বাঘাইছড়ি হত্যাকান্ড : ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস প্রশাসনের

বাঘাইছড়ির মারিশ্যা বিজিবি জোন মাঠে নিহত পরিবারের সদস্যদের মাঝে আর্থিক অনুদান প্রদান করছে সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল এসএম মতিউর রহমান
রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে নির্বাচনী দায়িত্বরতদের ওপর সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে হতাহতদের পরিবারের সদস্যদের যোগ্যতা অনুসারে বিভিন্ন চাকরী ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। আজ বুধবার (২৭ মার্চ) দুপুরে বাঘাইছড়ির মারিশ্যা বিজিবি জোন মাঠে নিহত পরিবারের সদস্যদের মাঝে আর্থিক অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে এমন আশ্বাসের কথা শোনান সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল এসএম মতিউর রহমান।
তিনি বলেন, সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের পরিবারের সদস্যদের যোগ্যতা অনুসারে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার বাহিনীতে চাকরীর পাশাপাশি অন্যান্য সেক্টরে চাকরী ও সহায়তা দিবে সরকার।
সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে হুশিঁয়ারী ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, যারা পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে রুখে দিতে চায় তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের জিরো ট্রলারেন্স নীতি থাকবে। বাঘাইছড়ি হত্যাকান্ডসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করতে যৌথবাহিনীর অভিযান আগামী ২৯ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান বলেন, সরকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের স্বার্থ সংরক্ষণে আন্তরিক। পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন কর্মকান্ড ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের লোকজনের শিক্ষার প্রসারে স্ব স্ব মাতৃভাষায় শিক্ষা কার্যক্রম গ্রহণ যার উদাহরণ। তবুও কুচক্রী মহল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের নাম ভাঙ্গিয়ে পাহাড়ে বসবাসরত মানুষদের জিম্মি করে রাখছে। চাঁদাবাজি ও আধিপত্য ধরে রাখা ছাড়া আঞ্চলিক সংগঠনগুলো সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কোন অবদান রাখতে পারছে না। পাহাড়ের উন্নয়ন ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে তিনি সকলের সহযোগীতা কামনা করেন। যারা সাধারণ মানুষ মেরে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখার চেষ্টা করছে তাদের আর সরকার বরদাস্ত করবে না বলেও হুশিঁয়ারী ইঙ্গিত করেন।
আর্থিক অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নের অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হামিদুল হক, রাঙামাটির জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ, খাগড়াছড়ি বিজিবি’র সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল গাজী মুহাম্মদ সাজ্জাদ, রাঙামাটির পুলিশ সুপার আলমগীর কবির, খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামান অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।
এরআগে, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ও চট্টগ্রাম ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি সহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বাঘাইছড়ি-দীঘিনালা সড়কের বটতলা এলাকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
গত ১৮ মার্চ রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় পঞ্চম উপজেলা পরিষদের দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ শেষে নির্বাচনী সরঞ্জাম ও সংশ্লিষ্টরা ফেরার পথে বাঘাইছড়ির সাড়ে এগারকিলোমিটার এলাকার বটতলা এলাকায় সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারসহ ৭ জন নিহত ও ২৯ জন আহত হয়।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।