বাইশারীর প্রত্যান্ত অঞ্চলে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচার

২ ইউপির ১৮টি ওয়ার্ডে টানটান উত্তেজনা

ইউপি নির্বাচনের ২য় ধাপের ভোট অনুষ্ঠিত ১১ নভেম্বর। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারীর ৯টি ওয়ার্ডে ভোট নিয়ে টানটান উত্তেজনা। উপজেলার ৫ ইউনিয়নের মধ্যে দুই ইউনিয়নের নির্বাচনী প্রচারে জমে উঠেছে পাহাড়ী এলাকার প্রত্যান্তঅঞ্চলের গ্রাম গুলোতে। ইউনিয়ন গুলো হলো বাইশারী ও দৌছড়ি ইউনিয়ন।

সরেজমিনে গিয়ে জানাযায়, ২য় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী উপজেলার বাইশারী ও দৌছড়ি ইউপি নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্ধ হয় গত ২৭ অক্টোবর। প্রার্থীরা প্রতীক পাওয়ার পর থেকে নির্ঘুম প্রচারনায় চেয়ারম্যান, মেম্বার ও মহিলা মেম্বার প্রার্থীরা। এরই মধ্যে বাইশারীতে নৌকা ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণায় চষে বেড়াচ্ছেন এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায়।

জমজমাট প্রচার ও গণসংযোগ চলছে পাহাড়ী এলাকার গ্রাম গুলোর হাটবাজারে। নির্বাচনী প্রচারণায় মুখর চায়ের আড্ডায়। করোনা মহামারীর মধ্যেও ভোটারদের বাড়ী বাড়ী ছুটছেন চেয়ারম্যান-মেম্বার প্রার্থীরা। তৃণমূলের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হওয়ায় এই নির্বাচন নিয়ে আগ্রহের শেষ নেই। প্রার্থী মনোনয়ন থেকে ভোট গ্রহণ পর্যন্ত সরকারী দলের রাজনৈতিক নেতারা এই নির্বাচন মনিটরিং করেন। এবারের ইউপি নির্বাচন বিএনপি-জামায়াত প্রার্থী না দিলেও মাঠে রয়েছেন আওয়ামীলীগ ও আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সাথে বিএনপি’র দলের একাংশ ।

তবে ভোটাররাই নির্ধারন করবেন কে হচ্ছেন আগামী বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। ভোটাররা হিসাব কষছেন কে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের বাইশারী জনগনের উপকৃত হবে। কাকে ভোট দিলে এলাকা থেকে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ নির্মুল হবে। ভোটারা আগামী ১১ নভেম্বর বেছে নেবেন তাদের যোগ্য প্রার্থীকে।

এ ক্ষেত্রে ভোটাররা বলছেন, কোন প্রার্থীকে ভোট দেবেন তার চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো অনেকে নেয়নি। সে ক্ষেত্রে ভোটারদের অধিকাংশ এখন নিরব থাকলেও ভোটের দিন ঠিকই তাদের পছন্দের প্রার্থীদের বেছে নেবেন। তবে ইউনিয়নের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী আবেদন, ভোটাররা যেন সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও শান্তি পূর্ণভাবে ভোট দিতে পারে তার জন্য প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ চান। ভোটারদের দাবি পর্যাপ্ত পরিমাণ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োগ করে ভোটের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা।

প্রার্থীরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চায়ের দোকান থেকে শুরু করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস পাড়া, রাস্তাঘাটে, বিভিন্ন হাট-বাজারে, স্কুল মাঠে সর্বত্র চলছে প্রার্থীদের জমজমাট প্রচার প্রচারণা।

ফেস্টুন, পোস্টার ব্যানারে ছেয়ে গেছে সমগ্র দুই ইউনিয়নে। এছাড়াও মাইকে বিভিন্ন ধরনের গান বাজনার মাধ্যমে চলছে জোর প্রচার প্রচারণা। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বারেরা প্রার্থীরা এ নির্বাচনকে ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এতে চেয়ারম্যান পদে ২জন ও মেম্বার পদে পুরুষ এবং মহিলাসহ অসংখ্য প্রার্থী এ নির্বাচনকে ঘিরে গণসংযোগ আর প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছে।

