বাঙ্গালহালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবন নির্মানের স্থান নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

বাঙ্গালহালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ভবন নির্মানের জন্য নির্ধারিত জায়গা পরিমাপের একাংশ
রাঙ্গামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মানের জায়গা নিয়ে গত চার দিন ধরে চলছে পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ। ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্তে ভবন নির্মানের স্বার্থে ১২টি মেহগনি গাছ কেটে নিলামের মাধ্যমে বিক্রয় করেছেন বলে বিদ্যালয় সুত্রে জানা গেছে। এই বিষয়টি নিয়ে এলাবাসির পক্ষ থেকে পুলক বড়ুয়া, আদুমং মারমা, নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করছেন।
অভিযোগে বলা হয়, বিদ্যালয়ে রোপনকৃত গাছ সরকারি অনুমতি ছাড়া গোপনে বিক্রয় করে ফেলেছে এবং বাঙ্গালহালিয়া ঐতিহ্যবাহী একমাত্র খেলার মাঠ দখল করে নতুন ভবন নির্মান করার পরিকল্পনা করছেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আখ্যাইমং চৌধুরী বলেন, ১৯৭৩ সালে বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। বিদ্যালয়ে ৩.৭১ একর রয়েছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ১১৫৫ জন ছাত্র- ছাত্রী অধ্যায়নরত। কিন্তুু শ্রেণি কক্ষের পর্যাপ্ত অভাব রয়েছে। ক্লাশে গাধা-গাধি করে বসতে হয়, যা বাস্তবে না দেখলে বিশ্বাস করা বড় দায়। দীর্ঘ দিনের আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকার শিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমে একটি ৪তলা বিশিষ্ট ৪০ফুট প্রস্ত আর ১০০ফুট দৈর্ঘ্য একটি ভবন বরাদ্দ হয়েছে। গত ৫ দিন আগে রাঙ্গামাটি শিক্ষা বিভাগের ইঞ্জিনিয়ার এসে বিদ্যালয়ের চার পাশ জায়গা মাপ-ঝোপ করে দেখেন কোন স্থানে এতো বড় জায়গা না পেয়ে বিদ্যালয়ে সদ্য সংস্কার করা শ্রেনী কক্ষের সামনের জায়গায় ভবনটি নির্মানের জন্য জায়গা পছন্দ করেছেন। জায়গার সয়েল টেস্টও করে নিয়ে গেছেন।
আরো জানা গেছে, উক্ত জায়গা ভবন নির্মান করতে গেলে ১২টি মেহগুনি গাছ কাটতে হয়, সেগুলি ম্যানেজিং কমিটির সিদ্দান্ত ক্রমে নিলামে ২৫ হাজার টাকা বিক্রয় করে দেয়। নিলামের টাকা গুলো বিদ্যালয়ের একাউন্টে জমা রাখা হয়েছে। পুলক বড়ুয়া বলেন, কোন প্রকার অনুমতি না নিয়ে কিভাবে সরকারি প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটতে পাড়ে এবং বাঙ্গালহালিয়া এলাকার ক্রীড়ামোদিদের খেলার মতো একটি মাত্র মাঠ রয়েছে সেটির একটি অংশ দখল করে যদি ভবন নির্মান করা হয় তাহলে খেলোয়াড়রা বিনোদনের মন মানসিকতা হারিয়ে ফেলবে মনে করেন।
বাঙ্গালহালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ঞোমং মারমা বলেন, এক গোয়ামী করে কোন কাজ করলে তো সমস্যা সৃষ্টি তো হবেই। বিদ্যালয়ের সৌন্দর্য্যরে জন্য গাছ লাগানো হয়েছে, সেগুলে অনুমতি বিহীন ইচ্ছামত কেটে ফেলতে পারেনা ভবন নির্মান হউক সেটি আমরা সকলে চাই, কিন্তু একটি বৃহত্তর স্বার্থ নষ্ট করে নয়। বিদ্যালয়ে পিছনে তো অনেক জায়গা রয়েছে সেখানে ভবন নির্মান করতে পারেন।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান থোয়াইসুইখই মারমা বলেন, বিদ্যালয়ের জায়গায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মান করার সিদ্ধান্ত পরিচালনা কমিটির এখতেয়ার। রাঙ্গামাটি জেলা শিক্ষা বিভাগের ইঞ্জিনিয়ারের বার বার তাগিদের ফলে ভবন টি নির্মানের জন্য কমিটির রেজুলেশনের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের নিজস্ব খালী জায়গা ভবনের জন্য সিলেকশন করা হয়, সেখানকার গাছ গুলো নিলামের মাধ্যমে বিক্রয় করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের খালীয় জায়গায় বিদ্যালয়ের ভবন নির্মান হবে এতে তাদের অসুবিধা কোথায়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, গাছ কাটার বিষয়ে আমাকে কেউ কিছু অবহিত করেনি, আর বিদ্যালয়ে ভবন নির্মানের সিদ্ধান্ত ম্যানেজিং কমিটির এখতেয়ারে রয়েছে। তবে এলাকাবাসীর দেওয়া একটি লিখিত অভিযোগ তদন্তের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমাকে নির্দেশ দিয়ে একটি চিঠি দিয়েছেন।
রাজস্থলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মুশফিকুর রহমান এর সাথে আলাপ কালে তিনি বলেন, বাঙ্গালহালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে দুইটি অভিযোগ এনে আমার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। সেটি তদন্তের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও রাইখালি রেঞ্জ অফিসারকে চিটি পাঠানো হয়েছে।
বাঙ্গালহালিয়া স্টেশন কর্মকতা রেজাউল করিম এর সাথে আলাপ কালে তিনি বলেন নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশ মোতাবেক বিদ্যালয়ের সদ্য কর্তিত গাছ গুলো মাপ-ঝোপ করা হয়েছে। সিজার লিস্ট নির্বাহী অফিসারে নিকট প্রেরন করা হবে।
এদিকে গত ৩ দিনে বাঙ্গালহালিয়া এলাকা গুরে যতটুকু বোঝা যায় বাঙ্গালহালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ ও গাছ কাটার বিষয় নিয়ে যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে সেটি দ্রুত সমাধান করা না গেলে এলাকায় একটি বড় ধরনের সংঘর্ষ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে বলে এলাকাবাসি জানায়।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।