাফেরা করার সময় দেখতে পেয়ে প্রশাসনকে অভিযোগ দেয়। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নির্দেশে বাইশারী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই আবু মুসার ঘটনাস্থল পরির্দশন করে এবং অনুসন্ধানেও মিলেছে অভিযোগের সত্যতা। আর সড়কের গাছ কেটে নেয়ায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বন বিভাগের আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী উঠেছে এলাকাবাসীর। গাছ কেটে ফেলার বিষয়টি সত্যতা নিশ্চিত করেছেন পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের আই সি মোঃ আবু মুছা।
বৌদ্ধ মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি থোয়াইছা প্রু মার্মা জানান, সড়কের গাছ কাটার বিষয়ে কমিটি কিংবা ক্যাংয়ের সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি জানেন না। আর ধর্মীয় মন্দিরের নাম বিক্রি করা অত্যান্ত দুঃখজনক। আমরা জানি এই গাছ গুলো সরকারী লালন করা গাছ। গাছ কেটে ফেলা বিষয়টি ওই শিক্ষকের একেবারেই ব্যক্তিগত বিষয়।
এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম সরওয়ার কামাল জানান, পুলিশ উদ্ধারকৃত গা গুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিম্মায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।