আওয়ামীলীগের মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যন মো: আলম কোম্পানী (নৌকা প্রতীক) তিনি নেতা কর্মীদের সাথে নিয়ে বাইশারী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করেন।

তার সর্মথকদের দাবী, এই ইউনিয়নে নারী-পুরুষের ভোটার রয়েছে প্রায় সর্বমোট ১০১১২ জন। তার মধ্যে ভোট কাস্টিং হতে পারে ৭ থেকে ৮ হাজার ভোট। প্রতিটি কেন্দ্রে নৌকার প্রতীকের ভোট এগিয়ে থাকবে। আর বাইশারীবাসী এবারও সরকারের তুলনা মূলক উন্নয়নকে প্রাধান্য দিয়ে উন্নয়নের প্রতীক নৌকাতে ভোট দিয়ে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করবে তারা।

অপর দিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিদ্রোহী) জাহাঙ্গীর আলম বাহাদুর (আনারস প্রতীক) উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চেয়ে নির্ঘুম রাত কাটিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। তার সর্মথকেরা তাদের প্রার্থীকে বিজয় করার যুক্তি দেখিয়ে বলেন, জাহাঙ্গীর আলম বাহাদুর বাইশারী আওয়ামীলীগ পরিবারের সদস্য। সে ইউনিয়ন যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। তার প্রতিদ্বন্ধি মো, আলম কোম্পানিকে আওয়ামী যুবলীগে যোগদান করান জাহাঙ্গীর আলম বাহাদুর। গত বারে আলম কোম্পানিকে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করিয়েছিলেন জাহাঙ্গীর আলম বাহাদুরসহ আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা। এবার জাহাঙ্গীর আলম বাহাদুরকে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার সুযোগ দেওয়ার দরকার ছিল। সেই সুযোগ না পাওয়াতে এলাকাবাসী দলের উপর ক্ষোব্ধ হয়ে তাকে নির্বাচন করার অনুরোধ জানালে সে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে আনাস প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের প্রচার প্রচারণা করে যাচ্ছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম বাহাদুর বলেন, আমি আশাবাদী ছিলাম নৌকা প্রতীকে প্রার্থী হবো। উপজেলা ও জেলা আওয়ামীলীগ মিলে নৌকা প্রতীকের বদলে দল থেকে বহিষ্কার পত্র ধরিয়ে দিয়েছে। এলাকাতে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয় ছিনিয়ে আনতে খুব কষ্টকর। এবার বিএনপি-জামায়াত নির্বাচনে প্রার্থী না হওয়াতে জয়ের সুযোগটা স্বতন্ত্র প্রার্থী কপালে জুটবে বলে আশাবাদী । বর্তমান সরকার উন্নয়ন মূলক কাজের অংশিদার আমিও। কারন আমি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলাম। এলাকার উন্নয়ন কাজে পিছনে আমিও তদারকির দায়িত্বে ছিলাম। উন্নয়নের শ্রম কারো একার নয়। আওয়ামীলীগ যারা করেছিলো তারাই উন্নয়নের ফসলের দাবীদার।

আগামী ১১ নভেম্বর আমার আনারস প্রতীকে ভোটাররা ভোট দিয়ে বিজয়ের মালা আমাকে পরিয়ে দেবে সেটা শত ভাগ আমি নিশ্চিত।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানা ইনচার্জ (ওসি) মো: আলমগীর হোসেন বলেন, নাইক্ষ্যংছড়ির দুই ইউনিয়নের ইউপি নির্বাচনের ভোট গ্রহন শত ভাগ সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হবে এবং সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহনের জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত।

নির্বাচনী পরিবেশের বিষয়ে রির্টানিং অফিসার আবু জাফর মো: ছালেহ বলেন,গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন করতে নির্দেশনা রয়েছে। প্রশ্নবিদ্ধ কোন নির্বাচন হোক এটা নির্বাচন কমিশন চায় না। সাধারণ ভোটাররা যাতে নিরাপদে ভোট দিতে পারেন এবং প্রার্থীরা প্রচার প্রচারণা চালাতে পারেন সে জন্য সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।